১৫’শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদ পালন করা হতো।

১৫’শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদ পালন করা হতো।

১৫’শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হতো।
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় এই আমল এত ব্যাপকভাবে পালন হতো যে বাদশা মালেক মুজাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চাইতেও বেশি রাজকীয়ভাবে সেটাই মনে হয়।

বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত “বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস” বইয়ের ২য় খন্ডে ১৯৭ পৃষ্ঠায় তাকালে আমরা দেখতে পাই,
১) বাংলার মুসলমানগন অত্যান্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে ও ধুমধামের সাথে ঈদে মীলাদ পালন করতো।
২) নবাব এ দিনকে বিশেষ উৎসবের দিনে হিসাবে পালনের ব্যবস্থা করেন।
৩) রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম ১২ দিন পালনের ব্যবস্থা করেন।
৪) এ উপলক্ষে তিনি সম্পূর্ণ মুর্শিদাবাদ শহর ও পর্শ্ববর্তী এলাকা আলোকমালায় সজ্জিত করতেন।
৫) ১ লক্ষ মানুষ শুধু আলোক সজ্জার কাজে নিয়োজিত থাকতেন।
৬) কামান গর্জনের মাধ্যমে সড়ক ও নদীপথ আলোকিত হয়ে উঠতো।
৭) মুসলমান শাষনকর্তাগন ও জনসাধারনগন এই উপমাহাদেশব্যাপী ঈদে মীলাদ পালন করতো।
৮) আওলাদে রসূল ও আলেমদের উপহার দেয়া হতো।
৯) রাজ প্রসাধে রবিউল আউয়াল শরীফ মাসের ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত উলামায়ে কিরাম উনাদের মজলিস হতো।
১০) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাদীছ শরীফ আলোচনা করতেন।

উপরোক্ত ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয়, সেসময় এই্ উপমহাদেশে এত সমৃদ্ধশালী ছিলো তার মূল কারন ছিলো এত মর্যাদার সাথে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসময় ১ টাকায় ৮মন চাল পাওয়া যেত। মানুষের কোন অভাব ছিলো না। মানুষজন সুখী ও সমৃদ্ধ ছিলো।

আর আজকে মানুষ এত আযাবে আছে তার কারন কি? কারন হচ্ছে ব্রিটিশরা যাওয়ার সময় ওহাবী মতবাদ রেখে গেছে ঈমান ধ্বংস করার জন্য। তারা এখন পবিত্র এই আমলকে বিদয়াত হারাম ফতোয়া দেয়। নাউযুবিল্লাহ।
মানুষ যদি আবার সেই সমৃদ্ধ অর্জন করতে চায় তাহলে আবারো ঈদে মীলাদ পালন করতে হবে

বিস্তারিত

ব্রিটিশ আমলেও কত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

দেখুন ঢাকায় ব্রিটিশ আমলেও কত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
১) পথঘাট সাজানো হতো
২) সারা শহরে ঘটা করে পালন হতো।
৩) মহল্লায় মহল্লায় মীলাদ মাহফিল ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করতো।
৪) নবাব পরিবারগুলোও মীলাদ মাহফিল করতো।
৫) বিশেষ প্রতিযোগিতা মাহফিল আয়োজন করা হতো।
৬) অসংখ্য মানুষ এ অনুষ্ঠান দেখতে আসতো।

(তথ্যসূত্র: এই ঢাকা সেই ঢাকা কত স্মৃতি কত কথা। লেখক- ড. মুহম্মদ আলমগীর)

আজ থেকে ১০০/১৫০ বছর আগেও এত জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো তাহলে বর্তমানে এত বিরোধিতা কেন?
বর্ণনায় বোঝা যায় রোজার ঈদের চাইতেও বেশি আনন্দ ও আয়োজন হতো ১২ রবিউল আউয়াল শরীফে সে সময়। আর আজ বিদয়াত হারাম ফতোয়াবাজী হয় !!!
মূলত যা প্রমাণ হয় সেটা হচ্ছে, তখনও ওহাবী মতবাদের শিকড় এত দৃঢ় ভাবে স্থাপিত হয়নি। পুরো দুনিয়াতেই পালিত হয়েছে কেউ বিরোধিতা করে নি। ব্রিটিশরা যে মতবাদের বীজ বপন করে গেছে সেই ওহাবী মতবাদ আজ ডাল পালা মেলে বট বৃক্ষ রূপে বিস্তার লাভ করেছে। করছে বিরোধিতা....
আর বাঙালিও নিজেদের সাংস্কৃতি (মীলাদ, কিয়াম) ভুলে পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাস্ট নাইট, ভ্যালেন্টাইন ডে, বিভিন্ন পুজায় গিয়ে মশগুল হয়েছে ।
আফসোস আমাদের জন্য......!

