ঈদে মিলাদুন্নবির কিতাব নিয়ামাতুল কুবরায় ঈদে মিলাদ পালনের ফযিলত ( পান্ডূলিপি )


ওহাবী বাতিল ফির্কার ধারণা আন নিমাতুল কুবরা আলাল আলামকিতাব যার দলীল দেয়া হয় সেটার কোন পান্ডুলিপী নেই। তাদের এহেন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এই কিতাবের পূর্ণ পান্ডুলিপী বর্তমানে কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতেমওজুদ আছে। যার পান্ডুলিপী নং হচ্ছে ৩৫০৬। পান্ডুলিপীটি হস্তগত হয়েছে ১২৭৬ হিজরীতে। এই পান্ডুলিপীর পাতা সংখ্যা ৩২ টি। পাতার সাইজ ১৫ সে.মি বাই ২৩ সে.মি। প্রতিটি পৃষ্ঠা ১৯ লাইনে বিন্যাস্ত।

রাজারবাগ শরীফএর সুবৃহৎ লাইব্রেরী- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ লাইব্রেরীতে পান্ডুলিপী পূর্ণ একটা অনুলিপি বিদ্যমান রয়েছে।

উক্ত পান্ডুলিপী সাথে বর্তমান প্রকাশিত আন নিমাতুল কুবরা আলাল আলামকিতাবে কিছু শব্দগত ও বর্ণনাগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও বিষয়বস্তু সমূহ একই। উক্ত পান্ডুলিপীতে পবিত্র মীলাদ শরীফ সর্ম্পকে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ক্বওল শরীফ সহ একখানা মারফু হাদীছ শরীফও বিদ্যমান রয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হলো,
قال النبي صلى الله عليه وسلم من عظم مولدي وهو ليلة اثني عثر من ربيع الاول يتخاذه فيها طعاما كنت له شفيعا يوم القيامه ومن انفق درهـما في مولد النبي اكراما فكانـما انفق جبلا من ذهب احـمر في اليتامي في سبل الله
অর্থ : সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করলেন এবং তাতে খাদ্য খাওয়ালেন তিনি ক্বিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত মুবারক লাভ করবেন এবং যিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পালন করতে এক দিরহাম খরচ করবেন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন।” (নিয়মাতুল কুবরা মাখতুত ১ম পৃষ্ঠা)

যেখানে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের বর্ণনা, বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি, হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের প্রত্যেকের ক্বওল শরীফই বিদ্যমান আছে। যাদের কাছে আন নিমাতুল কুবরা আলাল আলামকিতাবখানা আছে তারা পান্ডুলিপীর পৃষ্ঠাগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন।

