উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (৩)

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (৩)

আসমাউর রিজালসমূহের কিতাব থেকে নফসানিয়াত অনুযায়ী বক্তব্য উল্লেখ করে ওহাবী সালাফীরা যেভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়:
برد بن سنان وثقه ابن معين ، والنساءي ، وضعفه ابن المديني قال ابو حاتم : ليس بالمتين. وقال مرة: كان صدوقا قدرياوقال ابو زرعة : لا بأس به وقال ابو داود، يرمي بلقدر
অর্থ: হযরত বুরাদ ইবনে সিনান রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সর্ম্পকে ইমাম ইবনে মুঈন ও হযরত নাসাঈ  রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, তিনি ছিক্বাহ। হযরত ইবনে মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি দুর্বল। হযরত আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মজবুত নন । হযরত মুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি সত্যবাদী এবং শক্তিশালী। ইমাম আবু যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার কোন সমস্যা নাই। ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দূরে নিক্ষেপ করতে হবে। (মিযানুল ইতিদাল ২/১১: রাবী নং ১১৪৭)
হযরত বুরাদ ইবনে সিনান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাপারে হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দুজন উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। অপরদিকে হযরত ইবনে মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দুর্বল। অর্থাৎ কেউ জারাহ করেছেন, আবার কেই তা’দীল করেছেন। এখানে মতপার্থক্য দেখা গেলো।
بشير بن ثابت
وثقه ابن حبان
وقال ابو حاتم : مجهول
অর্থ: হযরত বশির ইবনে সাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন ‘মাজহুল’ বা অপরিচিত। (মিযানুল ইতিদাল ২/২৪: রাবী নং ১১৮৯)
এখানেও আমারা দুজন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রিজাল বিশারদের মধ্যে ইখতেলাফ দেখতে পেলাম। একজনের কাছে হযরত বশির ইবনে ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিক্বাহ বা বিশ্বস্ত আবার অন্য একজন ইমামের কাছে সেই রাবীই মজহুল বা অপরিচিত।
بشير بن المهاجر
وثقه ابن معين وغيره
وقال النسائى : ليس به باس
وقال احمد: منكر الحديث يجيء بالعجب وقال ابو حاتم: لا يحتج به
وقال ابن عدي : فيه بعض الضعف
অর্থ: হযরত বশির ইবনে মুহাজির রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও অন্য ইমামগন উনারা ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আশ্চর্যজনক ভাবে মুনকার বর্ণনা করেন। আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনার সম্পর্কে আপত্তি নেই। হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার সামান্য দুর্বলতা আছে। (মিযানুল ইতিদাল ২/৪৩: ১২৪৫)
এখানে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দুজন এই রাবী সর্ম্পকে জারাহ করেছেন। অন্যরা তা’দীল বা প্রশংসা করেছেন।
بكر بن بكار
قال النسائى : ليس بثقة
وقال ابو معين : ليس بشىء 
وقال ابو عاصم النبيل : ثقة
وقال ابن حبان : ثقة، ربما يخطىء. وقال ابو حاتم : ليس بالقوى
অর্থ: হযরত বকর ইবনে বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম হযরত নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি ছিক্বাহ নন। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি, তার ব্যাপারে কোন আপত্তি নাই। হযরত আবু আছিম আন নাবিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশ্বস্ত। হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, ছিক্বাহ, সম্ভবত তিনি তা নন। ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি শক্তিশালী নন। (মিযানুল ইতিদাল ২/৫৮-৫৯: ১২৭৭)
এখানেও ইমাম উনাদের জারাহ ও তা’দীল নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কেউ ছিক্বাহ বলেছেন, কেউ শক্তিশালী নন বলেছেন।
حريث بن السائب البصرى
وثقه ابن معين
وقال ابو حاتم: ما به باس
وقال زكريا الساجي : ضعيف
অর্থ: হযরত হারিছ বিন সায়িব আল বাছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সমস্যাযুক্ত। হযরত যাকারিয়া আস সাজী তিনি বলেন, তিনি দ্বয়ীফ বা দুর্বল। (মিযানুল ইতিদাল ২/২১৭: ১৭৯০)
উক্ত রাবী সর্ম্পকেও ইমামগণ উনাদের পক্ষে বিপক্ষে মত রয়েছে। এরকম ভাবে তাহযিবুল কামাল, তাহযীবুত তাহযীব, তাকরীবুত তাহযীব সহ অনেক আসমাউর রিজাল উনার কিতাবে মতপার্থক্য বর্ণিত আছে। এখানে দেখানোর যে বিষয় সেটা হলো, কোন একজন রাবী সর্ম্পকে একেক ইমাম উনার একেক মতামত থাকে কেউ 
জারাহ করেন, কেউ তা’দীল। ওহাবী সালাফীরা কোন হাদীছ শরীফ উনাকে মওজু অথবা দ্বয়ীফ প্রমাণ করতে শুধুমাত্র যে রাবী সর্ম্পকে জারাহ বা আপত্তি করা হয়েছে তার বর্ণনাটা পেশ করে। তারা বলে অমুক ইমাম এই রাবীকে জারাহ করেছে তাই এটা গ্রহনযোগ্য নয়, কিন্তু কেউ যে প্রশংসাও করেছেন সে কথা ভুলেও উল্লেখ করে না। আর সাধারন মানুষও যেহেতু উছুল জানে না সেই সাথে রিজালের কিতাব জীবনে চোখেও দেখেনি তাই তারাও সেটা মেনে নিয়ে গোমরাহ হয়। নাউযুবিল্লাহ!
বিস্তারিত

স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফযিলত বর্ননা করেছেন

স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফযিলত বর্ননা করেছেন
১) হাদীছ শরীফ মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে, 
قَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْع الْاَوَّلِ بِاتِّـخَاذِهٖ فِيْهَا طَعَامًا كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ اِكْرَامًا فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْمَرَ فِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ
অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ানের মাধ্যমে আমার বিলাদত শরীফ ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ রাত (ও দিবস) উনাকে সম্মান করবেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি ইয়াতীমদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমান লাল স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! ( নে’মতে কুবরা উর্দূ ১১ পৃষ্ঠা)

২) হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে,
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ كُنْتُ شَفِيْعًا لَّهٗ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ تَعَالـٰى
অর্থ: “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ (ঈদে মীলাদে হাবীবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে সম্মান করবেন, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ পালন উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!” )নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ ১৫ পৃ., তালহীনুছ ছাননাজ ৫ পৃষ্ঠা)
বিস্তারিত

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (২)

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (২)

সাইয়্যিদুল, মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ حَدَّثَ بِحَدِيثٍ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে (ছহীহ বিচার-বিশ্লেষনন ছাড়াই) অভিমত পোষণ করে যে, এই হাদীছ শরীফখানা মওজু বা মিথ্যা সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদীদের অর্ন্তভূক্ত। (মুসনাদে আহমদ ৪/২৫৫: হাদীছ নং ১৮২৬৬, শরহুস সুন্নহ ১/২৬৬: হাদীছ ১২৩, মুসনাদে আবু যায়িদ ১/৩০৬: হাদীছ ২০৬৭,  শুয়াবুল ঈমান-মুকাদ্দিমা ১/৮৪, তাফসিরে ইবনে কাছীর ২/৩৬৬)

অপর এক বর্ণনায় এসেছে-
بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، وَلاَ حَرَجَ ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: আমার পক্ষ হতে লোকদের নিকট পৌঁছাতে থাক, যদিও তা একটি মাত্র বাক্য হয়। আর বণী ইসরাঈল হতে শোনা কথা বর্ণনা করতে পারো, তাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে করে নেয়। (বুখারী শরীফ ৩৪৬১, তিরমিযী শরীফ ২৬৬৯, মুসনাদে আহমদ ৬৮৮৮, মুসনাদে বাযযার ৮৭৬৩, মু’জামুল কবীর তাবরানী ১৫২৫, সুনানে দারিমী ৫৪২)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা থেকে বোঝা গেলো যে, বণী ইসরাঈল বা ইহুদী সম্প্রদায়ও যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত নিয়ে কিছু বলে তা অস্বীকার করা যাবে না বরং কেউ যদি মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে নিয়ে আসে তার শাস্তির জন্য জাহান্নাম রয়েছে। তাই ওহাবীদের প্ররোচনায় কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ দেখলেই তার বিরোধিতা করা যাবেনা, বরং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার উলামায়ে কিরাম কি ফায়ছালা দিয়েছেন , কোন আমল চলে আসছে সেটার উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।
ইলমে হাদীছ শরীফ উনাকে মূলত দ্ইুভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়। ১) রিওয়াহ সংশ্লিষ্ট ইলিম যা সনদ অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা, রাবীদের অবস্থা, স্মরনশক্তি, যোগ্যতা ইত্যাদি ২) দিরায়াহ বা নিয়ম কানুন মূলনীতি ভাবার্থ ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট ইলিম।
হাফিযে হাদীছ হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব “তাদরীবুর রাবীতে” বর্ণিত আছে, ইলমে হাদীছ শরীফ উনার ৭৩ টা শাখা আছে। প্রত্যেকটা শাখায় রয়েছে আরো অসংখ্য প্রকারভেদ। আর ইমাম হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দ্বয়ীফ সনদের প্রকারভেদই করেছেন ৪৯ প্রকার। সূতরাং এই শাস্ত্র কতটা ব্যাপক আর জটিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে জারাহ এবং তা’দীল সংশ্লিষ্ট জ্ঞান, যা অনেক সুক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর। জারাহ (جرح) হচ্ছে রবীর সমালোচনা করা, দোষ প্রকাশ করা, ত্রুটি অন্বেষন করা। আর তা’দীল (تعديل) হচ্ছে প্রশংসা করা, নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করা, বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেয়া ইত্যাদি।  বক্ষ্যমান আলোচনায় জারাহ ওয়াত তা’দীল সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষন ও সেই সাথে ওহাবী সালাফীরা যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ধোঁকাবাজী করে তার নমুনা ও সেই ধোঁকাবাজীর রহস্য উন্মোচন করা হবে ইনাশআল্লাহ।