বিস্তারিত

ঈদে মিলাদে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা বিশ্বে সবছেয়ে বেশি মানুষ বিশেষ গুরুত্বের সাথ পালন করে থাকে।

ঈদে মিলাদে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা বিশ্বে সবছেয়ে বেশি মানুষ বিশেষ গুরুত্বের সাথ পালন করে থাকে।
================================= 
যে সকল দেশে জাতীয় ছুটি- 
আফ্রিকানঃ আলজেরিয়া, বেনিন, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন , কমোরাস, আইভরী কোষ্ট, 
জিবুতী , মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথোপিয়া, গাম্বিয়া, গুইনিয়া , লিবিয়া, মালি , মৌরাতানিয়া,মরক্কো , নাইজার, নাইজেরিয়া , সেনেগাল , সিয়েরা লিয়ন, সোমালিয়া, সুদান, তানজেনিয়া, তিউনিশিয়া ,টোগো (৫৪ দেশের ২৫ দেশ ) 
মধ্যপ্রাচ্যঃ 
সউদি আরব , বাহরাইন , ইরান, ইরাক, জর্দান, কুয়েত , লেবানন , ওমান, ফিলিস্তিন , সিরিয়া , দুবাই, ইয়েমেন ( ১৪ দেশের মাঝে ১২ দেশ ) 
এশিয়াঃ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ,ব্রুনেই , ভারত , পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ,মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা , উজবেকিস্তান 
অন্যান্যঃ ফিজি , গুয়ানা
এছাড়াও যেসকল দেশে ছুটি নেই সেসকল দেশেও জাকজমক এবং গুরুত্বের সাথে এ দিবস পালন করা হয়।
বিরোধীতা না করে পালন করুন।
বিস্তারিত

বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে মুবারক আগমন বা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়ে বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থে আলোচিত হয়েছে।
যেমন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রামাণ্য ধর্মীয় গ্রন্থ ‘দিঘা নিকায়া’তে বর্ণিত হয়েছে- “মনুষ্যজাতি যখন গৌতমের ধর্ম বিস্মৃত হবে, তখন আরেক বুদ্ধ আসবেন, উনার নাম ‘মৈত্তেয়’ (মৈত্রেয়), যিনি হচ্ছেন শান্তি ও করুণার বুদ্ধ!”
সিংহল হতে প্রাপ্ত কারুসের গসপেলেও উপরোক্ত বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়-
Ananda said to the Blessed One, `Who shall teach us when thou art (are) gone?’
And the Blessed One replied, `I am not first Buddha, who come on the earth, nor shall I be the last. In one time another Buddha will arise in the world, a holy One, a supremly enlightened One, endowed with wisdom in conduct ..... . He will proclaim a religion life, wholly perfect and pure such as I now proclaim ..... .’
Ananda said, `How shall we know him?’
The Blessed One said, `He will be known as maitreya,
- The Gospel of buddha by Carus, P 117-118
অর্থ : “আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘আপনার তিরোধানের পর কে আমাদের উপদেশ দিবে?’
বুদ্ধ বললো, ‘আমিই একমাত্র বা শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আরেক বুদ্ধ আসবেন, আমার অপেক্ষাও তিনি পবিত্র এবং অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত- তিনি একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা প্রচার করবেন।’
আনন্দ জিজ্ঞাসা করলো, ‘আমরা উনাকে কিভাবে চিনবো?’
বুদ্ধ বললো, ‘উনার নাম হবে মৈত্রেয়।”
এই শান্তি ও করুণার বুদ্ধ (মৈত্রেয়) যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বলা হয়েছে- “রহমাতুল্লিল ‘আলামীন” অর্থাৎ তিনি সারা আলমের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন।
পক্ষান্তরে, ‘বুদ্ধ’ শব্দের অর্থ ‘বুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত’। বুদ্ধ যিনি হবেন তিনি মানুষ হবে অন্য কিছু নয়। আর মৈত্রেয়-এর অর্থ হচ্ছে ‘দয়ার সঙ্গে যুক্ত’।
ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় একথা প্রমাণ করেছে যে, মৈত্রেয়-এর সমস্ত বিশেষত্বই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারকে দেখা যায় এবং অন্তিম বুদ্ধ মৈত্রেয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
তাহলে আলোচনা হতে বুঝা যাচ্ছে যে, বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও অন্তিম বুদ্ধ মৈত্রেয় হিসেবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনার তথা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
তাছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক মতে, গৌতম বুদ্ধ ৫৬৩ খ্রিষ্টপূর্ব সালে (দুই হাজার ৫৫৮ বছর আগে) নেপালের লুম্বিনি নামক স্থানে জন্মলাভ করে। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম দেয়া হয় ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা’।
প্রাপ্ত তথ্য মুতাবিক, বৌদ্ধ পূর্ণিমা প্রায় এক শতাব্দী যাবত বৌদ্ধ ধর্মের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ১৯৫০ সালে শ্রীলঙ্কাতে বিশ্ব বুদ্ধ সহায়ক সংস্থা (the World Fellowship of Buddhists ) প্রথমবারের মতো বৈশাখী পূর্ণিমাকে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ৪৯ বছর পর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ তথা ইয়াহূদীসংঘ বৈশাখী পূর্ণিমাকে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, গৌতমের জন্মদিন বা বৌদ্ধ পূর্ণিমা পালনের ইতিহাস এখনো ১০০ বছর পার করতে পারেনি। তাহলে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি করে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হতে উৎপত্তি লাভ করলো! যেখানে ১৯৫০ সালের আগে বৌদ্ধ পূর্ণিমা পালনেরই ইতিহাস নেই। কাজেই কোন মিথ্যাচারিতা দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না। সত্য তার স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হবেই।
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা অনুসরণে উৎপত্তি লাভ করেনি। বরং বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
বিস্তারিত

