পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র ‘মীলাদ’ শব্দ মুবারক উনার ব্যবহার

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র ‘মীলাদ’ শব্দ মুবারক উনার ব্যবহার


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত মীলাদ শব্দ মুবারক :

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَـمُوْتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ : আর (হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম) উনার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আর যেদিন তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর যেদিন উনাকে পুনরুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায়।সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

অনুরূপভাবে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিজের বক্তব্য মুবারক উল্লেখ করে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَالسَّلَامُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدْتُّ وَيَوْمَ اَمُوْتُ وَيَوْمَ اُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ : আমার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন আমি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করি, যেদিন আমি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবো এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

সুতরাং মূল অক্ষরে وُلِدْتُّ শব্দ মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে; যার অর্থ বিলাদত শরীফ গ্রহণ বা যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ। সাধারণ বাংলায় যাকে বলা জন্মগ্রহণ করা। এ শব্দ মুবারক প্রমাণ করে মীলাদের মূল অস্তিত্ব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَـمْ يَلِدْ وَّلَـمْ يُوْلَدْ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি কারো থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেননি বা জন্মগ্রহণ করেননি এবং কাউকে জন্ম দেননি।” (পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)

মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিলাদত শরীফ গ্রহণ করা বা কাউকে জন্ম দেয়া উনার শান মুবারক উনার খিলাফ। তথাপি এখানে يُوْلَدْيَلِدْ শব্দ মুবারক দ্বারা বিলাদত শরীফ বা জন্মগ্রহণ বুঝানো হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ
অর্থ : শপথ জনকের এবং যা জন্ম দেয়।” (পবিত্র সূরা বালাদ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও وَلَدَوَالِدٍ শব্দ মুবারক দ্বারা বিলাদত শরীফ বিষয়ে বুঝানো হয়েছে।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মীলাদ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ মুবারক এক নজরে ছক আকারে দেখানো হলো-
ক্রম    পবিত্র আয়াত শরীফ  শব্দ মুবারক
      وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَـمُوْتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا      وُلِدَ
      وَالسَّلَامُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدْتُّ وَيَوْمَ اَمُوْتُ وَيَوْمَ اُبْعَثُ حَيًّا     وُلِدتُّ
      لَـمْ يَلِدْ وَلَـمْ يُوْلَدْ   يَلِدْيُوْلَدْ
      وَوَالِدٍ وَمَا وَلَدَ     وَالِدٍوَلَدَ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত মীলাদ শব্দ মুবারক :

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنِ حَضْرَتْ الـمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدّهٖ قَالَ وُلِدْتُّ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ وَسَاَلَ حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامَ قُبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ اَخَا بَنِيْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ اَاَنْتَ اَكْبَرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَرُ مِنّي وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ.
অর্থ : হযরত মুত্তালিব ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে এবং উনার পিতা উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাতীর বছরেপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আমিও সেই হাতীর বছরেই পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কুবাস বিন আশিয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে প্রশ্ন করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় না আপনি বড়? তিনি উত্তরে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার থেকে বড়, আর আমি উনার পূর্বে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি।” (তিরমিযী শরীফ, হযরত আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৭৯ হিঃ), আস সুনান, প্রকাশনা- বৈরুত, দারু ইহ্য়ায়িত তুরাসিল আরাবী, হাদীছ শরীফ নং ৩৬১৯)

আবার অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بِـهٰذَا الْـحَدِيْثِ زَادَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمِ الْـخَمِيْسِ قَالَ ‏فِيْهِ وُلِدْتُّ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ الْقُرْاٰنُ.
অর্থ : হযরত আবূ ক্বাতাদা আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ¦মীস রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন (ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ) আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি, আর এদিনই আমার উপর ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭, আবূ দাঊদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৪২৮, সুনানে কুবরা লি বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮২১৭, ইবনে খুজাইমা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২১১৭, মুসনাদে আবি আওয়ানা : হাদীছ শরীফ নং ২৯২৬, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২২৬০৩)