বিস্তারিত

ঈদে মিলাদুন্নবি নিয়ে বানোয়াট হাদিস অপপ্রচার করছে ওহাবি সালাফিরা

ঈদে মিলাদুন্নবি নিয়ে বানোয়াট হাদিস অপপ্রচার করছে ওহাবি সালাফিরা


বাংলার সালাফী, আহলে হাদিসদের দ্বারা পরিচালিত @ Salat নামাজ (https://www.facebook.com/SalatPrayers) @ পেইজ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি নিচের হাদীছ শরীফ শেয়ার করেছে,
///// যে ব্যক্তি জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিবাহ বার্ষিকী, কুলখানি বা কোনও দিবস পালন করেছে ততবার সে বিদআত করেছে। আমার সুপারিশ তার জন্য প্রযোজ্য নয়।
দলিল হিসেবে দেয়া হয়েছেঃ- বুখারী শরীফ- ২৬৯৭, মুসলিম শরীফ - ১৭১৮, মিশকাত শরীফ - ১৪০ /////
পোস্ট লিংকঃ- http://bit.ly/2FO96K6 , আর্কাইভ - http://archive.is/MfkwM
উপরের হাদীছ শরীফ পড়ে সাধারণ মানুষ সবাই মনে করছে ইসলামে জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিবাহ বার্ষিকী সহ যাবতীয় দিবস পালন ইসলামে জায়েজ নেই। যে এসব পালন করবে সে জান্নাতেই যেতে পারবে না !?! (নবীজী উনার সুপারিশ ব্যতীত কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না।)
উক্ত হাদীছ শরীফ এর কি আসলে কোন অস্তিত্ব আছে? চলুন দেখে যাক রেফারেন্স দেয়া উক্ত কিতাবে এমন হাদীছ শরীফ আছে কিনা? আমি সালাফী, আহলে হাদিসদের হাদীছ শরীফ ওয়েব সাইট থেকে রেফারেন্স দিচ্ছি। আপনাদের যাদের কাছে মূল কিতাব আছে তারা মূল কিতাব থেকেই দেখুন।
১। বুখারী শরীফ। (ইসলামি ফাউন্ডেশন) http://prntscr.com/irq65a
২। বুখারী (আহলে হাদিসদের) http://prntscr.com/irq778
৩। মুসলিম শরীফ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) http://prntscr.com/irq8ch
৪। মুসলিম শরীফ (হাঃ একাডেমী) http://prntscr.com/irq9c4
৫। মিশকাত শরীফ (http://prntscr.com/irqaao)
কি দেখতে পেলেন? কোথাও এমন কোন হাদীছ শরীফ এর বর্ণনা পাওয়া গেল না। পাবেন কিভাবে ? এটা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ নয়। এই জাল, বানোয়াট হাদীছ শরীফ 'আহলে হাদিস, সালাফী'দের নিজস্ব প্রডাক্ট। এর সাথে মুসলমানদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। সম্পূর্ণই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপরে মিথ্যে অপবাদ। (নাউযুবিল্লাহ!) এমনকি এই জাল হাদিস পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ খিলাফ, বিপরীত।

উক্ত জাল হাদীছে দাবী করা হয়েছে ইসলামে কোন দিবস পালন জায়েজ নেই। এই দাবী সম্পূর্ণই পবিত্র কুরআন শরীফ এর বিপরীত দাবী। কেননা বিশেষ দিবস সমূহ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّهِ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
>>> অর্থ: আর তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিবসসমূহকে স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই উক্ত দিবসসমূহের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল-শোকরগোযার বান্দাদের জন্যে নিদর্শনাবলী (নিয়ামত) রয়েছে।” [সূরা ইবরাহীম শরীফ, আয়াত শরীফ: ৫]

জন্মদিন পালন সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ থেকে দলিল দেখুন,
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে-
>>> "আর শান্তি বর্ষিত হোক আমার উপরে যে দিন আমার জন্ম হয়েছিলো, আর যে দিন আমি ইন্তেকাল করবো । আর যে দিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায় । (পবিত্র সূরা মারইয়াম : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
>>> “আমার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন আমি বিলাদতী শান (জন্মদিবস) প্রকাশ করি, যেদিন আমি বিছালী শান (দুনিয়া থেকে বিদায়) প্রকাশ করবো এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

এবার পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দেখুন,
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই জন্মদিন পালন করেছেন।
>> "হযরত আবূ ক্বতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার দিনে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি জওয়াবে বলেছিলেন, ইহা এমন একখানা দিন যে দিনে আমি দুনিয়ায় বিলাদতী শান (দুনিয়ায় আগমন) মুবারক প্রকাশ করেছি এবং এ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ করা হয়েছে তথা এ দিনে আমার উপর পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল শুরু হয়েছে।" (সহীহ মুসলিম পরিচ্ছেদ: ইস্তিহবাবু ছিয়ামি ছালাছাতি আইয়ামিন মিন্ কুল্লি শাহরিন ওয়া ছাওমি ইয়াওমি আরাফাতা ওয়া আশূরা ওয়াল ইছনাঈন ওয়াল খমীছ- হাদীস নম্বর ১১৬১ // মুসলিম শরীফ ইসলামিক সেন্টারঃ নাম্বার - ২৬১৬)
রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার করা আমলকে বিদআত, কাফের মুশরিকদের অনুসরণ বলা লোক গুলো কি কুফরি করছে না ?? কোন সাহসে সুন্নত আমলকে বিদআত বলে ??