বিস্তারিত

রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিল একটি বিরল ঘটনা

রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিল একটি বিরল ঘটনা

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ فِيْهِ وُلِدْتُ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ‏.‏
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখার ব্যাপারে সুওয়াল মুবারক করা হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই দিন আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি এবং ওই দিন আমার উপর (পবিত্র কুরআন শরীফ) নাযিল হয়েছে।” (মুসলমি শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু যিকরি ইখতিলাফি ‘আলা মূসা ইবনে ত্বলহা ফীল খাবারি ফী ছিয়ামি ছালাছাতি আইয়্যামিন মিনাশ শাহ্রি: হাদীছ শরীফ নং ২৬৪০)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ হতে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখতেন।
এখন আরবী মাসের হিসাব অনুযায়ী,বছরে ৫০ সপ্তাহ হয়ে থাকে। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বছরের প্রত্যেক সপ্তাহে রোযা মুবারক রাখতেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ أَرْبَعٌ لَـمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো- পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা ও পবিত্র ফজর নামাযের পূর্বের দু’রাকয়াত নামায।” (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিন কুল্লি শাহ্রিন ওয়া যিকরিখ তিরাফিন নাক্বিলীনা লিলখ¦াবারি ফী যালিক; আহমদ শরীফ; হাকিম শরীফ)
সুতরাং অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, যা সারাবছরে কখনোই ছাড়তেন না। যেহেতু প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, তাই উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেত আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেত। অর্থাৎ বছরের প্রত্যেক সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযার দিন পড়তো না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন যে রোযা মুবারক রাখতেন, উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেত আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেত। কেননা এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ هُنَيْدَةَ الْـخُزَاعِيَّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَلَيْهَا السَّلَامَ سَـمِعْتُهَا تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ.
অর্থ: “হযরত হুনাইদা খুজায়িয়্যা রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার থেকে শুনেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তারপর ইয়াওমুল খ্বমীস এবং তার পরবর্তী ইয়াওমুল খ্বমীস।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিং কুল্লি শাহরিন ওয়া যিকরিখতিলাফিন নাক্বিলীনা লিল খাবারি ফী যালিক : হাদীছ শরীফ নং ২৪১৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُوْمُ ثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ مِنْ اَوَّلِ الشَّهْرِ وَالْـخَمِيْسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ ثُـمَّ الْـخَمِيْسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তার পরবর্তী সপ্তাহে ইয়াওমুল খ্বমীস এবং তার পরবর্তী সপ্তাহে ইয়াওমুল খ্বমীস।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিং কুল্লি শাহরিন ওয়া যিকরিখতিলাফিন নাক্বিলীনা লিল খাবারি ফী যালিক : হাদীছ শরীফ নং ২৪১৪)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الْـخَمِيْسِ وَيَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَمِنَ الْـجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম ইয়াওমুল খ্বমীস, তারপর ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ এবং তার পরবতী ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ছাওমিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : হাদীছ শরীফ নং ২৩৬৬)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ اُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ اَيَّامٍ الاِثْنَيْنِ وَالْـخَمِيْسَ مِنْ هٰذِهِ الْـجُمُعَةِ وَالاِثْنَيْنِ مِنَ الْمُقْبِلَةِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। (প্রথম সপ্তাহে) ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ্বমীস এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ছাওমিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : হাদীছ শরীফ নং ২৩৬৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالاَحَدَ وَالاِثْنَيْنِ وَمِنَ الشَّهْرِ الاٰخَرِ الثُّلَاثَاءَ وَالاَرْبِعَاءَ وَالْـخَمِيسَ‏.‏ 
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো মাসে ইয়াওমুস সাব্ত, ইয়াওমুল আহাদ ও  ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ আবার কোনো মাসে ইয়াওমুছ ছুলাছা, ইয়াওমুল আরবিয়া ও ইয়াওমুল খমীস রোযা মুবারক রাখতেন।” (তিরমিযী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু মা-জায়া ফী ছাওমি ইয়ামুল ইছনাইন ওয়া খ্বমীস : হাদীছ শরীফ নং ৭৪৬)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন যে রোযা মুবারক রাখতেন, উক্ত তিন দিনের রোযা মুবারক সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে রোযা মুবারক রাখার পদ্ধতি নিচের সারণীতে দেখানো হলো-

সপ্তাহ ১ম পদ্ধতি ২য় পদ্ধতি ৩য় পদ্ধতি ৪র্থ পদ্ধতি ৫ম পদ্ধতি ফলাফল
১ম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ
ও ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুস সাব্ত ইয়াওমুছ ছুলাছা ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ১ম সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
২য় ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ ইয়াওমুল আরবিয়া ১ম, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ২য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
৩য় ইয়াওমুল খ্বমীস - ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল খ্বমীস ১ম, ২য় ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ৩য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
৪র্থ - - - - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম কোন পদ্ধতিতেই ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।

সুতরাং মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখার পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা দেখা গেল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মাসে ১ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম সপ্তাহ ছাড়া বাকি ৩ সপ্তাহে কোন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ৫ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের কোন সপ্তাহেই ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ২য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। অনুরূপভাবে যে মাসে ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। আর ৪র্থ পদ্ধতিতে ৩য় সপ্তাহ ছাড়া অন্য ৩ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি।
প্রত্যেক সপ্তাহে বার যেহেতু ৭টি, তাই কোন একটি মাস শুরু হওয়ার ক্ষেত্রেও ৭টি পদ্ধতি অনুসারেই হবে। নিচের সারণীতে তা তুলে ধরা হলো- 


সপ্তাহ তারিখ মাস শুরু হওয়ার বার
১ম ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
জুমুয়া সাবত আহাদ
ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া
আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত
২য় ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ
ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
১০ আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
১১ খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
১২ জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
১৩ সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া
১৪ আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত


উপরের সারণী হতে দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সুযোগ তখনই হয় যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
এখন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ১ম, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা মুবারক রাখলেও এই ৩টি পদ্ধতিতে যেহেতু ২য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না। তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। শুধুমাত্র রোযা মুবারক রাখার ক্ষেত্রে ২য় ও ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করলেই কেবল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাও যদি মাসটি ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার এবং সে দিন রোযা হওয়ার সম্ভাবনার সাথে ২টি শর্ত সম্পর্কিত-
১. যদি মাসটি ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
২. যদি ২য় বা ৩য় পদ্ধতি অবলম্বনে রোযা রাখা হয়।
এই ২টি শর্ত একত্রে পূরণ না হলে কখনোই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তাহলে প্রমাণিত হলো যে, যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হলে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে ২য় সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা হয় এই পদ্ধতিতে রোযা রাখলেই কেবলমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যে রোযা রাখতেন উক্ত রোযা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়া ছিল একটি বিরল ঘটনা।

তাহলে যারা বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রাখতেন রোযা, আর আপনারা করেন ঈদ এবং তিনি নির্ধারণ করলেন বার আর আপনারা নির্ধারণ করেন তারিখ। তাদের বক্তব্যে জবাবে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ করে ঈদ উদযাপনে যেমন কোন বাধা নেই, ঠিক তেমনি বার নির্ধারণ করে রোযা পালনের মধ্যেও রয়েছে এক মহান সুন্নত।

বিস্তারিত

যারা বলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আমল খায়রুল কুরুনে ছিলো না তারা গন্ডমূর্খ, ইলিমশূন্য।

যারা বলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আমল খায়রুল কুরুনে ছিলো না তারা গন্ডমূর্খ, ইলিমশূন্য।
খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলী আল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন। সুবহানাল্লাহ। আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত “ইয়নাতুল ত্বলেবীন” কিতাবে বর্ণনা করেন,

أنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مسرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التحقير لاجل أفعاله الخبيثة، غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الاول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرأ فيها مولد النبي ودام على هذا الحال زمانا طويلا، ثم لما مات سمع أهل البلد هاتفا يقول: احضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي، فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه، فرأوه في المنام وهو يرفل في حلل سندس واستبرق، فقيل له بم نلت هذه الفضيلة ؟ قال بتعظيم مولد النبي صلى الله عليه وسلم

অর্থ: বর্ণিত রয়েছে, খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় (১৪৮-১৯৩ হিজরী) 

বছরা শহরের এক যুবক সে নফসের অনুসরন করে চলতো। শহরের লোকেরা নিন্দনীয় আমলের  জন্য তাকে নিন্দার চোখে দেখতো। তবে যখন পবিত্র রবিউল আউয়াল শরীফ মাস আসতো, এই যুবক কাপড় ধৌত  করতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতেন। সেই সাথে ভালো খাবারের ব্যবস্থাও করতেন। এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মাসে এ আমল লম্বা সময়ব্যাপী করতেন। অতপর যখন তিনি ইন্তেকাল করেন তখন শহরবাসীগণ গায়েবী আহ্বান শুনতে পান। সেখানে বলা হচ্ছিলো, হে বসরাবাসী! আপনারা আল্লাহ পাক উনার ওলীদের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত একজন ওলীর জানাজায় শরীক হন। নিশ্চয়ই তিনি আমার কাছে খুবই প্রিয়। অতপর শহরবাসী উনার জানাজায় উপস্থিত হলেন এবং দাফন সম্পন্ন করলেন। উনারা (শহরবাসী) স্বপ্নে দেখলেন, উক্ত যুবক কারুকার্যপূর্ণ রেশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘোরাফেরা করছেন। উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ ফযিলত আপনি কি করে লাভ করলেন? তিনি বললেন, পবিত্র মীলাদ শরীফ উনাকে তাযীম করার কারনে।” (ইয়নাতুল ত্বলেবীন ৩য় খন্ড ৬১৩ পৃষ্ঠা ; প্রকাশনা: দারুল হাদীছ , কাহেরা, মিশর)
উল্লেখ্য যে খলীফা হারুনুর রশীদের যামানা ছিলো খায়রুল কুরুনে। উপরোক্ত ঘটনায় বোঝা যায় সে সময় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের রীতি ছিলো। তাই এক ব্যক্তি তার আমল কিছুটা মন্দ হলেও পবিত্র মীলাদ শরীফ উনাকে তাযীম করাকে মহান আল্লাহ পাক তার মর্যাদার কারণ হিসাবে প্রকাশ করলেন। এবং সম্মানিত ওলী আল্লাহ হিসাবে গ্রহন করলেন। সুবহানাল্লাহ।
সুতরাং উপরোক্ত ঘটনা ও সময়কাল থেকে জ্ঞানী মাত্রই যা বোঝার কথা সেটা হলো, উক্ত ঘটনা খায়রুল কুরনের। আর মীলাদ শরীফ নতুন কোন আমল নয়। বরং পবিত্র ইসলাম উনার প্রথম থেকেই এ আমল চলে আসছে। আর সে কারনে সম্মানিত খায়রুল কুরুনে মীলাদ শরীফ উনার ফযীলত সংশ্লিষ্ট অনেক ক্বওল শরীফ কিতাবে পাওয়া যায়। যেমন সে সময়কার বিখ্যাত ফক্বীহ, শাফেয়ী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেই বলেন,
قَالَ اَلاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ اِخْوَانًا وَهَيَّاَ طَعَامًا وَاَخْلٰى مَكَانًا وَعَمَلَ اِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِقِرَائَتِهٖ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُوْنُ فِىْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ.
অর্থ: ‘যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবীল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে লোকজন একত্রিত করলো, খাদ্য তৈরি করলো, জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক সম্মানিত হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতে নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ। (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ১০ পৃষ্ঠা, মাদরেজুজ সউদ ১৫ পৃষ্ঠা, নাফহতুল আম্বারিয়া ৮ পৃষ্ঠা, ইয়নাতুল ত্বলেবীন ৩য় খন্ড ৬১৩ পৃষ্ঠা)
সুতরাং যারা বলে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবীল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল খায়রুল কুরুনে ছিলো না তারা গন্ডমূর্খ, ইলিমশূন্য। 
বিস্তারিত

সোমবার রাখতে ছাহাবী উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

হাদীছ শরীফে রয়েছে স্বয়ং আখেরী রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে সাহাবীদের আদেশ করেছেন।

বিখ্যাত ইমাম ইবনে আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “উসদুল গবা ফি মা’রিফাতিস সাহাবা” যা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত এর ১ম খন্ড ১২৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,

حَدَّثَنَ حَضْرَتْ مَكْحُوْلْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِبِلَالٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لَا يُغَادِرَنَّكَ صِيَامُ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ، فاِنّـِي وُلِدْتُّ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ، وَاُوْحِيَ اِلَيَّ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ، وَهَاجَرْتُ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ
অর্থ: হযরত মাকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্নিত, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, হে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! আপনি কখনো সোমবার রোজা রাখা পরিত্যাগ করবেন না। কারন আমি সোমবার বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি। এদিন ওহী মুবারক নাযিল হয়, এ দিন হিজরত করি।”

সূতরাং দেখা গেলো স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন উপলক্ষে সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমদের দিবসটি পালন করতে বলতেন। আর বিদয়াতিরা বলে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বিদয়াত।



বিস্তারিত

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (১)

