হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের তারিখ মুবারক ১২ তারিখ নয় বরং ৯ তারিখ অপপ্রচারের জওয়াব

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের তারিখ মুবারক ১২ তারিখ নয় বরং ৯ তারিখ  অপপ্রচারের জওয়াব
জওয়াব : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ মুবারক নিয়ে কোন ইখতিলাফ বা মতভেদ নেই।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ সম্পর্কে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই জানতেন এবং তা বর্ণনাও করেছেন।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের তারিখ- ৯ তারিখ নয় বরং ১২ তারিখ। 
এ প্রসঙ্গে হাফিয হযরত আবূ বকর ইবনে আবী শায়বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ সনদ সহকারে বছর ও বার উল্লেখপূর্বক সুস্পষ্টভাবেই বর্ণনা করেছেন যে, পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ।
দলীল
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنِ حَضْرَتِ الـمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدّهٖ قَالَ وُلِدْتُ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ وَسَاَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامَ قُبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ اَخَا بَنِيْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ اَاَنْتَ اَكْبَرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَرُ مِنِّي وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ.
অর্থ : “হযরত মুত্তালিব ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে এবং উনার পিতা উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “হাতীর বছরে” বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আমিও সেই হাতীর বছরেই বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কুবাস বিন আশিয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে প্রশ্ন করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় না আপনি বড়? তিনি উত্তরে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার থেকে বড়, আর আমি উনার পূর্বে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি।” (তিরমিযী শরীফ, হযরত আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৭৯ হিঃ), আস সুনান, প্রকাশনা- বৈরুত, দারু ইহ্য়ায়িত তুরাসিল আরাবী, হাদীছ শরীফ নং ৩৬১৯)
আবার অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بِـهٰذَا الْـحَدِيْثِ زَادَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمِ الْـخَمِيْسِ قَالَ ‏فِيْهِ وُلِدْتُّ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ الْقُرْاٰنُ.
অর্থ : “হযরত আবূ কাতাদা আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ¦মীস রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন (ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ) আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি, আর এদিনই আমার উপর ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭, আবূ দাঊদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৪২৮, সুনানে কুবরা লি বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮২১৭, ইবনে খুজাইমা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২১১৭, মুসনাদে আবি আওয়ানা : হাদীছ শরীফ নং ২৯২৬, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২২৬০৩)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফদ্বয় উনাদের বর্ণনা থেকে এটা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন বছর হিসেবে ‘হাতীর বছর’ আর সাপ্তাহিক বার হিসেবে ‘ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ’।