আবার অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مَوْلُودٍ اِلَّا يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ‏.
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক শিশু তার স্বভাবের উপর জন্মলাভ করে।” (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ক্বদর : বাবু মানা কুল্লি মাওলুদিন ইউলাদু আলাল ফিতরাতি ওয়া হুকমি মাওতি আত্বফালিল কুফফারি ওয়া আত্বফালিল মুসলিমীন : হাদীছ শরীফ নং ২৬৫৮)

সুতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মাওলুদশব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্রের হযরত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা স্ব স্ব কিতাবে মীলাদ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যেমন-
১. বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত আবূ ঈসা মুহম্মদ ইবনু ঈসা তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (হিজরী ২৭৯) তিনি উনার বিখ্যাত কিতাব জামে তিরমিযী শরীফ উনার ২য় খ-ের ২০৩ পৃষ্ঠায় একটি শিরোনাম রচনা করে নাম দিয়েছেন-
بَابُ مَا جَاءَ فِىْ مِيْلَادِ النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থাৎ যা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সম্পর্কে এসেছে। এখানে তিনি মীলাদুন নবীশব্দটি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সংক্রান্ত বিষয় বুঝাতে ব্যবহার করেছেন।

২. ইমাম হযরত বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৪৫৮ হিজরী) তিনি উনার বিখ্যাত সীরাত সংক্রান্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব দালায়িলুন নুবুওওয়াতনামক কিতাবের ১ম খ-ের ৪৯ পৃষ্ঠায়
اَبْوَابُ مِيْلَادِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
শীর্ষক একটি অধ্যায় এনেছেন, যেখানে স্পষ্ট মীলাদে রসূলশব্দটি উল্লেখ করেছেন।
যেখানে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার বৃত্তান্ত (জীবন বৃত্তান্ত মুবারক) মুবারক আলোচনা করেছেন।

সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হযরত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের স্পষ্ট দলীল দ্বারাই মীলাদ ও মীলাদুন নবী শব্দ মুবারক উনার প্রমাণ পাওয়া গেলো। সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ মীলাদুন নবীশব্দ মুবারক উনার শরয়ী সুস্পষ্ট ভিত্তি বিদ্যমান।

যেহেতু মীলাদুন নবীশব্দ মুবারক উনার সুস্পষ্ট শরয়ী ভিত্তি বিদ্যমান। আর এই শব্দ মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টি বুঝানো হয়।

আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে বান্দা-বান্দিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি প্রকাশ করতে আদেশ মুবারক করেছেন। সুতরাং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক গ্রহণ উপলক্ষ্যে খুশি মুবারক প্রকাশ করাকেই বলা হয় ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থাৎ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার শরয়ী ভিত্তি অবশ্যই রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

বিস্তারিত

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (৩)

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (৩)