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (১)
বর্তমান সময়ে ইহুদী ফান্ড দ্বারা পরিচালিত ওহাবী, সালাফী, লা’মাযহাবী ফেরকার লোকেরা সমাজে ইচ্ছামত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে জাল, মওজু, দ্বয়ীফ বলে অপপ্রচার করছে। নাউযুবিল্লাহ! তাদের মতবাদের বিপক্ষে মনে হলেই সেটাকে তারা জাল বলছে। আর এ জন্য তারা উছুলে হাদীছ শরীফ উনার বিভিন্ন অপব্যাখ্যার আশ্রয়ও গ্রহন করতে কার্পণ্য করছে না। শত শত বছর ধরে উম্মত যে হাদীছ শরীফ উনার উপর আমল করে আসছে কেউ কোন আপত্তি করে নাই অথচ হাল যামানায় এসব ওহাবীরা হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে জাল! জাল! বলে চিৎকার শুরু করেছে।
তাদের ধারণা পবিত্র বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ ছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্যান্য কিতাবে অনেক জাল বর্ণনা রয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ! তাদের জানা দরকার একজন মুহাদ্দিছ যখন উনার কিতাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন তিনি সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন যাতে কিতাব খানা নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ থাকে। এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বর্ণিত আছে, ‘খলীফা হারুনুর রশিদ (১৪৮-১৯৩ হিজরী) উনার দরবারে একজন মুরতাদকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিলো সে বদকার তখন বললো, 
أَيْنَ أَنْتَ مِنْ أَلْفِ حَدِيْثٍ وَضَعْتُهَا؟
আমাকে মেরে ফেলবেন ভালো কথা, কিন্তু যে এক হাজার জাল হাদীছ লোক সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছি সেগুলো কি করবেন? তখন খলীফা হারুনুর রশিদ বললেন, 
فَأَيْنَ أَنْتَ يَا عَدُوَّ اللهِ مِنْ أَبِي إِسْحَاقَ الفَزَارِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ يَتَخَلَّلاَنِهَا، فَيُخْرِجَانِهَا حَرفاً حَرفاً 
হে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন! আমাদের নিকট হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবু ইসহাক ফাযারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা কি জন্য আছেন? উনারা প্রতিটি জাল শব্দকে ছাকনী দিয়ে  ছেঁকে বেছে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/৭১, মা’রিফাতু উলুমিল হাদীছ ৩৬ পৃষ্ঠা)
এ ঘটনা থেকেই বোঝা গেলো পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ইমামগন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে যাচাই বাছাই করে অনুপ্রবেশকৃত মিথ্যা বর্ণনা কর্তন করে বিশুদ্ধ বর্ণনা আমাদের জন্য কিতাব আকারে সাজিয়ে রেখে গেছেন, এবং কিতাবের ভূমিকায় লিখে গেছেন এই কিতাবে কোন মওজু বর্ণনা নেই। এরপরও সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিচার বিশ্লেষণ হয়েছে, গবেষণা হয়েছে। আর তার উদ্দেশ্য সর্ম্পকেও মুহাদ্দিছীনে কিরামগন স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন,
كان الإسناد لئلا يدخل في الدين ما ليس منه، لا ليخرج ما ثبت من عمل أهل الإسناد
‘সনদ-তো এজন্য যে, শরীয়ত-বহির্ভূত জিনিস যেন সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে অনুপ্রবেশ না করে। ইমামগণ উনাদের মাধ্যমে প্রমাণিত জিনিসকে সম্মানিত শরীয়ত হতে বের করার জন্যে সনদ নয়।’ (আজভিবাহ ২৩৮)
হযরত ইবনে মুহাররায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
على بن المدينى يقول ليس ينبغى لأحد ان يكذب بالحديث اذا جاءه عن النبى صلى الله عليه وان كان مرسلا فإن جماعة كانوا يدفعون حديث الزهرى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من احتجم فى يوم السبت او الأربعاء فأصابه وضح فلا يلومن الا نفسه فكانوا يفعلونه فبلوا منهم عثمان البتى فأصابه الوضح ومنهم عبد الوارث يعنى ابن سعيد التنورى فأصابه الوضح ومنهم ابو داود فأصابه الوضح ومنهم عبد الرحمن فأصابه
অর্থ: আমি হযরত আলী বিন মাদিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি যে, কারো জন্য উচিত নয় যে, সে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার করবে বা মিথ্যা বলবে। হোক তা মুরসাল। একবার কতিপয় লোক ইমাম হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত আরবিয়া বা বুধবারে শিংগা লাগানো সম্পর্কীয় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার করে আরবিয়া বা বুধবারে শিংগা লাগালে মারাত্মক মুছীবতে গ্রেপ্তার হয়। যাদের মধ্যে হযরত উসমান আল্ বাত্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল ওয়ারিস রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে সা’দ তানবুরী রহতুল্লাহি আলাইহি, আবু সাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা প্রমুখ ছিলেন। (মা’রিফাতু রিজাল লি ইয়াহিয়া ইবনে মুঈন ২য় খন্ড ১৯০ পৃষ্ঠা)
আর এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
من حدث عني بحديث يرئ انه كذب فهو احد الكاذبين
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হতে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করলো এবং ধারনা পোষন করলো যে, তা মিথ্যা তাহলে সে মিথ্যাবাদীদের অন্যতম ব্যক্তি। (মুসলিম শরীফ ১/৭, উমদাতুল ক্বারী ৩/২৬৮,  মিশকাত- কিতাবুল ইলম- প্রথম পরিচ্ছেদ- হাদীস ১৮৮)
সুতরাং বোঝা গেলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত করে কেউ কিছু বর্ণনা করলে সেটা ওহাবীদের মত বিনা জ্ঞানে মওযু বা জাল বলে অস্বীকার করলে সে নিজেই মিথ্যাবাদী বলে প্রতিপন্ন হবে। 
বিস্তারিত

খায়রুল কুরুনে ঈদে মিলাদে হাবিবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলিল

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলী আল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন। সুবহানাল্লাহ।
আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত কিতাব “ইয়নাতুল ত্বলেবীনে” বর্ণনা করেন,
أنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مسرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التحقير لاجل أفعاله الخبيثة، غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الاول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرأ فيها مولد النبي ودام على هذا الحال زمانا طويلا، ثم لما مات سمع أهل البلد هاتفا يقول: احضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي، فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه، فرأوه في المنام وهو يرفل في حلل سندس واستبرق، فقيل له بم نلت هذه الفضيلة ؟ قال بتعظيم مولد النبي