আর অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَفَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَلِيْمِ بْنِ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ مِينَا رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيّ وَحَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِـيْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعٍ الْاَوَّلِ.
অর্থ : “হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত সালিম বিন হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হস্তি বাহিনী বর্ষের মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হয়েছিল।” সুবহানাল্লাহ! (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাতহির রব্বানী, আছ ছিহ্হাহ্ ওয়াল মাশাহীর ১ম খ- ২৬৭ পৃষ্ঠা)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার সনদের মধ্যে প্রথম বর্ণনাকারী হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণ উনারা বলেছেন, “তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য ইমাম, প্রবল স্মরণশক্তি ও দৃঢ়প্রত্যয় সম্পন্ন ব্যক্তি।” (খুলাছাতুত তাহযীব শরীফ)
“দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণনাকারী যথাক্রমে হযরত সালিম বিন হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারাও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।” (খুলাছাহ শরীফ, তাক্বরীব শরীফ)
সনদের উপরের দুজন তো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের তো কোন তুলনাই নেই। অপর তিন জন রাবী হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সলিম ইবনে হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে রেজালের কিতাবে বলা হয়েছে উনারা উচ্চ পর্যায়ের নির্ভযোগ্য ইমাম, সিকাহ, তীক্ষè স্মরণশক্তিসম্পন্ন, বিশস্ত এবং নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।’’ (খুলাছাতুত তাহযীব ২৬৮ পৃষ্ঠা, ত্বাকরীবুত তাহযীব ২য় খন্ড ১২৬ পৃষ্ঠা, সমূহ রেজালের কিতাব)
আর হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা দু’জন উচ্চ পর্যায়ের ফক্বীহ ছাহাবী। উনাদের বিশুদ্ধ সনদ সহকারে বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, “মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।”
এ ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উপরই হযরত ইমামগণ উনাদের ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সীরাত-ই-হালবিয়াহ শরীফ, যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব শরীফ, মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ শরীফ ইত্যাদি)
উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের তারিখ মুবারক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জানতেন।
তাহলে ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের তারিখ মুবারক সম্পর্কে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জানতেন না’ বলা কত বড় মিথ্যাচার তা সহজেই অনুধাবনীয়। যা অসংখ্য হাদীছ শরীফ অস্বীকারের নামান্তর।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনের সুসংবাদ প্রত্যেক যামানায় প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে জিন-ইনসানকে প্রদান করেছেন। এমনকি আলমে আরওয়াহতেও মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে ওয়াদা মুবারক নিয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্ব বিষয়ে উনারা খিদমত মুবারক করবেন।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 
وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ النَّبِيّيْنَ لَمَا اٰتَيْتُكُم مّنْ كِتَابٍ وَّحِكْمَةٍ ثُـمَّ جَاءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدّقٌ لّمَا مَعَكُمْ لَـتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ ۚ قَالَ اَاَقْرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِي ۖقَالُوْا اَقْرَرْنَا ۚ قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُم مّنَ الشَّاهِدِيْنَ ◌ 
অর্থ : “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আপনাদেরকে আমি কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ব বিষয়ে উনার খিদমত মুবারক করবেন। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে সকলে বললেন, হ্যাঁ আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করলাম। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে প্রদত্ত ওয়াদা মুবারক অনুযায়ী প্রত্যেক যামানায় প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনের সুসংবাদ মুবারক প্রদান করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ উল্লেখ করে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمُبَشّرً‌ا ۢبِرَ‌سُوْلٍ يَّأْتِـيْ مِنْ ۢبَعْدِي اسْـمُهٗ اَحْـمَدُ.
অর্থ : “আমি এমন একজন সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনের সুসংবাদদানকারী, যিনি আমার পরে পৃথিবীতে তাশরীফ মুবারক আনবেন, উনার সুমহান নাম মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (পবিত্র সূরা ছফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনের ভবিষ্যতদ্বাণী ছহিবে তাওরাত শরীফ, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে জানিয়েছেন। আর পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মাধ্যমে পরবর্তী ইয়াহূদী সম্প্রদায় এই ভবিষ্যতদ্বাণী জেনে বছরের পর বছর সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করতে থাকে শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক হাছিল করার জন্য।
তাহলে যে বিষয়টি আবুল বাশার হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে গিয়েছেন। সে বিষয়টি অর্র্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক নেয়ার বিষয়টি, উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জানতেন না এ কথাটি কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। এটি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সুস্পষ্ট অপবাদ বৈ কিছুই নয়।
শুধু তাই নয় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্য সনদেও এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ আছে। ইমাম হযরত হাকিম নিশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে উনার কিতাবে উল্লেখ করেন-
عَنْ حَضْرَتْ مُـحَمَّدِ بْنِ اِسْحَاقَ رَحـْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِاِثْنَتَيْ عَشَرَ لَيْلَةٍ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ

অর্থ : “হযরত মুহম্মদ ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (মুস্তাদরাক লিল হাকিম শরীফ ৪র্থ খ-, ১৫৬৮ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ৪১৮২)
অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
قَالَ مُـحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وُلِدَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ، عَامَ الْفِيْلِ لِاِثْنَتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعٍ الاَوَّلِ
অর্থ : “হযরত মুহম্মদ ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, হস্তীর বছর, রাত্রির শেষভাগে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (দালায়িলুন নুবুওওয়াত লি ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি : হাদীছ শরীফ নং ২৩; কিতাবুল ওয়াফা লি আহওয়ালিল মুস্তফা লি আল্লামা ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি, পৃষ্ঠা ৮৭; প্রকাশনা : দারূল কুতুব ইসলামিয়া, বৈরূত, লেবানন)
উপরোক্ত বিশুদ্ধ বর্ণনা মুতাবিক পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এটাই সর্বাধিক ছহীহ ও মশহূর মত। এর বিপরীতে যেসব মত ঐতিহাসিকগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে তা অনুমান ভিত্তিক ও দূর্বল। অতএব তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে হাফিজুল হাদীছ ইমাম হযরত কুস্তালানি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
هُوَ الْـمَشْهُوْرُ اَنَّهٗ وُلِدَ ثَانِـيْ عَشَرَ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ وَهُوَ قَوْلُ اِبْنِ اِسْحَاقَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَغَيْرِهٖ
অর্থ : “প্রসিদ্ধ মত অনুসারে নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন। যা ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যদের এটাই মত।” (শরহুল মাওয়াহিব ১ম খ- ২৪৮ পৃষ্ঠা)
অন্যত্র বর্ণিত আছে- 
وَعَلَيْهِ عَمَلُ اَهْلِ مَكَّةَ فِـيْ زِيَارَتِـهِمْ مَوْضِعَ مَوْلِدِهٖ فِـيْ هٰذَا الْوَقْتِ
অর্থ : “মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদের মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের স্থান মুবারক যিয়ারত করার আমল বর্তমান অবধি জারী রয়েছে।’’ (শরহুল মাওয়াহিব ১ম খ- ২৪৮ পৃষ্ঠা)
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইমাম হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ لِاِثْنَتَـيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ عَامَ الْفِيْلِ
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতের শেষ ভাগে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন।” (সীরাতে ইবনে হিশাম ১ম খ- ১৫৮ পৃষ্ঠা)
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ لِاِثْنَتَـيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ خَلَتْ مِنْ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ لِاَرْبَعِيْنَ سَنَةً مّنْ مُلْكِ كِسْرٰي انَوْشِيْرْوَان
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন। তখন ছিলো শাসক নাওশেরাওয়ার শাসনকালের ৪০তম বছর।” (তারীখে ইবনে খালদুন ২য় খ- ৩৯৪ পৃষ্ঠা)
ইমাম হযরত জারির তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ عَامَ الْفِيْلِ لِاِثْنَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতের শেষ ভাগে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন।’’ (তারীখে ওমুম ওয়াল মূলক ২য় খ- ১২৫ পৃষ্ঠা)
ইমাম হযরত ইবনে কাছীর ও ইমাম হযরত যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বলেন,
وَهُوَ الْـمَثْهُوْرُ عِنْدَ الْـجُمْهُوْرِ .. هُوَ الَّذِيْ عَلَيْهِ الْعَمَلُ