আসমাউর রিজালসমূহের কিতাব থেকে নফসানিয়াত অনুযায়ী বক্তব্য উল্লেখ করে ওহাবী সালাফীরা যেভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়:
برد بن سنان وثقه ابن معين ، والنساءي ، وضعفه ابن المديني قال ابو حاتم : ليس بالمتين. وقال مرة: كان صدوقا قدرياوقال ابو زرعة : لا بأس به وقال ابو داود، يرمي بلقدر
অর্থ: হযরত বুরাদ ইবনে সিনান রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সর্ম্পকে ইমাম ইবনে মুঈন ও হযরত নাসাঈ  রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, তিনি ছিক্বাহ। হযরত ইবনে মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি দুর্বল। হযরত আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মজবুত নন । হযরত মুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি সত্যবাদী এবং শক্তিশালী। ইমাম আবু যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার কোন সমস্যা নাই। ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দূরে নিক্ষেপ করতে হবে। (মিযানুল ইতিদাল ২/১১: রাবী নং ১১৪৭)
হযরত বুরাদ ইবনে সিনান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাপারে হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দুজন উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। অপরদিকে হযরত ইবনে মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দুর্বল। অর্থাৎ কেউ জারাহ করেছেন, আবার কেই তা’দীল করেছেন। এখানে মতপার্থক্য দেখা গেলো।
بشير بن ثابت
وثقه ابن حبان
وقال ابو حاتم : مجهول
অর্থ: হযরত বশির ইবনে সাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন ‘মাজহুল’ বা অপরিচিত। (মিযানুল ইতিদাল ২/২৪: রাবী নং ১১৮৯)
এখানেও আমারা দুজন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রিজাল বিশারদের মধ্যে ইখতেলাফ দেখতে পেলাম। একজনের কাছে হযরত বশির ইবনে ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিক্বাহ বা বিশ্বস্ত আবার অন্য একজন ইমামের কাছে সেই রাবীই মজহুল বা অপরিচিত।
بشير بن المهاجر
وثقه ابن معين وغيره
وقال النسائى : ليس به باس
وقال احمد: منكر الحديث يجيء بالعجب وقال ابو حاتم: لا يحتج به
وقال ابن عدي : فيه بعض الضعف
অর্থ: হযরত বশির ইবনে মুহাজির রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও অন্য ইমামগন উনারা ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আশ্চর্যজনক ভাবে মুনকার বর্ণনা করেন। আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনার সম্পর্কে আপত্তি নেই। হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনার সামান্য দুর্বলতা আছে। (মিযানুল ইতিদাল ২/৪৩: ১২৪৫)
এখানে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দুজন এই রাবী সর্ম্পকে জারাহ করেছেন। অন্যরা তা’দীল বা প্রশংসা করেছেন।
بكر بن بكار
قال النسائى : ليس بثقة
وقال ابو معين : ليس بشىء 
وقال ابو عاصم النبيل : ثقة
وقال ابن حبان : ثقة، ربما يخطىء. وقال ابو حاتم : ليس بالقوى
অর্থ: হযরত বকর ইবনে বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম হযরত নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি ছিক্বাহ নন। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি, তার ব্যাপারে কোন আপত্তি নাই। হযরত আবু আছিম আন নাবিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশ্বস্ত। হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, ছিক্বাহ, সম্ভবত তিনি তা নন। ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি শক্তিশালী নন। (মিযানুল ইতিদাল ২/৫৮-৫৯: ১২৭৭)
এখানেও ইমাম উনাদের জারাহ ও তা’দীল নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কেউ ছিক্বাহ বলেছেন, কেউ শক্তিশালী নন বলেছেন।
حريث بن السائب البصرى
وثقه ابن معين
وقال ابو حاتم: ما به باس
وقال زكريا الساجي : ضعيف
অর্থ: হযরত হারিছ বিন সায়িব আল বাছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। হযরত আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সমস্যাযুক্ত। হযরত যাকারিয়া আস সাজী তিনি বলেন, তিনি দ্বয়ীফ বা দুর্বল। (মিযানুল ইতিদাল ২/২১৭: ১৭৯০)
উক্ত রাবী সর্ম্পকেও ইমামগণ উনাদের পক্ষে বিপক্ষে মত রয়েছে। এরকম ভাবে তাহযিবুল কামাল, তাহযীবুত তাহযীব, তাকরীবুত তাহযীব সহ অনেক আসমাউর রিজাল উনার কিতাবে মতপার্থক্য বর্ণিত আছে। এখানে দেখানোর যে বিষয় সেটা হলো, কোন একজন রাবী সর্ম্পকে একেক ইমাম উনার একেক মতামত থাকে কেউ 
জারাহ করেন, কেউ তা’দীল। ওহাবী সালাফীরা কোন হাদীছ শরীফ উনাকে মওজু অথবা দ্বয়ীফ প্রমাণ করতে শুধুমাত্র যে রাবী সর্ম্পকে জারাহ বা আপত্তি করা হয়েছে তার বর্ণনাটা পেশ করে। তারা বলে অমুক ইমাম এই রাবীকে জারাহ করেছে তাই এটা গ্রহনযোগ্য নয়, কিন্তু কেউ যে প্রশংসাও করেছেন সে কথা ভুলেও উল্লেখ করে না। আর সাধারন মানুষও যেহেতু উছুল জানে না সেই সাথে রিজালের কিতাব জীবনে চোখেও দেখেনি তাই তারাও সেটা মেনে নিয়ে গোমরাহ হয়। নাউযুবিল্লাহ!
বিস্তারিত