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় (১৪৮-১৯৩ হিজরী) বসরাতে এক যুবক ছিলেন যার আমল ভালো ছিলো না। এবং দেশের মানুষও উনাকে ভালো জানতো না। তবে যখন পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস আসতো তখন তিনি কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করেন, ভালো খাবার ব্যবস্থা করতেন এবং মীলাদ শরীফ পাঠ করতেন। অতপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন দেশের জনগণ একটি গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলেন: হে বসরার লোকজন! আসো একজন আল্লাহ পাকের ওলীর দাফন করো। তিনি আমার কাছে প্রিয়। শহরের মানুষ উনার জানাযা পড়লেন ও দাফন করলেন। এবং তারা উনাকে স্বপ্নে দেখলেন এবং উনার মর্যাদা দেখলেন। সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো কিভাবে আপনি এ মর্যাদা অর্জন করলেন? তিনি বলেন পবিত্র মীলাদ শরীফকে সম্মান করার কারনে। (ইয়নাতুল ত্বলেবীন ৩ খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা)

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানা ছিলো খায়রুল কুরুনে। উপরোক্ত ঘটনায় বোঝা যায় সে সময় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের রীতি ছিলো। তাই এক ব্যক্তি তার আমল কিছুটা মন্দ হলেও মীলাদ শরীফ পাঠকে আল্লাহ পাক তার মর্যাদার কারন হিসাবে প্রকাশ করলেন। এবং ওলী আল্লাহ হিসাবে গ্রহন করলেন। সুবহানাল্লাহ।

সূতরাং উপরোক্ত ঘটনা ও সময়কাল থেকে জ্ঞানী মাত্রই যা বোঝার বুঝে যাওয়ার কথা। ধন্যবাদ।

বিস্তারিত

শামসুল হক ফরীদপুরীর মিলাদের পক্ষে রায়

দেওবন্দ সিলসিলার অন্যতম মুরুব্বী, আশরাফ আলী থানবীর অন্যতম খলীফা হচ্ছে শামসুল হক ফরীদপুরী। শামসুল হক ফরীদপুরীর গ্রন্থাবলী নিয়ে রচিত এই বই। এ বইয়ের ২য় খন্ডে ফরীদপুরী সাহেবের “অছিয়তনামা” সংযুক্ত আছে। সেখানে তার একটা বানী হচ্ছে “ উহার একটি শব্দও আল্লাহ ইশারা না পাইয়া লিখি নাই”।
তো আসুন দেখা যাক ফরীদপুরী সাহেব “অছিয়তনামা” অধ্যায়ে আল্লাহ পাকের ইশারায় কি লিখেছেন-
“রসূলের ইশকে মত্ত হইয়া খাড়া হইয়া বা বসিয়া জগল বা কাছিদা পড়াকে , মওলুদ শরীফ পড়া বা পড়ানোকে আমি শুধু জায়িযই মনে করি না বরং অত্যান্ত জরুরী মনে করি। কেননা এই উসিলায় সাধারন লোকে হযরতের জন্মবৃত্তান্ত, জীবনবৃত্তান্ত, সত্য ধর্মের জন্য কষ্ট সহ্যের বৃত্তান্ত এবং রসূলের অন্যান্য গুনাবলি, কার্যাবলী ও সানা সিফত মোযেজাত জানিয়া, রসূলের পরিচয় পাইয়া রসূলকে এবং রসূলের তরীকাকে প্রনাধিক ভালোবাসিতে শিখিবে।” (শামসুল হক ফরীদপুরীর গ্রন্থাবলী ৩৮২)
শামসুল হক ফরীদপুরীর উক্ত ফতোয়া শুনিয়া কওমী দেওবন্দী ভ্রাতাগন কি বলিবেন? আপনারা কি উহাকে বিদয়াত বলিয়া অস্বীকার করিবেন? নাকি আপনাদের মুরুব্বীকে বিদয়াতী জ্ঞান করিবেন?



বিস্তারিত

ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনারা উট জবাই,গম বিতরন করেছেন

আন্ নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফি মাওলিদি সাইয়্যিদি ওয়ালাদি আ’যম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা ছালিছ উর্দূ তরজমাতি মা’য়া ইতেরাযাত কে তাহক্বিক্বী জওয়াবাত আওর তাফছিলী হালাতে মছান্নিফ কে সাত বা’নামে নে’য়মাতে কুবরা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিতাবের ৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
يَوْمَ مَوْلِدِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَبَحَ حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ الصّـِدّيْقُ عَلَيْهِ السَّلَامَ مِائَةَ نَاقَةٍ وَتَصَدَّقَ بِـهَا
অর্থ : “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ১০০ উট যবেহ করতেন এবং তা বিলিয়ে দিতেন।”
উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে-
تَصَدَّقُ حَضْرَتْ اَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فِـىْ ذٰلِكَ بِثَلَاثَةِ اَقْرَاصِ مِنْ شَعِيْرِ
অর্থ : “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ৩ গামলা গম বিলিয়ে দিতেন।”
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জবাই করেছেন, দান-ছদক্বাও করেছেন। 
সুতরাং দেখা গেল যে, মিষ্টি খাওয়া, গরু জবাই করা বা খুশি প্রকাশ করা প্রত্যেকটিই ইসলামী শরীয়ত সিদ্ধ আমল।
বিস্তারিত

তিনি রাখলেন রোযা আর আপনারা করেন ঈদ, আপনারা খান মিষ্টি, গরু জবাই করেন, মিছিল করেন!!!