অর্থ : “মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের) তারিখ হিসাবে জমহুর উলামায়ে কিরামের নিকট প্রসিদ্ধ। উক্ত মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক গ্রহণ হিসেবে সবাই পালন করে আসছেন।” (শরহুল মাওয়াহিব ২য় খ- ২৪৮ পৃষ্ঠা)
হাফিজুল হাদীছ হযরত আবুল ফাত্তাহ আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وُلِدَ سَيّدُنَا وَنَبِيُّنَا مُـحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ لِاِثْنَتَـيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ عَامَ الْفِيْلِ قِيْلَ بَعْدَ الْفِيْلِ بِـخَمْسِيْنَ يَوْمًا
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, রাতের শেষ ভাগে হস্তী বাহিনীর বছর দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন। বলা হয়, হস্তী বাহিনীর ঘটনার ৫০ দিন পরে তিনি দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন।” (আইনুল আসার ১ম খ- ৩৩ পৃষ্ঠা)
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, উপমহাদেশের যুগশ্রেষ্ঠ আলিম, শায়েখ হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হিসাবে মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখই মশহূর। সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদের আমল হলো উক্ত মুবারক তারিখে উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মুবারক স্থান যিয়ারত করতেন।’’ (মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮১ পৃষ্ঠা)
উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে, “সমস্ত মুসলমান এ বিষয়ের উপর ইজমা করেছেন বা একমত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।” (মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮২ পৃষ্ঠা)
দেওবন্দী ওহাবীদের মুরুব্বীদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে- “সারকথা যে বছর আসহাবে ফীল পবিত্র কা’বা শরীফ আক্রমন করে, সেই বছর পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে মহাসম্মানিত ১২ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) ছিলো পৃথিবীর জীবনে এক অনন্য বিশেষ দিবস। যেদিন নিখিল ভূবন সৃষ্টির মূল লক্ষ্য, দিবস রজনী পরিবর্তনের মূখ্য উদ্দেশ্য, হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও বনী আদমের গৌরব, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির নিরাপত্তার নিগূঢ় তাৎপর্য, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুআ ও হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের উদ্দিষ্ট ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন।” (সীরাতে খতিমুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা ৪, প্রকাশনা : এমদাদিয়া লাইব্রেরি)
উক্ত কিতাবে একটি টীকা সংযোজন করা হয়েছে, “সর্বসম্মত মতানুসারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হয়েছিল পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনার ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। কিন্তু তারিখ নির্ধারণের জন্য ৪টি রেওয়ায়েত প্রসিদ্ধ রয়েছে। যথা- দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম, দ্বাদশ। হাফিজ মোগলতাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (৬৮৯-৭৬২ হিজরী) ২য় তারিখের রেওয়ায়েত গ্রহণ করে অন্যান্য রেওয়ায়েতকে দূর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েত হচ্ছে দ্বাদশ তারিখের রেওয়ায়েত। এমনকি হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহার উপর ইজমার দাবী বর্ণনা করেছেন। ইহাকে কামেলে ইবনে আছীরে গ্রহণ করা হয়েছে।”
অথচ উনবিংশ শতাব্দীতে মাহমুদ পাশা আল ফালাকি (১৮১৫-১৮৮৫ ঈসায়ী) নামক একজন মিশরীয় জ্যোতির্বিদ দাবী করেছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস হচ্ছে পবিত্র ৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ। নাঊযুবিল্লাহ! আর তার দাবীকৃত এই বিভ্রান্তিমূলক তারিখটিই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দুশমনরা ব্যবহার করে থাকে। তাদের কাছে ছহীহ হাদীছ শরীফ অপেক্ষা একজন নাস্তিকের দাবী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নাঊযুবিল্লাহ! তাই এই নাস্তিক সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।
নাস্তিক মাহমুদ পাশা আল ফালাকি ছিল সে সময়কার তথাকথিত মিশরীয় রেনেসাঁর একজন ব্যক্তি। সে ফ্রান্সের বৃত্তি নিয়ে গবেষণা ও পড়াশোনা চালিয়েছিল। এই মিশরীয় রেনেসাঁকে আরবীতে বলা হয় ‘আন-নাহদা’। ১৮০০-১৯০০ সালের মাঝামাঝি সময়টিতে এই কথিত রেনেসাঁ সংঘটিত হয়। আর আন-নাহদার মূল ব্যক্তি হচ্ছে ‘রিফা আত-তাহতাবী’ নামক এক ব্যক্তি। তাকেও ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল। সে মিশরে এসে প্রচার চালায় যে, মুসলমানদেরকে অবশ্যই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! রিফা আত-তাহতাবী ছাড়াও এই আন-নাহদার আরেক মূল ব্যক্তি ছিল ‘বুরতুস আল বুস্তানী’। সেও মুসলমান ছিল না, ছিল এক লেবানিজ ম্যারেনাইট খ্রীস্টান। অর্থাৎ মিশরীয় তথাকথিত রেনেসাঁ সংশ্লিষ্টরা ফ্রান্সপন্থী ছিল। ফ্রান্সের বৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা করে তারা মুসলিম মূল্যবোধ মুছে দিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি চালু করতে উঠে পড়ে লেগেছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল খ্রীস্টান, এমনকি তাদের মধ্যে অনেকে শিয়াও ছিল।
আরেকটি বিষয় হলো, মিশরীয় তথাকথিত রেনেসাঁপন্থীরা ছিল প্রাচীন মিশরের ফেরাউনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মিশরীয় তথাকথিত রেনেসাঁপন্থীদের এক ভাস্কর্যশিল্পী মাহমূদ মোখতার বানিয়েছিল ‘মিশরের নবজাগরণ’ নামক এক মূর্তি, যা ছিল ফেরাউন ও স্ফিংসের জোড়া ভাস্কর্য। অর্থাৎ মিশরীয় তথাকথিত রেনেসাঁ ছিল ফেরাউনের যুগে ফিরে যাওয়ার চেতনাধারী।
উল্লেখ্য, উনবিংশ শতাব্দীর মিশরীয় নাস্তিক মাহমুদ পাশা আল ফালাকি নাস্তিক্যবাদে উদ্বুুদ্ধ হয়ে কাফিরদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুবারক ১২ই শরীফ তারিখকে বিকৃত করে বই রচনা করেছে। আর বাতিল ৭২ ফিরকার লোকেরা ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকে পাশ কাটিয়ে এক নাস্তিকের বর্ণনাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা পবিত্র হাদীছ শরীফ অবজ্ঞা করার কারণে কুফরী হয়েছে।
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। মহাকাশবিদগণও গবেষণা করে উল্লেখিত তারিখ ও বার বিশুদ্ধ বলে স্বীকার করে নিয়েছে।
উপসংহার :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ীই, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস হচ্ছে হাতির বছরের মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। 