স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফযিলত বর্ননা করেছেন

স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফযিলত বর্ননা করেছেন
১) হাদীছ শরীফ মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে, 
قَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْع الْاَوَّلِ بِاتِّـخَاذِهٖ فِيْهَا طَعَامًا كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ اِكْرَامًا فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْمَرَ فِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ
অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ানের মাধ্যমে আমার বিলাদত শরীফ ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ রাত (ও দিবস) উনাকে সম্মান করবেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি ইয়াতীমদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমান লাল স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! ( নে’মতে কুবরা উর্দূ ১১ পৃষ্ঠা)

২) হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে,
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ كُنْتُ شَفِيْعًا لَّهٗ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ تَعَالـٰى
অর্থ: “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ (ঈদে মীলাদে হাবীবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে সম্মান করবেন, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ পালন উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!” )নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ ১৫ পৃ., তালহীনুছ ছাননাজ ৫ পৃষ্ঠা)
বিস্তারিত

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (২)

উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (২)

সাইয়্যিদুল, মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ حَدَّثَ بِحَدِيثٍ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে (ছহীহ বিচার-বিশ্লেষনন ছাড়াই) অভিমত পোষণ করে যে, এই হাদীছ শরীফখানা মওজু বা মিথ্যা সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদীদের অর্ন্তভূক্ত। (মুসনাদে আহমদ ৪/২৫৫: হাদীছ নং ১৮২৬৬, শরহুস সুন্নহ ১/২৬৬: হাদীছ ১২৩, মুসনাদে আবু যায়িদ ১/৩০৬: হাদীছ ২০৬৭,  শুয়াবুল ঈমান-মুকাদ্দিমা ১/৮৪, তাফসিরে ইবনে কাছীর ২/৩৬৬)

অপর এক বর্ণনায় এসেছে-
بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، وَلاَ حَرَجَ ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: আমার পক্ষ হতে লোকদের নিকট পৌঁছাতে থাক, যদিও তা একটি মাত্র বাক্য হয়। আর বণী ইসরাঈল হতে শোনা কথা বর্ণনা করতে পারো, তাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে করে নেয়। (বুখারী শরীফ ৩৪৬১, তিরমিযী শরীফ ২৬৬৯, মুসনাদে আহমদ ৬৮৮৮, মুসনাদে বাযযার ৮৭৬৩, মু’জামুল কবীর তাবরানী ১৫২৫, সুনানে দারিমী ৫৪২)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা থেকে বোঝা গেলো যে, বণী ইসরাঈল বা ইহুদী সম্প্রদায়ও যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত নিয়ে কিছু বলে তা অস্বীকার করা যাবে না বরং কেউ যদি মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে নিয়ে আসে তার শাস্তির জন্য জাহান্নাম রয়েছে। তাই ওহাবীদের প্ররোচনায় কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ দেখলেই তার বিরোধিতা করা যাবেনা, বরং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার উলামায়ে কিরাম কি ফায়ছালা দিয়েছেন , কোন আমল চলে আসছে সেটার উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।
ইলমে হাদীছ শরীফ উনাকে মূলত দ্ইুভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়। ১) রিওয়াহ সংশ্লিষ্ট ইলিম যা সনদ অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা, রাবীদের অবস্থা, স্মরনশক্তি, যোগ্যতা ইত্যাদি ২) দিরায়াহ বা নিয়ম কানুন মূলনীতি ভাবার্থ ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট ইলিম।
হাফিযে হাদীছ হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব “তাদরীবুর রাবীতে” বর্ণিত আছে, ইলমে হাদীছ শরীফ উনার ৭৩ টা শাখা আছে। প্রত্যেকটা শাখায় রয়েছে আরো অসংখ্য প্রকারভেদ। আর ইমাম হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দ্বয়ীফ সনদের প্রকারভেদই করেছেন ৪৯ প্রকার। সূতরাং এই শাস্ত্র কতটা ব্যাপক আর জটিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে জারাহ এবং তা’দীল সংশ্লিষ্ট জ্ঞান, যা অনেক সুক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর। জারাহ (جرح) হচ্ছে রবীর সমালোচনা করা, দোষ প্রকাশ করা, ত্রুটি অন্বেষন করা। আর তা’দীল (تعديل) হচ্ছে প্রশংসা করা, নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করা, বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেয়া ইত্যাদি।  বক্ষ্যমান আলোচনায় জারাহ ওয়াত তা’দীল সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষন ও সেই সাথে ওহাবী সালাফীরা যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ধোঁকাবাজী করে তার নমুনা ও সেই ধোঁকাবাজীর রহস্য উন্মোচন করা হবে ইনাশআল্লাহ।