হিন্দুদের পুরাণেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

হিন্দুদের পুরাণেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের উদ্ধৃতি : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ পুরাণসমূহের মধ্যে ভগবত পুরাণ ও কল্কি পুরাণ সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। এ পুরাণ দুটিতে অন্তিম অবতার (কল্কি)-এর কতিপয় বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখিত আছে। যা অন্তিম অবতার (কল্কি) এবং আখেরী রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অভিন্নতা প্রমাণ করে।
কল্কি অবতারের জন্মতিথি প্রসঙ্গে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে-
দ্বাদশ্যাং শুক্লপক্ষস্য মাধবে মাসি মাধবম।
- কল্কিপুরাণ : ২ আ: ২৫ শ্লোক
অর্থাৎ “অন্তিম অবতার মাধব (বৈশাখ) মাসে শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে জন্মগ্রহণ করবেন”।
এ প্রসঙ্গে এফ. এ. কুরাঈশী প্রণীত The Religion of Humanity গ্রন্থে কল্কিপুরাণের ১২শ অধ্যায় থেকে উদ্ধৃতাংশটি প্রণিধানযোগ্য-
“Jagat-Guru will be born on Vishnu-Bhagat and Somti. His birth will take place on Monday, the 12th of Baisakh at 2 hours after sunrise. His Father will have died before His birth and later His Mother will also die. Jagat-Guru will be married to the princess of Salmal Dweep. At the time of His marriage His Uncle and three Brothers will be present. In a cave `Parsu Ram’ will educate Him. When He will come to `Sambala from Salmal Dweep’ He will start Preaching at which His relatives will turn against Him. Troubles will force Him to fly to Northern hills. But after sometime He will return to the city of Sambala sword in hand and will conquer the whole of the country. Jagat-Guru will have a hoprse on riding which He will fly over the earth and seven heavens.”
অর্থাৎ “‘বিষ্ণুভগত’ ও ‘সুমতি’র ঔরসে জগতগুরু জন্মগ্রহণ করবেন। ১২ই বৈশাখ সোমবার সূর্যোদয়ের দু’ঘন্টা পর তাঁর আবির্ভাব ঘটবে। জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা মারা যাবেন এবং পরে মাতাও ইহধাম ত্যাগ করবেন। ‘সলমাল দ্বীপ’-এর রাজনন্দিনীর সঙ্গে জগত-গুরুর বিয়ে সম্পন্ন হবে। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর চাচা ও তিন ভাই উপস্থিত থাকবেন। ‘পরশুরাম’ এক গুহায় তাঁকে শিক্ষা দিবেন। ‘সলমাল দ্বীপ’ থেকে ‘সামবালা’ এসে যখন তিনি প্রচার কাজ শুরু করবেন তখন আত্মীয়-স্বজনেরা তাঁর বিরোধিতা করবে। নিপীড়ন-নির্যাতন তাঁকে উত্তর পাহাড়ে যেতে বাধ্য করবে। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি তরবারি হাতে ‘সামবালা’ শহরে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং সমগ্রদেশজয় করবেন। জগতগুরু অশ্বারোহণ করে পৃথিবী ও সপ্তস্বর্গ পরিভ্রমণ করবেন।”
এ প্রসঙ্গে আরো একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা যায়-
শম্ভল বিষ্ণুযশসা গৃহে প্রাদুর্ভাবামাহম্।
সুমত্যাং বিষ্ণুযশসা গর্ভমাধব বৈষ্ণবম্ ॥
- কল্কিপুরাণ : ২ আ: ১১ শ্লোক
অর্থাৎ “‘শম্ভল’ শহরস্থ প্রধান পুরোহিত গৃহে তিনি জন্মগ্রহণ করবেন। তাঁর পিতার নাম হবে ‘বিষ্ণুযশ’ (বিষ্ণুভগত) এবং মাতার নাম হবে ‘সুমতি’ (সৌম্যবতী)।”
উল্লেখিত উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে নিচের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়-
জগতগুরু : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাতি, দেশ, বর্ণ নির্বিশেষে তথা গোটা মানব সমাজের মুক্তিদূত।