বিস্তারিত

জিলাপিকে কটূক্তি করা মানে সুন্নতকে অবজ্ঞা করা

জিলাপিকে কটূক্তি করা মানে সুন্নতকে অবজ্ঞা করা
১.
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ‏.‏
অর্থঃ  হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্নিত " হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং মধু আহার করতে পছন্দ করতেন"
( বুখারী শরীফ, খাবার অধ্যায় , হা/৫৪৩১ )
২. 
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ ‏.‏
অর্থঃ  হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্নিত " হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিষ্টি এবং মধু আহার করতে পছন্দ করতেন"
(সুনান ইবনে মাজাহ , খাবার অধ্যায় , হাঃ ২৯/৩৪৪৮ )
৩. 
جَاءَ فِي حُبِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ
অর্থঃ  হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্নিত " হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিষ্টি এবং মধু আহার করতে পছন্দ করতেন" 
( তিরমীযি , খাবার অধ্যায় , হা/ ১৮৩১ ) 

বিস্তারিত

যারা খাদ্য খাওয়ানো নিয়ে টিটকারি করে তারা ছোট লোক

যারা খাদ্য খাওয়ানো নিয়ে টিটকারি করে তারা ছোট লোক
১. মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা আদ দাহর শরীফ’ ৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “উনারা মহান আল্লাহ তায়ালা মুহব্বতে আহার করান অভাবগ্রস্ত ইয়াতীম ও বন্দিদেরকে।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা আদ দাহর শরীফ’ উনার ৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘(উনারা বলেন) ২. নিশ্চয়ই আমরা কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্যেই তোমাদেরকে আহার দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করিনা।’
৩. মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ’ উনার ২৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে  মহান আল্লাহ তায়ালা নাম মুবারক স্মরণ করে দেয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করো। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।”
৩. আর এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচলন কর, মানুষকে খাদ্য খাওয়াও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কর এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড় তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” সুবহানাল্লাহ!(তিরমিযী ১৮৫৫, ইবনে মাযাহ্ ১৩৯৫, আদাবুল মুফাররাদ ৯৮১, আবদ ইবনে হুমাইদ ৩৫৫, দারিমী
৪. ক্ষুধায় কাতর ব্যক্তি সব দিক দিয়ে দুর্বল হয়, খাবারের অভাবে সে অসহায় ও অচল হয়ে পড়ে তাই ক্ষুধার্তকে আহার করিয়ে পরিতৃপ্ত করা মহান আল্লাহর কাছে পসন্দনীয় আমল। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হ’তে বর্ণিত,"একদা এক ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্ন করলেন, ইসলামে কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইসলামে সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ানো’।[বুখারী হা/১২; মুসলিম হা/৩৯; মিশকাত হা/৪৬২৯।] তাই ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানকারী ব্যক্তি সর্বোত্তম আমলকারী বলে গণ্য হবেন।
৫. ঐ ব্যক্তি ক্বিয়ামতকে অস্বীকারকারী যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করে না এবং খাদ্য দান করতে উৎসাহিত করে না। কেননা মহান আল্লাহ বলেন,তুমি কি দেখেছ তাকে, যে বিচার দিবসে মিথ্যারোপ করে? সে হ’ল ঐ ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে গলাধাক্কা দেয় এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দানে উৎসাহিত করে না’ (মাঊন ১০৭/১-৩)।
৬. মহান আল্লাহ বলেন, ‘ঐ ব্যক্তিকে ধর এবং গলায় রশি লাগিয়ে দাও অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে, সে তো ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর উপরে আর সে অভাবী-ক্ষুধার্তদেরকে খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেনি’ (হাক্কাহ ৩০-৩৪)। 
৭. হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্নিত " হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিষ্টি এবং মধু খেতে পছন্দ করতেন"
(সুনান ইবনে মাজাহ , খাদ্য অধ্যায় , ২৯/৩৪৪৮ এরাবিক ) 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মানুষকে খাওয়ানো অবশ্যই শরীয়তসম্মত ও ফযীলতের কাজ। শুধু তাই নয় বরং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের মাধ্যম ও কারণ। এখন তা যখনই খাওয়ানো হোক বা যাই খাওয়ানো হোক না কেন। কারণ পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য কোনো সময় ও প্রকার নির্ধারণ করে দেননি। যদি তাই হয়ে থাকে তবে এটাকে কী করে বিদয়াত বা নাজায়িয বলা যেতে পারে? তাছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তো সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে যে, “যে ব্যক্তি পবিত্র ইসলাম উনার মধ্যে কোন উত্তম (শরীয়তসম্মত) পদ্ধতি উদ্ভাবন করলো তার সে উদ্ভাবিত পন্থা যারা অনুসরণ বা আমল করবে তাদের সমপরিমাণ বদলা যে উদ্ভাবন করেছে সেও পাবে।” সুবহানাল্লাহ
মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো একটা ইবাদত। যারা এ বিষয়কে টিটকারী তুচ্ছ্য তাচ্ছিল্য করে তারা কুরআন শরীফ হাদীস শরীফ এহানতকারী। আর অন্য একটা বিষয় হচ্ছে এরা নিম্ন শ্রেনীর ফ্যামিলির লোক। এরা নিজেরাও খায় না। অন্যকে খাওয়ানোর কথা ভাবে না। কলিকাতার হিন্দুদের মত এদের অবস্থা। যারা বলে অর্ধেকটি দিলুম, পুরাটা খাবেন।
বিস্তারিত