বিস্তারিত

রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিল একটি বিরল ঘটনা

রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিল একটি বিরল ঘটনা

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ فِيْهِ وُلِدْتُ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ‏.‏
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখার ব্যাপারে সুওয়াল মুবারক করা হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই দিন আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি এবং ওই দিন আমার উপর (পবিত্র কুরআন শরীফ) নাযিল হয়েছে।” (মুসলমি শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু যিকরি ইখতিলাফি ‘আলা মূসা ইবনে ত্বলহা ফীল খাবারি ফী ছিয়ামি ছালাছাতি আইয়্যামিন মিনাশ শাহ্রি: হাদীছ শরীফ নং ২৬৪০)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ হতে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখতেন।
এখন আরবী মাসের হিসাব অনুযায়ী,বছরে ৫০ সপ্তাহ হয়ে থাকে। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বছরের প্রত্যেক সপ্তাহে রোযা মুবারক রাখতেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ أَرْبَعٌ لَـمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো- পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা ও পবিত্র ফজর নামাযের পূর্বের দু’রাকয়াত নামায।” (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিন কুল্লি শাহ্রিন ওয়া যিকরিখ তিরাফিন নাক্বিলীনা লিলখ¦াবারি ফী যালিক; আহমদ শরীফ; হাকিম শরীফ)
সুতরাং অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, যা সারাবছরে কখনোই ছাড়তেন না। যেহেতু প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, তাই উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেত আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেত। অর্থাৎ বছরের প্রত্যেক সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযার দিন পড়তো না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন যে রোযা মুবারক রাখতেন, উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেত আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেত। কেননা এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ هُنَيْدَةَ الْـخُزَاعِيَّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَلَيْهَا السَّلَامَ سَـمِعْتُهَا تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ.
অর্থ: “হযরত হুনাইদা খুজায়িয়্যা রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার থেকে শুনেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তারপর ইয়াওমুল খ্বমীস এবং তার পরবর্তী ইয়াওমুল খ্বমীস।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিং কুল্লি শাহরিন ওয়া যিকরিখতিলাফিন নাক্বিলীনা লিল খাবারি ফী যালিক : হাদীছ শরীফ নং ২৪১৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُوْمُ ثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ مِنْ اَوَّلِ الشَّهْرِ وَالْـخَمِيْسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ ثُـمَّ الْـخَمِيْسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তার পরবর্তী সপ্তাহে ইয়াওমুল খ্বমীস এবং তার পরবর্তী সপ্তাহে ইয়াওমুল খ্বমীস।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিং কুল্লি শাহরিন ওয়া যিকরিখতিলাফিন নাক্বিলীনা লিল খাবারি ফী যালিক : হাদীছ শরীফ নং ২৪১৪)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الْـخَمِيْسِ وَيَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَمِنَ الْـجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম ইয়াওমুল খ্বমীস, তারপর ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ এবং তার পরবতী ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ছাওমিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : হাদীছ শরীফ নং ২৩৬৬)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ اُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ اَيَّامٍ الاِثْنَيْنِ وَالْـخَمِيْسَ مِنْ هٰذِهِ الْـجُمُعَةِ وَالاِثْنَيْنِ مِنَ الْمُقْبِلَةِ.‏
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। (প্রথম সপ্তাহে) ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ্বমীস এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (নাসায়ী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ছাওমিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : হাদীছ শরীফ নং ২৩৬৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالاَحَدَ وَالاِثْنَيْنِ وَمِنَ الشَّهْرِ الاٰخَرِ الثُّلَاثَاءَ وَالاَرْبِعَاءَ وَالْـخَمِيسَ‏.‏ 
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো মাসে ইয়াওমুস সাব্ত, ইয়াওমুল আহাদ ও  ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ আবার কোনো মাসে ইয়াওমুছ ছুলাছা, ইয়াওমুল আরবিয়া ও ইয়াওমুল খমীস রোযা মুবারক রাখতেন।” (তিরমিযী শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু মা-জায়া ফী ছাওমি ইয়ামুল ইছনাইন ওয়া খ্বমীস : হাদীছ শরীফ নং ৭৪৬)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন যে রোযা মুবারক রাখতেন, উক্ত তিন দিনের রোযা মুবারক সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে রোযা মুবারক রাখার পদ্ধতি নিচের সারণীতে দেখানো হলো-