বিষ্ণুভগত বা বিষ্ণুযশ : পৌরাণিক পরিভাষায় ‘বিষ্ণু’ অর্থ সৃষ্টিকর্তা এবং ‘ভগত’ বা ‘যশ’ অর্থ দাস। ‘বিষ্ণুভগত’ বা ‘বিষ্ণুযশ’ অর্থ সৃষ্টিকর্তার দাস। বিষ্ণুভগত বা বিষ্ণুযশ শব্দের আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘আব্দুল্লাহ’, যা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক। 
সুমতি : ‘সু’ অর্থ শান্তি ও আত্মতৃপ্তি। আর ‘মতি’ অর্থ আত্মা। তাই ‘সুমতি’ বা সৌম্যবতী অর্থ দাঁড়ায় তৃপ্ত অন্তর। তৃপ্ত অন্তর বা সৌম্যবতীর আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘আমিনা’, যা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক।
১২ই বৈশাখ সোমবার : বিক্রমী বর্ষপঞ্জি মতে, বৈশাখকে বসন্তের মাস বলা হয়। মাধব (বৈশাখ) বা বসন্তের আরবী পরিভাষা হচ্ছে ‘রবী’। পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের দ্বাদশী তিথিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সূর্যোদয়ের দু’ঘন্টা পর : ভারতের সূর্যোদয়ের দু’ঘন্টা পর হলে আরব দেশে সে সময়টি হবে দু’ঘন্টা চল্লিশ মিনিট আগে। অর্থাৎ ছুবহি সাদিকের সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কারণ আরব দেশের ভৌগলিক অবস্থান ৮০ ডিগ্রি দাঘিমা পশ্চিমে আর ভারতের অবস্থান ৪০ ডিগ্রি দাঘিমা পশ্চিমে।
সলমাল দ্বীপ : পুরাণ অনুযায়ী পৃথিবীকে ৬টি দ্বীপ বা অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
১. জাম্ব দ্বীপ : ভারত, তিব্বত, বার্মা ইত্যাদি।
২. শাক দ্বীপ : ইউরোপ।
৩. কারুঞ্চ দ্বীপ : বেলুচিস্তান ও আফগানিস্তান।
৪. কাশ দ্বীপ : আফ্রিকা।
৫. শাকলি দ্বীপ : রাশিয়া ও চীন।
৬. সলমাল দ্বীপ : আরব ও এশিয়া মাইনর।
পিতৃ-মাতৃ বিয়োগ : কল্কিপুরাণে বলা হয়েছে, জন্মের পূর্বে অন্তিম অবতারের পিতৃবিয়োগ এবং পরে মাতৃবিয়োগ ঘটবে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বেই উনার সম্মানিত আব্বাজান হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী ৬ বছর বয়স মুবারক-এ উনার সম্মানিত আম্মাজান হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। 
বিবাহ : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে প্রথম নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন হয় আরবের বিখ্যাত ধনশালীনী উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার। এ সম্মানিত অনুষ্ঠানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা আবূ তালিব এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩ চাচাত ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত আকিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা উপস্থিত ছিলেন।
পরশুরাম : ‘রাম’ অর্থ সৃষ্টিকর্তা আর ‘পরশু’ অর্থ মহান এবং ঠাকুর। ফেরেশতা হযরত জিরবীল আলাইহিস সালাম মর্যাদার দিক দিয়ে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। কুঠারের ভাবার্থ এই যে, হযরত জিরবীল আলাইহিস সালাম যে ওহী মুবারক নিয়ে আসতেন তার দ্বারা সমাজের অন্যায়-অবিচার দূরীভুত হয়।
গুহা : ‘গুহা’ মানে হেরা পর্বতের গুহাকে বুঝানো হয়েছে, যেখানে হযরত জিরবীল আলাইহিস সালাম তিনি প্রথমবারের মতো ওহী মুবারক নিয়ে আসেন। 
সামবালা : ‘শম্ভল’ শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ভাষা ও উচ্চারণগত দিক দিয়ে পার্থক্য। ‘শম্ভল’ শব্দ ‘শম’ ধাতুর সাথে ‘বন’ প্রত্যয় যোগে নিষ্পন্ন হয়েছে। অতএব ‘শম্ভল’ শব্দের অর্থ ‘শান্তির ঘর’, যার আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘দারুল আমান’। আর পবিত্র মক্কা শরীফ হচ্ছে ‘দারুল আমান’।
অতএব দেখা গেল যে, কল্কি অবতার ও আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনার স্থানগত মিল রয়েছে। 