যে কোন দিবস কিংবা দিবস ছাড়া নেক আমল করা কি ইসলামে নিষেধ ?

যে কোন দিবস কিংবা দিবস ছাড়া নেক আমল করা কি ইসলামে নিষেধ ?
অনেক আলেম নামধারী নিজের অজ্ঞতার জন্য বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে কিংবা দিবস ছাড়া আমল করাকে বিদয়াত বলতে বলতে মুখে ফেনা তোলে! নাউযুবিল্লাহ।
এই যেমন শবে মিরাজ উপলক্ষে অনেক তথাকথিত টাইটেলধারী অপপ্রচার করে এ দিবসে নাকি ইবাদত করার কথা নাই। নাউযুবিল্লাহ। অথচ এ দিবস উপলক্ষে আমল করার কথা হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন হল ইসলামের কোথাও কি লিখা আছে দিবস কিংবা দিবস ছাড়া আমল করা যাবেনা? বরং আল্লাহ পাক বেশি বেশি করে আমল করার তাগিদ দিয়েছেন। এবার দিবস উপলক্ষে হোক কিংবা বা হোক। 
১. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি এক জাররা পরিমাণ নেক কাজ করবে তার বিনিময় (ছওয়াব) সে পাবে। আর যে ব্যক্তি এক জাররা পরিমাণ পাপ বা গুনাহ করবে তার বদলা (শাস্তি) সে ভোগ করবে।’(সূরা যিলযাল ৭-৮) 
২. হযরত আবু যর গিফারী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত:রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আসসালাম বলেছেন;
মহান আল্লাহ বলেন “যে একটি নেককাজ করবে সে এর দশগুন সওয়াব পাবে বা আমি তাকে আরো অধিক পরিমাণ প্রদাণ করবো।আর যে একটি গুনাহ করবে সে কেবল একটি গুনাহের-ই শাস্তি পাবে বা আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।শোন হে মানবসকল,যে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসবে আমি তার দিকে একহাত নিকটবর্তী হবো।যে ব্যক্তি আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হবে আমি তার দিকে দুইহাত নিকটবর্তী হবো…যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে আমার দিকে অগ্রসর হবে আমি তার দিকে দৌড়ে যাবো। যে ব্যক্তি পৃথিবী সমান গুনাহ করবে তার জন্য আমি অনুরূপ ক্ষমা সহ অপেক্ষা করবো (শর্ত থাকে যে সে আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না)।” [বুখারী ও মুসলিম]।
নেককাজের এ সওয়াবের অঙ্গীকার কোন মানুষের জন্য করা হচ্ছে না। অঙ্গীকার করা হচ্ছে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে। বিশেষ কোন নেক আমলের জন্যও এ সওয়াব নির্ধারন করেন নি। বরং তিনি বলেছেন যে কোন নেক আমল হোক না কেন, সে ইবাদত ফরয হোক বা নফল। প্রত্যেকটির সওয়াব দশগুন দেওয়া হবে।
৩. হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন "আমার বান্দা নফল ইবাদত (সাধনা)র মাধ্যমে আমার এতই নিকটবর্তী হয়ে যায় এক পর্যায়ে আমি নিজেই তাকে ভালবাসি। আর আমি যখন কাউকে ভালবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দ্বারা সে শুনে, আমি তার চক্ষু হয়ে যাই যা দ্বারা সে দেখে, আমি তার হাত হয়ে যাই যা দ্বারা সে ধরে, তার পা আমার কুদরতী দ্বারা শক্তিশালী হয়ে যাই যা দ্বারা সে চলে। এমতাবস্থায় সে আমার কাছে কিছু চাইলে আমি তা অবশ্যই দান করি। (বুখারি শরীফ ২য় খন্ড, মেশকাত শরীফ-১৯৭ পৃষ্ঠা)
দেখা যাচ্ছে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত আদায় করার পরেও আল্লাহ পাকের নৈকট্য হাছিল করার অন্যতম মাধ্যম হল নফল ইবাদত। 
এখন কোন দিবস উপলক্ষ করে কিংবা না করে কেউ যদি -
কোরান শরীফ তিলওয়াত,
দরুদ ,
দোয়া -মুনাজাত,
তওবা ইস্তিগফার,
নফল নামাজ,
রোজা রাখা, 
ওয়াজ মাহফিল করে তাহলে সে তো নেক কাজে মশগুল থেকে আল্লাহ পাকের আদেশ পালন করছে। আল্লাহ পাক বলেন- 
“তোমরা নেকী ও পরহেযগারীতে সাহায্য করো, পাপ ও শত্রুতার মাঝে সাহায্য করো না। (এই বিষয়ে) মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (সূরা মায়িদা শরীফঃ ২)
যারা বিদয়াত বলে নেক আমলে বাধা দিয়ে তারা কার আদেশ অস্বীকার করছে ?
কাকে ভুল প্রমাণ করছে ? নাউযুবিল্লাহ 
মূলত যারা নেক আমলে বাধা দেয় তারা বাতিল ,গোমরাহ, ইবলিশের অনুচর ।
এদের থেকে দূরে থাকুন 