কিছুদিন পূর্বে ফকেহানী ফেরকার অনুসারী হারামে মশগূল এক বিদ‘য়াতী, বদচরিত্র, নামধারী এক মুফতে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে আলোচনায় বলেছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বার হিসেবে বিলাদত শরীফ পালন করেছেন আর আপনারা পালন করেন তারিখ হিসেবে। তিনি রাখলেন রোযা আর আপনারা করেন ঈদ, আপনারা খান মিষ্টি, গরু জবাই করেন, মিছিল করেন।
তার এই বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে যে, এই নামধারী মুফতে বিলাদত শরীফ পালনকে স্বীকার করে নিয়েছে। যেহেতু বিলাদত শরীফ পালনকে অস্বীকার করা মানে হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা, তাই স্বীকার না করে উপায় কী?

বিলাদত শরীফ পালন করতে হবে, তাই বিলাদত শরীফ পালনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইছনাইনিল আযীম রোযা রাখলেন। এর দ্বারা এটা নির্দিষ্ট করে দেননি যে, বার হিসেবেই পালন করতে হবে এবং রোযাই রাখতে হবে। তারিখ হিসেবে পালন করা যাবে না এবং রোযা ছাড়া অন্য কোন আমল করা যাবে না, এর স্বপক্ষে কোন দলীল কী এই বিদ‘য়াতী মুফতে দেখাতে পারবে?
যেহেতু হাবীবুল্লাহ. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ স্মরণ করে শুকরানা স্বরূপ ইছনাইনিল আযীম রোযা রেখেছেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উক্ত সুন্নত মুবারক পালনার্থে ইছনাইনিল আযীম রোযা রেখেছেন। আর তাই রাজারবাগ দরবার শরীফেও ইছনাইনিল আযীম রোযা রাখা হয়। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু প্রতি ইছনাইনিল আযীম রোযা রাখেননি। 
আবার যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইছনাইনিল আযীম রোযা রেখেছেন কিন্তু পবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ উদযাপন করতে নিষেধ করেননি ও রোযা ছাড়া অন্য কোন আমল করতে নিষেধ করেননি। তাই এ ব্যাপারে কাদিয়ানীদের মতো নতুন কোন শরীয়ত জারী করার অধিকার কারো নেই।
এছাড়াও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস (পবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ)ও উদযাপন করেছেন। 
যেমন আন্ নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফি মাওলিদি সাইয়্যিদি ওয়ালাদি আ’যম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা ছালিছ উর্দূ তরজমাতি মা’য়া ইতেরাযাত কে তাহক্বিক্বী জওয়াবাত আওর তাফছিলী হালাতে মছান্নিফ কে সাত বা’নামে নে’য়মাতে কুবরা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিতাবের ৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
يَوْمَ مَوْلِدِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَبَحَ حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ الصّـِدّيْقُ عَلَيْهِ السَّلَامَ مِائَةَ نَاقَةٍ وَتَصَدَّقَ بِـهَا
অর্থ : “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ১০০ উট যবেহ করতেন এবং তা বিলিয়ে দিতেন।”
উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে-
تَصَدَّقُ حَضْرَتْ اَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فِـىْ ذٰلِكَ بِثَلَاثَةِ اَقْرَاصِ مِنْ شَعِيْرِ
অর্থ : “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ৩ গামলা গম বিলিয়ে দিতেন।”
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জবাই করেছেন, দান-ছদক্বাও করেছেন। 
সুতরাং দেখা গেল যে, মিষ্টি খাওয়া, গরু জবাই করা বা খুশি প্রকাশ করা প্রত্যেকটিই ইসলামী শরীয়ত সিদ্ধ আমল।
উক্ত মুর্খ মুফতের বক্তব্যে যেটা বুঝা যাচ্ছে রোযা হচ্ছে ঈদের বিপরীত বা রোযা ঈদের সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু ইসলামী শরীয়ত কি এভাবেই বিষয়টি ফায়সালা করে দিয়েছে? বরং ইসলামী শরীয়ত বছরে ৫ দিন রোযা রাখা নিষিদ্ধ করেছে। এখন যে কেউ চাইলে এই ৫ দিন বাদ দিয়ে সারা বছরই রোযা রাখতে পারে? তখন কি উক্ত ব্যক্তি উক্ত সময়ে খুশি প্রকাশ বা ঈদ করতে পারবে না? ইসলামী শরীয়ত কি এতে বাধা প্রদান করে?
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ هٰذَا يَوْمُ عِيْدٍ جَعَلَهُ اللهُ لِلْمُسْلِمِيْنَ فَمَنْ جَاءَ اِلَى الْـجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَاِنْ كَانَ طِيْبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسّوَاكِ‏.‏
অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই দিনকে মুসলমান উনাদের জন্য পবিত্র ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুআর নামায আদায় করতে আসবে, তিনি যেন গোসল করেন এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগান। আর মিসওয়াক করাও কর্তব্য।” (ইবনে মাজাহ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১০৯৮, আল্ মু’জামুল আওসাত লিত্ ত্ববারানী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৭৩৫৫)
এখন জুমুয়ার দিন ঈদের দিন হওয়ার কারণে, অন্য কোন কারণে নয়, শুধুমাত্র ঈদের দিন হওয়ার কারণে ইসলামী শরীয়তে জুমুয়ার দিনে কি রোযা রাখা নিষিদ্ধ?
আবার শরীয়ত মুতাবিক আশূরার রোযা রাখার বিধান রয়েছে। এখন যদি আশূরার দিনটি জুমুয়ার দিন হয় তাহলে আশূরার রোযা রাখার কারণে কি জুমুয়ার ঈদের বিধান বাতিল হয়ে যাবে?
আরাফা দিন ঈদের দিন আবার আরাফা দিবসের রোযা পিছনের এক বছরের এবং সামনের এক বছরের গুনাহখতা ক্ষমা হওয়ার কারণ।
এখন আরাফা দিন ঈদের দিন হওয়ার কারণে কি আরাফা দিবসের রোযা রাখা বারণ হবে?
নাকি আরাফা দিবসের রোযা রাখার কারণে আরাফা দিন ঈদের দিন হওয়া বাতিল হবে?
এর উত্তর মূর্খ বিদ‘য়াতী মুফতের কাছে আছে কি?
বিস্তারিত

“নবীজী বিলাদত শরীফ উপলক্ষে রেখেছেন রোজা , আপনারা করেন ঈদ”!!!