উত্তর পাহাড় : কল্কিপুরাণে বর্ণিত আছে যে, কল্কি অবতার পর্বতের দিকে যাবেন এবং তথায় পরশুরাম কর্তৃক জ্ঞানলাভ করে উত্তর দিকে যাবেন এবং পুনরায় প্রত্যাবর্তন করবেন।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হেরা পর্বতের গুহায় হযরত জিরবীল আলাইহিস সালাম উনার মারফত আনুষ্ঠানিকভাবে ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়। এর কিছুদিন পরে পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেন এবং পরে পবিত্র মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করেন।
ভগবত পুরাণে ১২ স্কন্ধে ২য় অধ্যায় ১৮শ শ্লোক অনুযায়ী ‘কল্কি অবতার’কে শেষযুগের সর্বশেষ অবতার রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘খাতামান নাবিয়্যিন’ বা আখেরী নবী ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ উনার পরে আর কোন নবী আসবেন না।
ভগবত পুরাণ ও কল্কি পুরাণের অত্র উদ্ধৃতিসমূহ ও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের নিরিখে দেখা যাচ্ছে যে, হিন্দু ধর্ম গ্রন্থেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমন দিবসের তারিখ, বার, সময় স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনাকে তারা মুবারকবাদ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে হিন্দুদের ভবিষ্য পুরাণে বর্ণিত আছে-
এতস্মিন্নন্তিরে ম্লেচ্ছ আচার্যেন সমন্বিত।
মহামদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যাশাখা সমন্বিত ॥ ৫ ॥
নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থল নিবাসিনম্।
চন্দনাদিভিরভ্যর্চ্য তুষ্টাব মনসা হরম্ ॥ ৬ ॥
নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনে।
ত্রিপুরাসুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে ॥ ৭ ॥
ম্লেচ্ছৈর্গপ্তায় শ্রদ্ধায় সচ্চিদানন্দরুপিণে।
ত্বং মাং হি কিংকরং বিদ্ধি শরণার্থমুপাগতম্ ॥ ৮ ॥
- ভবিষ্য পুরাণ : ৩ : ৩ : ৩ : ৫-৮ 
ভাবানুবাদ : “যথাসময়ে ‘মহামদ’ নামে জনৈক মহাপুরুষ আবির্ভূত হবেন যাঁর নিবাস ‘মরুস্থলে’ (আরব দেশে)। সঙ্গে স্বীয় সহচরবৃন্দও থাকবেন।
হে মরুর অধিপতি! হে জগতগুরু! আপনার প্রতি আমাদের স্তুতিবাদ। আপনি জগতের সমুদয় কলুষাদি ধ্বংসের উপায় অবগত আছেন। আপনাকে প্রণতি জানাই।
হে মহাত্মা! আমরা আপনার দাসানুদাস। আমাদেরকে আপনার পদমূলে আশ্রয় প্রদান করুন।” 
“আপনার প্রতি আমাদের স্তুতিবাদ” দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারককে মুবারকবাদ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ উনার যমীনে আগমন মুবারক উপলক্ষ্যে খুশি প্রকাশ করা হচ্ছে। সুতরাং হিন্দু ধর্ম মতেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এমনকি পবিত্র সূরা ফাত্হ, ৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফে বর্ণিত لِتُؤْمِنُوا بِاللهِ وَرَسُوْلِه এই আয়াতাংশ “তোমরা (বান্দারা) মহান আল্লাহ পাক উনার উপর এবং উনার রসূল (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার উপর ঈমান আনো” উনার উপরে আমল করার বিষয়ে বর্ণিত রয়েছে এভাবে-
“হে মহাত্মা! আমরা আপনার দাসানুদাস। আমাদেরকে আপনার পদমূলে আশ্রয় প্রদান করুন।”
যে সমস্ত মুসলমান নামধারী বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিন্দুদের জন্মাষ্টমী থেকে এসেছে। নাঊযুবিল্লাহ! তারা যেন চোখ খুলে দেখে নেয় যে, হিন্দুদের পুরাণেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করার বিষয়ে বর্ণিত রয়েছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনকে হিন্দুরাই মুবারকবাদ জানিয়েছে। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাস বা গোলাম হিসেবে তারা নিজেদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে। উনার মুবারক ক্বদম তলে নিজেদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করেছে।
অতএব প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই হিন্দুদের জন্মাষ্টমী অনুসরণে উৎপত্তি লাভ করেনি। বরং হিন্দুদের পুরাণেই ‘পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
বিস্তারিত