বিস্তারিত

বায়তুল মুকাররমের খবিস ওবাইদুল হক্ব ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধিতা করার কারনে পচে-গলে মরেছে..

বায়তুল মুকাররমের খবিস ওবাইদুল হক্ব ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধিতা করার কারনে পচে-গলে মরেছে..

বায়তুল মুকারমের খবীস উবায়দুল হক্ব ঈদে মিলাদুন্নবির সময় আসলে বলত " ঈদে মিলাদুন্নবি বিদয়াত " নাউযুবিল্লাহ । অথচ হারাম পহেলা বৈশাখের পক্ষে এই খবিস উবাইদুল হক বলেছিল: "আল্লাহর বহু বড় নিয়ামত হলো নববর্ষ। নববর্ষ পালন করতে গিয়ে দান-খয়রাত করতে হবে শুকরিয়া আদায় করতে হবে দোয়া করতে হবে।"(নাউযুবিল্লাহ্) ( তথ্যসূত্র: দৈনিক মানবজমিন ১০/০৪/২০০৪ ইং শেষ পৃষ্ঠা)

 এ ভুল ফতওয়ার কাফফারা সে মৃত্যুর পর আদায় করে। স্বাভাবিকভাবে একটা মানুষ মারা যাওয়ার পর তার লাশ পচন ধরতে সময় লাগে। আর আল্লাহ-ওয়ালা বা মসজিদের ঈমামদের লাশে এত তাড়াতাড়ি পচন ধরার তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ওবাইদুল হকের মৃত্যুর পর তার বিপরীত দেখা গেলো। মৃত্যুর সাথে সাথে লাশে পচন ধরলো, পেট ধারণ করলো বিরাট আকৃতি। বরফের বিছানায় রেখেও তা থামানো যাচ্ছিলো না। ছবিতে আপনারা নিজেরাই এ অলৌকিক বিষয়টি দেখতে পাচ্ছেন, লাশ রাখা হয়েছে বরফের বিছানার উপর, দেওয়া হচ্ছে বাতাস। তারপরও মানুষ পচা গন্ধের নাকে আঙ্গুল দিয়ে রেখেছে। আবু লাহাব যেমন পচে গলে মরেছে তেমনি এই খবিস মরেছে। যারা ঈদে মিলাদুন্নবির বিরোধীতা করবে তারাও আবু লাহাবের ন্যায় পচে গলে মরবে ।

https://goo.gl/H3z3yu
বিস্তারিত

ঈদ হলে কি রোযা রাখা যাবেনা? নামাজ-খুতবা পড়তে হবে?