আজ ছিল পবিত্র জুমুয়া বার। এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। জুমুয়ার দিন ঈদ বা বিশেষ হওয়ার ৫টি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ২টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার এই দিনে দুনিয়ায় আগমন এবং বিদায় গ্রহণ।
>> ১."তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে, জুমুয়ার দিন। এদিনে আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এদিনেই তিনি ওফাত বা ইন্তেকাল লাভ করেন! [সহীহ নাসায়ী শরীফ -জুমুয়ার অধ্যায়]
>> ২. "এ জুমুয়ার দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যেদিনকে আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন!" [সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ; মুসনাদে আহমদ শরীফ; মিশকাত শরীফ - জুমুয়ার অধ্যায়]

জন্মদিন পালন করা বিদআত বা কাফের মুশরিকদের অনুসরণ দাবী করা সম্পূর্ণই পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ বিরোধী দাবী। এর সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই।
তবে বেপর্দা হয়ে, গানবাজনা করে, কেক কেটে জন্মদিন পালন ইসলামে জায়েজ নাই। শুধু জন্মদিন নয় শরিহতের খিলাফ কিছু করে কোন কিছু করা ইসলামে জায়েজ নাই।
এই 'সালাফী, আহলে হাদিস'রাই সারাদিন অমুকটা হাদিস জাল, তুমটা হাদিস জাল বলে বেড়ায়। (মূলত তাদের অজ্ঞতার কারণে বলে থাকে। বুখারী, মুসলিম শরীফের বাহিরে কোন হাদীছ শরীফের রেফারেন্স দিলেই জ্বাল বলে। ক্ষেত্রবিশেষ চিপায় পরলে এই কিতাবের হাদীছ শরীফও জাল বলে।)
তবে সবাই যে এদের মত ধোঁকাবাজদের ধোঁকায় পরে এমন নয়। কিছু অল্প সংখ্যক মানুষ আছেন যারা সব সময় সঠিক বিষয় খোঁজে। ঐ পোস্টের কমেন্ট বক্সে তেমন কিছু লোক দেখবেন। যারা সাথে সাথে হাদীছ শরীফ খুঁজে না পেয়ে কমেন্ট বক্সে বলে গেছে। কিন্তু পোষ্টদাতারা তাদের জাল, বানোয়াট হাদিস তথা ভ্রান্ত মতবাদের উপর অটল রয়েছে। এতদিনে নিজেদের ভুল স্বীকার করেনি। উক্ত পোস্ট রিমুভও করেনি।
মহান আল্লাহ পাক এই সমস্ত বিভ্রান্ত ছড়ানো লোকদের হিদায়াত দান করুন।


বিস্তারিত

আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি

আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি


হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানানো হয়েছে। রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে এ দাবি জানান মাওলানা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ।

জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘আজ  কওমি মাদ্রাসা শুধু নয়, সারাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

তিনি বলেন,  আমার ভাই (মুফতি রুহুল আমীন) আপনাকে কওমি জননী বলেছেন। সেই মায়ের দরদ দিয়ে এদেশের গ্রামাঞ্চলে মসজিদের  ইমাম-মুয়াজ্জিন আছেন যারা ৭০০-৮০০ টাকা বেতন পান। ভারত-মিসরসহ অনেক দেশে  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হয়। আমরা হিসেবে করে দেখেছি ইমামদের  ৫ হাজার ও মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তবে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটির বেশি টাকা লাগবে না। প্রধানমন্ত্রী আল্লাহ বড় আপনার দিল দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের  আপনি আশ্রয় দিয়েছেন। আরেকটি দাবি হচ্ছে,  বাংলাদেশের কোনও আলেমকে আজ  পর্যন্ত  স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়নি। আহমদ শফী কওমির খেদমত করেছেন, ওলামা কেরামকে একত্রিত করে সেবা করেছেন। আমি মনে করি উনি (শফী) স্বাধীনতা পদক পেতে পারেন। আশা করছি এ বছর স্বাধীনতা পদক প্রদানের সময় এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত এই শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেমরা উপস্থিত হন। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মাহফিল শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফী। প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। মঞ্চে আসন গ্রহণ করার আগে কওমি নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে স্বীকৃতি প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানান শাহ আহমদ শফী। এছাড়াও শুকরিয়া আদায় করে দোয়া করেন শফী।

অনুষ্ঠান মঞ্চে কওমি আলেম ওলামাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রীর অবদান সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে: আল্লামা শফী

প্রধানমন্ত্রীর অবদান সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে: আল্লামা শফী

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক শিক্ষা ও আরবি) স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় আজ রোববার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে শুকরানা মাহফিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শুরু করেছেন।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এই শুকরানা মাহফিল হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী সংগঠনটির চেয়ারম্যান। তিনি সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। তিনি কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আল্লামা শফী শুকরিয়া স্বারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