আন নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আনাম বইয়ের প্রকাশিত হবার পুর্ব থেকেই ঈদে মিলাদুন্নবীর ফযিলত বর্নিত আছে

এই কিতাবটি মিশর থেকে প্রকাশিত, বিশ্ব বিখ্যাত মাওলুদে বারজাঞ্জির শরাহ। কিতাবে নাম হচ্ছে, “তালহীনুছ ছানজী”। লেখক হচ্ছেন, আব্দুর রহীম সূয়ুতি আল মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি। প্রকাশকাল ১৩২১ হিজরী। আজ থেকে ১১৮ বছর আগের। 
উক্ত কিতাবের ৫ পৃষ্ঠায় লেখা আছে, 
قوله صلي الله علي و سلم من عظم مولدي كنت شافعا له يوم القيامة ومن انفق درهما في مولدي فكانما انفق جبلا من ذحب احمر في سبيل الله تعالي
অর্থ: “হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করলো সে কিয়ামতে দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে, এবং যে মীলাদ শরীফ পালন করতে এক দিরহাম খরচ করবে সে আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ দান করার ফযিলত লাভ করবে।” (তালহীনুছ ছানজী ৫ পৃষ্ঠা) 
আপনারাই বলেন এসব বর্ণার ভিত্তি না থাকলে কি এত কিতাবে আসে? তাও আবার মাকতাবায়ে হাকীকার প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর আগের প্রকাশ কালে?
বিস্তারিত

সর্বসম্মতক্রমে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত ১২ রবিউল আউওয়াল

 সর্বসম্মতক্রমে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত ১২ রবিউল আউওয়াল

১. ইমাম ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮৫-১৫১ হি): হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন ( ইবনে আল জাওজি আল ওয়াফা , ৮৭ ) 
২. ইমাম ইবনে হিসাম রহমতুল্লাহি আলাইহি ( ২১৩হি):  
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলের ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন  (সিরাতুননবী, ভলিউম ১ ,পৃ ১৫৮ )
৩. ইমাম ইবনে জারীর আত তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ( ২২৪-৩১০হি):  
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলের ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন  ( তারিখ উল উমাম ওয়াল মুলুক, ভলিউম ২, পৃ ১২৫ )
৪. আল্লামা আবু উল হাসান আলী বিন মুহম্মদ আল মাওয়ার্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি ( ৩৭০-৪৮০হি):  
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  আসহাবুল ফিল ঘটনার ৫০ দিন পর ১২  রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন  ( আইলাম ঊন নবুয়া, ১৯২) 
৫. ইমাম আল হাফিজ আবু উল ফাতাহ আল আন্দুলাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৭১-৭৩৪ হি):  হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলের ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন  (আয়ুন আল আসর, ভলি ১, পেজ ৩৩) 
৬. আল্লামা ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি ( ৭৩২- ৮০৮ হি): 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলের ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন। যা ছিল কিসরা নওশেরওয়ান  এর ৪০ তম বছর ( আত তারিখ ,ভলি ২, পেজ ৩৯৪ ) 
৭. মুহম্মদ আস সাদিক ইব্রাহীম আরজুন রহমতুল্লাহি আলাইহি:  
বিভিন্ন সুত্র থেকে ইহাই প্রতিষ্ঠিত সত্য যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলে , কিসরা ণওশেরওয়ান রাজত্বকালীন ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন  ( মুহম্মদ রাসুলুল্লাহ , ভলি ১ , পেজ ১০২) 
৮.শায়েখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯৫০- ১০৫২হি):  
যে সিরাতবীদ এবং ইতিহাসবিদগণ এই মত প্রকাশ করেন যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমূল ফীলে দুনিয়ায় আগমন করেন।ইহাই প্রতিষ্ঠিত সত্য যে সে মাস ছিল রবিউল আউওয়াল এবং তারিখ ছিল ১২। সকল স্কলারগণ ইহাতেই মত প্রকাশ করেছেন।( মাদারেজুন নবুয়াহ, ভলি ২, পেজ ১৪ )
৯. সালাফী নবাব সাদিক হাসান খান ভোপালী বলে” হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন মক্কা শরীফে ফজর বেলায় ,সোমবার ,১২ রবিউল আউওয়াল শরীফে হয়। (আস সুমামাতুল আনবারিয়া ফি মাওলিদ খায়ের আল বারিয়া, পৃ ৭) 
১০. ওহাবী সালাফীরা যাকে গুরু মানে সে ইবনে কাশীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন “ ইবনে আবী সাইবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুসান্নাফে’ হযরত আফফান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ননা করেন যে “হযরত যাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হস্তী বছরের ১২ রবিউল আউওয়াল সোমবারে শরীফে দুনিয়ায় আগমন করেন”।( সিরাতুননবী , ভলি ১, পেজ ১৯৯ )  
১১. ইমাম কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন “হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় আগমন করেন এবং মক্কা শরীফের মুসলমানগণ এই দিনে জন্মস্থান প্রত্যক্ষ করতে যেতেন”। (আল লাদুন্যিয়া, ভলি ১্পে‌ জ ৮৮) 

বিস্তারিত

বাদশা মুজাফফর আবু সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগে থেকেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো

বাদশা মুজাফফর আবু সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগে থেকেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো
বাদশা মুজাফফর আবু সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগে থেকেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো। মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুফার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি ( ৪৯৭- ৫৬৫ হিজরী) তিনি উনার “দুররুল মুনাজ্জাম” গ্রন্থে লিখেন,
وقال العلامة ابن ظفر - رحمه الله تعالى -: بل في الدر المنتظم: وقد عمل المحبون للنبي صلى الله عليه وسلم فرحا بمولده الولائم -، فمن ذلك ما عمله بالقاهرة المعزية من الولائم الكبار الشيخ أبو الحسن المعروف بابن قفل قدس الله تعالى سره، شيخ شيخنا أبي عبد الله محمد بن النعمان، وعمل ذلك قبل جمال الدين العجمي الهمذاني وممن عمل ذلك على قدر وسعه يوسف الحجار بمصر وقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يحرض يوسف المذكور على عمل ذلك
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিকগন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিলাদত শরীফের খুশিতে খাওয়া – দাওয়া ও দাওয়াতের আয়োজন করে আসছেন। কায়রো যে সকল ব্যক্তি বড় বড় দাওয়াতের আয়োজন করেছেন, তাদের মধ্যে শায়েখ আবুল হাসান যিনি মশহুর ছিলেন ইবনে কুফুল কুদ্দিসা সিরহুল নামে। তিনি আমাদের শায়েখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে নুমান রহমতুল্লাহি আলাইহি। এই বরকতময় আমল হযরত জামালুদ্দীন আযমী হামদানী রহতুল্লাহি আলাইহিও করেছেন। মিশরে হযরত ইউসূফ হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও ব্যাপক পরিসরে উদযাপন করেছেন। এরপর তিনি হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইউসুফ হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উল্লেখিত আমলের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরুল ইবাদ ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা)
ইতিহাসই সাক্ষী বাদশা মুজাফফর আবু সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগে থেকেই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী পালন করা হতো। আয়োজন করা হতো। দাওয়াত করে মানুষকে খাওয়ানো হতো।
বিস্তারিত

হযরত নুরউদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের দলীল


এই কিতাবে আছে হযরত নুরউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রতিবছর ঈদে মীলাদে হাবীবী পালন করতেন। এবং এসময় মুওছুলের শাষক ও নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত থাকতেন। নূরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মুহব্বত করতেন ও পত্র লিখতেন। (কিতাবের নাম : ইকদুল জুমান ফি তারীখী আহলিল জামান, লেখক : হযরত বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি)
আপনারা কি জানেন কে ছিলেন এই নুরউদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি?
সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি - দুঃসাহসী এক যোদ্ধা , সফল এক সমরনায়ক , অসাধারণ এক সেনাপতি । ইসলামের শত্রুরা আজও তাঁকে সম্বোধন করে "গ্রেট সালাদিন বলে , মুসলিমবিশ্ব স্মরণ করে জাতীয় বীর হিসেবে । মুসলিম মিল্লাতের ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখা রয়েছে তাঁর নাম সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন হযরত নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ভাতিজা ও খলীফা।

সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন তেমনি একজন সুলতান যিনি ইসলামিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি বায়তুল মুকাদ্দাস ক্রসেডারদের দ্বারা দখলের প্রায় ৯০ বছর পর পুনরায় তাদের হাত থেকে মুক্ত করেন, এবং সেখানকার মুসলিম নাগরিকদের তাদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করেন। ১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ। সালাহুদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসর আগমন করেন। ফাতেমী খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলীফা তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে বাগদাদ থেকে প্রেরণ করেন । তার (দ্বাদশ শতাব্দীর) আগে থেকেই ইউরোপ, ফ্রান্স ও জার্মানী ইসলামিক রাষ্ট্র ভাঙ্গার জন্য ক্রশ ছুঁয়ে শপথ করে, ইসলামের নাম নিশানা মুছে দিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রশের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু করে নানা চক্রান্ত । সেইসঙ্গে তারা চালায় সশস্ত্র অভিযান .. মুসলিমদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দখল করে রাখে ইসলামের মহান স্মৃতি চিহ্ন প্রথম ক্বিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস।
রাজনীতি, কূটনীতি, ভূগোল, ইতিহাস, পড়াশুনা ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ কৌশলের উপর গভীর জ্ঞান ও আগ্রহের কারণে চাচা শেরেকাহ ও নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে স্পেশাল প্রশিক্ষণ প্রদান করেন । নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে মিশরের গভর্নরের পদের জন্য মনোনীত করেন । সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি'ও চিন্তা চেতনায় ছিলেন সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি"র মতই। সেসময় যেখানে ইসলামী খিলাফতের সব আমীর, গভর্নর, উজিররা খৃষ্টানদের চক্রান্তে পা দিয়ে তাদের থেকে সুন্দরি মেয়ে ও প্রচুর ধনসম্পদ এবং মূলত ক্ষমতার লোভে ইসলামী রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন দেখতো , ঠিক তখনই সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রকে ইহুদী–খৃষ্টানদের চক্রান্ত থেকে মুক্ত করে বাইতুল মুকাদ্দাস কে সেই ক্রুসেডারদের থেকে মুক্ত করার জন্য একের পর এক জিহাদ করে গেছেন।
সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি মিশরের স্থায়িত্ব আনার পরই আবার তার সেই বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার শপথ পূরণ করার জন্য বের হয়ে যান। তিনি সর্ব প্রথম খৃষ্টানদের ফিলিস্তিনের শোবক দুর্গ অবরোধ করে সেটা জয় করে ফেলেন। পরে নুরুদ্দীন জঙ্গীর সহায়তায় কার্ক দুর্গও জয় করেন। কার্ক দুর্গ অবরোধ করার সময় সুদানীরা আবারো মিশরে সমস্যা তৈরি করলো ক্রসেডারদের সাহায্যে । ততক্ষণাৎ সুলতান আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি কার্কের অবরোধ নুরুদ্দীন জঙ্গীকে দিয়ে মিশরে চলে আসেন। পরে নুরুদ্দীন জঙ্গী কার্ক দুর্গ সহ ফিলিস্তিনের আরও কিছু জায়গা দখল করেন । ফিলিস্তিনের শোবক ও কার্ক দুর্গ পরাজয়ের প্রতিশোধ স্বরূপ ক্রসেডাররা পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয়। স্পেনের পূর্ণ নৌ বহর এতে যুক্ত হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামও যুক্ত হয়। গ্রিস ও সিসিলির জঙ্গি কিশতিগুলোও যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা ভাবতো, তারা চাইলে একাই মুসলিমদের পরাজয় করতে পারে তাই তারা যুক্ত হতে চায় নি।কিন্তু তাদের পোপের অনুরোধে তাদের কিছু যুদ্ধ জাহাজ যুক্ত করে ।
এদিকে সুলতান আইয়ুবী ক্রসেডার গোয়েন্দা মারফত তাদের আগমনের খবর পেয়ে যান, তিনি এটাও জেনে যান যে তারা আগে এসে মিশরের উপকুলের আলেকজান্দ্রিয়া অঞ্চল দখল করবে। তাই সুলতান আইয়ুবী ক্রসেডার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সকল জনগণকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান এবং সেখানের ঘরগুলোতে মুসলিম সৈন্য দিয়ে ভরে রাখেন। ক্রসেডাররা যখন উপকুলে এসে ভিড়ে এবং আক্রমণের জন্য কোন সৈন্য না দেখে খুশিতে আত্মহারা , আর হেসে খেলে উপকূলের আলেকজান্দ্রিয়া দখল করতে যায় ।রাতে যখন তারা নগরীতে প্রবেশ করে তখনই সৈন্যরা ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দেয়। ঐ দিকে তাদের জাহাজগুলোতে যেই সৈন্যদেরকে রেখে এসেছিল তাদের উপর হঠাৎ পেছন থেকে সুলতান আইয়ুবীর যুদ্ধ জাহাজ আক্রমণ করা শুরু করে। মুসলিম সৈন্যরা মিনজানিকের সাহায্যে বড় বড় আগুনের গোলা ও পাথর মারতে শুরু করে ক্রসেডারদের জাহাজের উপর। ক্রসেডাররা পালাতে থাকে জাহাজ নিয়ে এবং ধ্বংস হতে থাকে। ক্রসেডারদের আরেকটা অংশ ফিলিস্তিন থেকে আক্রমনের জন্য আসলে সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গী তাদের উপর আক্রমণ করে তাদের পরাজয় করে দেন । এই যুদ্ধ শেষে নুরুদ্দীন জঙ্গী সুলতান আইয়ুবীকে তার অধিকৃত অঞ্চল দিয়ে সিরিয়ায় নিজ এলাকায় চলে যান । সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর যুদ্ধ কৌশলের সবচেয়ে চমৎকার কৌশল ছিল তার গেরিলা হামলা। তার সৈন্যরা গেরিলা বাহিনী দিয়ে শত্রু সেনা বহরের পেছনের অংশে আঘাত হেনে বাতাসে মিলিয়ে যেতো। তাঁর এই কৌশলের আজো সামরিক বিশ্লেষকরা প্রশংসা করে । ১১৭৪ সালের মে মাসে নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালে নেমে আসে শোকের ছায়া। সালাহুদ্দীন আইয়ুবী হারান তার প্রাণপ্রিয় চাচাকে যিনি বরাবরই তাকে সাহায্য দিয়ে আসতেন বিভিন্ন সময়ে ।

উনাদের এই বীরত্ত ও ইসলামের জন্য অবদান সম্ভব হয়েছে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী পালনের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে উনারা যে রহমত হাছিল করেন তার বাস্তবায়ন উনারা ইতিহাসের মধ্যেও ইতিহাস করে রেখে গেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করবে।
বিস্তারিত