 “নবীজী বিলাদত শরীফ উপলক্ষে রেখেছেন রোজা , আপনারা করেন ঈদ”!!!
ওহাবী বিদয়াতীদের একজন আপত্তি করেছে, “নবীজী বিলাদ!!
তাদের এ কথা শুনে মনে হয় রোজা রাখা মনে হয় খুব দুঃখের বিষয়, শোকের বিষয়। তাই সেদিন ঈদ করা যাবেনা। নাউযুবিল্লাহ! তাদের কাছে কেন জানি ঈদ ও রোজা সাংঘর্ষিক মনে হয়। মূলত রোজা রাখা কোন দুঃখের বিষয় নয় বরং রোজা রাখাও ঈদ বা খুশির অংশ। হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানি পবিত্র আরাফার দিন হচ্ছে ঈদের দিন। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ وَيَوْمَ النَّحْرِ وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ
অর্থ: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আরাফার দিন, নহর বা কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক (অর্থ্যাৎ ১১, ১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। (দলীল: নাসাঈ শরীফ কিতাবুল হজ্জ : হাদীস নম্বার ৩০০৪, আবু দাউদ – কিতাবুছ সিয়াম : হাদীস ২৪১৯, তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ৭৭৩)
আর আরাফা হচ্ছে ৯ যিলহজ্জ শরীফ। যেদিন রোজা রাখার অনেক ফযিলত হাদীছ শরীফে আছে। যিলহজ্জ মাসে প্রথম ১০ দিন রোজা রাখার ফযীলতও হাদীছ শরীফে আছে। সূতরাং রোজা ও ঈদ সাংঘর্ষিক কোন আমল নয়। আরাফার দিনে রোজা রাখার মাধ্যমে ঈদ পালন হচ্ছে।
সবাই জানে জুমুয়ার দিন হচ্ছে ঈদের দিন। উল্লেখ্য যে রমজান মাসের জুমার দিনসমূহে যে রোজা রাখা হয় বিদয়াতিদের বক্তব্য মোতাবেক সেদিন কি ঈদের দিন বাদ যাবে? নাকি সেদিন কি রোজা রাখা বন্ধ রাখতে হবে?
অনুরুপভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন যদি সোমবার হয় তাহলে কি সেদিন ঈদ বাদ দিয়ে রোজা রাখতে হবে?
হাদিস শরীফে ৫ দিন রোজার রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। উক্ত পাঁচদিনের কোনদিন যদি সোমবার পড়ে; সেদিন কি বিদয়াতিরা রোজা রাখবে? রোজা রাখলে শরীয়তে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? বিদয়াতিরা এসব প্রশ্নের কি জবাব দেবে?
নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ- এ বিষয়ে বলতে হয়, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের দিন ঈদ পালন আমরা নতুন করছি না। বরং মুসলিম জাহানের সবাই ঈদ পালন করে আসছেন। বিশ্ববিখ্যাত কিতাব ‘মাওয়াহিবু লাদুন্যিয়াহ’ কিতাবে ১ম খন্ড ৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
ولا زال أهل الإسلام يحتفلون بشهر مولده عليه السلام، ويعملون الولائم، ويتصدقون في لياليه بأنواع الصدقات، ويظهرون السرور، ويزيدون في المبرات، ويعتنون بقراءة مولده الكريم، ويظهر عليهم من بركاته كل فضل عميم. ومما جرب من خواصه أنه أمان في ذلك العام، وبشرى عاجلة بنيل البغية والمرام، فرحم الله امرءا اتخذ ليالي شهر مولده المبارك أعيادا، ليكون أشد علة على من في قلبه مرض وإعياء داء".
অর্থ: সব সময়ই মুসলমানগন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এ উপলক্ষ্যে দাওয়াতের ব্যবস্থা করে এবং রবিউল আউয়াল মাসের রাতগুলোতে সকলে সাধ্যানুযায়ী দান সদকাহ করে। খুশি প্রকাশের পাশা পাশি অধিকহারে নেক আমল ও মীলাদ শরীফ উদযাপন করে। এভাবে প্রত্যেক মুসলামান মীলাদ শরীফ উনার বরকত সমূহের ফয়েজ ও প্রেরনা লাভ করে। পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের পরীলক্ষিত উপকারীতার মধ্যে একটি এই যে , যে বছর পবিত্র মীলাদ শরীফ উদযাপন করা হয় সে বছর শান্তি কায়েম থাকে। তাছাড়া নেক মকছুদ এবং অন্তরের আকাঙ্খা দ্রুত পূর্ণ হওয়ার খোশ খবর প্রদান করে। সূতরাং আল্লাহ পাক সে ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাস উনার রাত গুলোকে ঈদ হিসাবে উদযাপন করে, তার কঠিন রোগকে বাড়িয়ে তুলেছে, যার অন্তরে রোগ দানা বেধেঁ রয়েছে।”
“হাদায়েকুল আনোয়ার” ৫৩ পৃষ্ঠায় আরো বর্নিত আছে
فحقيقٌ بيومٍ كانَ فيه وجودُ المصطفى صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَّخذَ عيدًا، وخَليقٌ بوقتٍ أَسفرتْ فيه غُرَّتُهُ أن يُعقَد طالِعًا سعيدًا،
অর্থ: এ দিনের প্রকৃত অবস্থান হলো , যেহেতু এদিন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ হয়েছে তাই এ দিন ঈদ উদযাপন করাই হচ্ছে প্রকৃত দাবী। এদিনের এক শুভক্ষনেই তো সেই আলোকিত মহা উজ্জল চেহারা মুবারক পৃথিবী দর্শন করেছে তবে কেন ঈদ হবে না?
সূতরাং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোজ রেখেছেন আর উম্মত হয়ে আপনারা ঈদ করছেন এমন অহেতুক কথা যারা বলে তারা মূলত মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
বিস্তারিত