ঈদ হলে কি রোযা রাখা যাবেনা? নামাজ-খুতবা পড়তে হবে?
অনেক জাহেল বলে থাকে ঈদে মিলাদুননবী ঈদ হলে ঈদের দিন কি রোযা রাখা যায়?  এ দিন ঈদ হলে ঈদুল ফিতর ঈদুল আযহার মত নামাজ খুতবা নাই কেন?
বাতিল ফিরকার দল এবং গোমরাহ মুসলমান এ ধরনের অবান্তর প্রশ্ন করে দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে তার অজ্ঞতাকেই জাহির করে।নিন্মের দুটি উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

ক) জুমুয়ার দিন ঈদের দিন - 
১. "জুম’আর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন।" [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮]
২. "জুম’আর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন।"
[মুসনাদে আহমদঃ৩/৪৩০; ইবন মাজাহঃ১০৮৪]
৩. এ জুমুয়ার দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যেদিনকে আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন!"
[সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ; মুসনাদে আহমদ শরীফ; মিশকাত শরীফ - জুমুয়ার অধ্যায়]

*জুমুআর ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম নয় বরং অশেষ ফযীলতের কারণ।
*আবার রোজার সময়ে জুমুয়া বার ও রোজা রাখতে হয়।
আর এ ঈদের আমলের মধ্যে কুরবানী কিংবা ছদক্বাতুল ফিতর কোনটিই নেই। বরং জুমুআর দিনে যুহরের নামাযের পরিবর্তে কেবলমাত্র পুরুষ, বালিগ, সুস্থ, মুক্বীম ব্যক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে খুতবাসহ নামায আদায় করতে হয়। আর মহিলাদের জন্য জুমুআর দিনে আলাদা কোন ছলাতও নেই, আবার খুতবাও নেই।

খ) আরাফার দিন ঈদের দিন- 
সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে উল্লেখ হয়েছে,
হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আরাফার দিন, নহর বা কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক (অর্থ্যাৎ ১১, ১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন।
দলীল:
নাসাঈ শরীফ কিতাবুল হজ্জ : হাদীস নম্বার ৩০০৪,
আবু দাউদ – কিতাবুছ সিয়াম : হাদীস ২৪১৯,
তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ৭৭৩)

এ দিনে রোজা পালন করা প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে—
সাহাবি আবু কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : ‘আরাফার দিনের রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।’ (মুসলিম ১১৬৩ )

আরাফা’র দিনে শুধুমাত্র যারা হজ্জে যেয়ে থাকেন তাদের জন্য ৯ই যিলহজ্জ আরাফা’র ময়দানে অবস্থান করাটা ফরযের অন্তর্ভুক্ত। আর শুধুমাত্র হাজীগণের জন্য আরাফা’র ময়দানে যুহর ও আছর নামায পড়তে হয়। ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আরাফা’র ময়দানে আলাদা কোন ছলাত নেই। আর খুতবা শুধুমাত্র হাজীগণের জন্যই। হাজীগণ ব্যতীত দুনিয়ার কোন মুসলমানের জন্য হোক সে পুরুষ অথবা মহিলা আরাফা’র দিন ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোন ছলাতও নেই, খুতবাও নেই। আর অন্যান্যদের জন্য আরাফা’র দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত এবং অশেষ ফযীলতের কারণ।

স্মরণীয় যে, সব ঈদের হুকুম এক রকম নয়। যেমন ঈদুল ফিতরের বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা। আর ঈদুল আযহার বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পরে পশু কুরবানী করা। যার প্রত্যেকটি ওয়াজিব। এ দু’ঈদে কিন্তু রোযা রাখা হারাম।
যারা না বুঝে ঈদে মিলাদুননবীকে অস্বীকার করে তারা চরম স্তরের জাহিল।

বিস্তারিত