বেলা ১১ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেখানে পৌঁছান। বেলা পৌনে একটার দিকে প্রধানমনন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন।

তবে সকাল থেকেই মাহফিলে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন।

মাহফিল উপলক্ষে সারা দেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ইমামদের ঢাকায় আনা হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করেন। তাঁদের বহনকারী বাস শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে রেখে তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা হোন। অনেকেই হেঁটেই পৌঁছান সেখানে।

নরসিংদীর দারুল তাকওয়া মাদ্রাসা থেকে আসা দুজন শিক্ষক নুরুল আমিন ও ফয়জুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস রিজার্ভ করে আজ সকালে তাঁরা ঢাকা পোঁছান। তিনি জানান, ভোরে তাঁরা নরসিংদী থেকে রওনা হন। ব্রাহ্মনবাড়িয়া, সিলেট, নরসিংদী সহ ওই অঞ্চলের বাসগুলোকে তেজগাঁও এলাকায় রাখতে হয়েছে। বাস রেখে তাঁরা হেঁটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছেছেন। ওই দুই শিক্ষক দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তেরর স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
নরসিংদীর নাদিয়াতুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক রমজান আলী জানান, তাঁদের মাদ্রাসায় ৪০ জন ছাত্রী রয়েছে। তবে মাহফিলে শুধু তাঁরা শিক্ষকেরা অংশ নিতে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সকাল ১০টার দিকেই কওমি মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমাগম হতে দেখা যায়।

শাহবাগ মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দীর দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে, বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
http://archive.is/28wf7,  http://archive.is/W01ZA

বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রীকে কওমি জননী উপাধীতে ভুষিত করলো ধর্ম ব্যবসায়ী হেফাযত

 প্রধানমন্ত্রীকে   কওমি জননী উপাধীতে ভুষিত করলো ধর্ম ব্যবসায়ী হেফাযত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি জননীউপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন এ উপাধি দেন।

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত এ শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় সংবর্ধনা দেয়া হয়।

রোববার সকাল ৯টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এ মাহফিল শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে মাহফিলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগেই আলেমদের সমাগমে একপ্রকার জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফী।

http://archive.is/YwFlm 
বিস্তারিত

পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সঠিক তারিখ

পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সঠিক তারিখ


ধর্মব্যবসায়ী, মুনাফিক, ভ- শ্রেণীর কিছু লোক মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য বলে থাকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। তাই মতভেদযুক্ত বিষয়ে আমল করা যাবে না। অর্থাৎ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
আসলে এই বাতিল ফিরক্বাগুলো মুনাফিক হওয়ার কারণে সত্য বিষয় গোপন করে। দেখুন, ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ, বার, মাস সবই বর্ণনা করা আছে। হাফিযে হাদীছ হযরত আবু বকর ইবনে আবী শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেটা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন-

عَنْ حَضْرَتْ عَفَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَلِيْمِ بْنِ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ مِينَا رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيّ وَحَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِـيْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعٍ الْاَوَّلِ.