সপ্তাহ ১ম পদ্ধতি ২য় পদ্ধতি ৩য় পদ্ধতি ৪র্থ পদ্ধতি ৫ম পদ্ধতি ফলাফল
১ম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ
ও ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুস সাব্ত ইয়াওমুছ ছুলাছা ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ১ম সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
২য় ইয়াওমুল খ্বমীস ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ ইয়াওমুল আরবিয়া ১ম, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ২য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
৩য় ইয়াওমুল খ্বমীস - ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইয়াওমুল খ্বমীস ১ম, ২য় ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা রাখলে ৩য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।
৪র্থ - - - - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম কোন পদ্ধতিতেই ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না।

সুতরাং মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখার পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা দেখা গেল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মাসে ১ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম সপ্তাহ ছাড়া বাকি ৩ সপ্তাহে কোন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ৫ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের কোন সপ্তাহেই ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ২য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। অনুরূপভাবে যে মাসে ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। আর ৪র্থ পদ্ধতিতে ৩য় সপ্তাহ ছাড়া অন্য ৩ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি।
প্রত্যেক সপ্তাহে বার যেহেতু ৭টি, তাই কোন একটি মাস শুরু হওয়ার ক্ষেত্রেও ৭টি পদ্ধতি অনুসারেই হবে। নিচের সারণীতে তা তুলে ধরা হলো- 


সপ্তাহ তারিখ মাস শুরু হওয়ার বার
১ম ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
জুমুয়া সাবত আহাদ
ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া
আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত
২য় ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ
ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
১০ আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
১১ খ্বমীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
১২ জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস
১৩ সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া
১৪ আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ্বমীস জুমুয়া সাবত


উপরের সারণী হতে দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সুযোগ তখনই হয় যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
এখন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ১ম, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা মুবারক রাখলেও এই ৩টি পদ্ধতিতে যেহেতু ২য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না। তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। শুধুমাত্র রোযা মুবারক রাখার ক্ষেত্রে ২য় ও ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করলেই কেবল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাও যদি মাসটি ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার এবং সে দিন রোযা হওয়ার সম্ভাবনার সাথে ২টি শর্ত সম্পর্কিত-
১. যদি মাসটি ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হয়।
২. যদি ২য় বা ৩য় পদ্ধতি অবলম্বনে রোযা রাখা হয়।
এই ২টি শর্ত একত্রে পূরণ না হলে কখনোই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তাহলে প্রমাণিত হলো যে, যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ্বমীস দিয়ে শুরু হলে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে ২য় সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা হয় এই পদ্ধতিতে রোযা রাখলেই কেবলমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যে রোযা রাখতেন উক্ত রোযা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়া ছিল একটি বিরল ঘটনা।

তাহলে যারা বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রাখতেন রোযা, আর আপনারা করেন ঈদ এবং তিনি নির্ধারণ করলেন বার আর আপনারা নির্ধারণ করেন তারিখ। তাদের বক্তব্যে জবাবে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ করে ঈদ উদযাপনে যেমন কোন বাধা নেই, ঠিক তেমনি বার নির্ধারণ করে রোযা পালনের মধ্যেও রয়েছে এক মহান সুন্নত।

বিস্তারিত