অর্থ: হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হতে বর্ণিত, তিনি হযরত ছালিম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ ঘটে হস্তি বাহিনী বর্ষের সুমহান ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (দলীল: মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা; বুলুগুল আমানী শরহিল ফতহুর রব্বানী, ২য় খ- ১৮৯ পৃষ্ঠা; বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খ- ১০৯ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা- দারূল ফিকর, বৈরূত লেবানন)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবীগণ অত্যন্ত ছেকাহ বা বিশ্বস্ত। রাবীগণের নাম ও উনাদের সম্পর্কে রিজাল বিশারদগণ কি বলেছেন আসুন দেখা যাক। উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদে রাবীগণ হচ্ছেন- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
সনদের উপরের দুজনতো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, উনাদের তো কোনো তুলনা নেই। অপর তিন জন রাবী সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ছালিম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি ও হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সম্পর্কে রিজালের কিতাবে বলা হয়েছে- উচ্চ পর্যায়ের নির্ভযোগ্য ইমাম, ছিকাহ, তীক্ষè স্মরণ শক্তিসম্পন্ন, বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।” (দলীল: খুলাছাতুত তাহযীব ২৬৮ পৃষ্ঠা, ত্বাকরীবুত তাহযীব, ২য় খ- ১২৬ পৃষ্ঠা)
শুধু তাই নয়, ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার অন্য সনদেও এ বিষয়ে হাদীছ শরীফ উল্লেখ আছে। হযরত ইমাম হাকিম নিশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে উনার কিতাবে উল্লেখ করেন,
হযরত আল্লামা ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (তাবেয়ী) তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
হযরত ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন- উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ। (দলীল: আল মুস্তাদরাকে হাকিম ২য় খ- ৬৫৯ পৃষ্ঠা- কিতাবুল মানাকিব অধ্যায়, হাদীছ শরীফ নম্বর ৪১৮২)
সুতরাং আমরা ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ জানতে পারলাম। এবার আসুন দেখা যাক, পরবর্তী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এ বিষয়ে কি বলেছেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আলিম হযরত আল্লামা ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন আমুল ফিল বা হস্তী বাহীনির বছর সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ রাতের শেষ ভাগে।” (দলীল: কিতাবুল ওয়াফা পৃষ্ঠা ৮৭। লেখক- আল্লামা ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি, প্রকাশনা- দারূল কুতুব ইসলামীয়া, বৈরূত লেবানন)
হাফিযে হাদীছ হযরত ইমাম কুস্তালানি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রসিদ্ধ মত অনুসারে নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ...১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীদের মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার স্থান যিয়ারত করার আমল বর্তমান অবধি জারি রয়েছে।” (দলীল: শরহুল মাওয়াহেব, ১ম খন্ড ২৪৮ পৃষ্ঠা)
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হযরত ইমাম ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতের শেষ ভাগে তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (দলীল: সিরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)
ঐতিহাসিক হযরত ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর সুমহান ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ রাতে অর্থাৎ ছুবহে ছদিকের সময় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন ছিলো বাদশাহ নাওয়াশেরের শাষণকাল।” (দলীল: সিরাতে নববীয়া, ৮১ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম জারির তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল রাতের শেষ ভাগে অর্থাৎ ছুবহে ছদিকের সময় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (দলীল: তারিখে ওমুম ওয়াল মুলক, ২য় খন্ড ১২৫ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “জমহুর উলামায়ে কিরাম উনাদের নিকট সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হিসেবে মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই প্রসিদ্ধ। মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সুমহান দিবস হিসাবে সবাই পালন করে আসছেন।” (দলীল: বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খন্ড ১০৯ পৃষ্ঠা, শরহুল মাওয়াহেব ২য় খন্ড ২৪৮ পৃষ্ঠা)
উপমহাদেশের বিখ্যাত আলিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হিসেবে সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখই মশহুর। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীদের আমল হলো- উক্ত তারিখে উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের স্থান যিয়ারত করতেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮১ পৃষ্ঠা)
তিনি আরো বলেন, “প্রসিদ্ধ সীরাতবিদদের মতে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হয়েছে হস্তীবর্ষের ৫০ দিন পর। এ মতই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ যে- তা ছিলো পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার সম্মানিত ১২ তারিখ। প্রসিদ্ধ আলিম ও ইতিহাসবিদগণ উনারা এ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপন করেছেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ, ৮১ পৃষ্ঠা)
উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে, “সমস্ত মুসলমানগণ এ বিষয়ের উপর ইজমা করেছেন বা একমত হয়েছেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮২ পৃষ্ঠা)
শুধু তাই নয়, বর্তমানে যেসব গুমরাহ ওহাবী সালাফী বাতিল ফিরক্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ মহাসম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ উনাকে অস্বীকার করে, তাদের গুরু লা-মাযহাবী নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ভুপালি সে তার কিতাবে লিখেছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন পবিত্র মক্কা শরীফে খ্রিস্টান বাদশাহ আবরাহার হস্তী বাহিনীর বছর পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফে ছুবহে ছাদিকের সময়, এটার উপর হযরত উলামায়ে কিরাম উনারা একমত হয়েছেন এবং এটা হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন ও ঐকমত্য পোষণ করেছেন।” (দলীল: শামামাতুর আনবার ইয়ার ফি মাওলিদে খায়রিল বারিয়াহ, ৭ পৃষ্ঠা)
সুতরাং এত স্পষ্ট এবং বিশুদ্ধ দলীল থাকার পরও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ নিয়ে বিরোধিতা করা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও গুমরাহীর নামান্তর।

বিস্তারিত