জুমুয়ার দিন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার কারনে ঈদের দিন হলে , তাহলে ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ অবশ্যই ঈদের দিন

জুমুয়ার দিন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার কারনে ঈদের দিন হলে , তাহলে ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ অবশ্যই ঈদের দিন
হাদীস শরীফে বর্নিত আছে —
ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض
অর্থ : তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে, জুমুয়ার দিন | এদিনে আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এদিনেই তিনি বিছাল বা ইন্তেকাল লাভ করেন !”
দলীল-√ সহীহ নাসায়ী শরীফ -জুমুয়ার অধ্যায় !
অতপর এই জুমুয়ার দিন ঈদের দিন ঘোষনা করে ইরশাদ হয় —
ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ :এ জুমুয়ার দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যেদিনকে আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন !”
দলীল–√ সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ√ মুসনাদে আহমদ শরীফ √ মিশকাত শরীফ – জুমুয়ার অধ্যায়
উক্ত হাদীস শরীফ থেকে প্রমানিত হলো জুমুয়ার দিন আল্লাহ পাক এর নবী এবং রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ এর দিন হওয়ার সত্ত্বেও আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সে দিনটিকে খুশির দিন হিসাবে নিদৃষ্ট করে দিয়েছেন ! এবং স্বয়ং নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে জুমুয়ার দিনকে ঈদের দিন বলে ঘোষনা দিয়েছেন !
তাহলে ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ সোমবার শরীফ যেদিন নবিজি দুনিয়ায় আগমন করেছেন এবং বিদায় গ্রহন করেছেন তা অবশ্যই ঈদের দিন। বরং সকল ঈদের সেরা। যা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং পালন করেছেন।
১. হযরত আবু কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বনর্ণা করেন যে, " হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি সোমবারের দিন কেন রোযা রাখেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন ওই দিন আমার বিলাদত হয় ,এবং ওই দিন-ই আমার উপর ওহী নাযীল হয়"।
১. সহী মুসলিম ,বুক ৬ , রোজা অধ্যায়, ভলি ৭, পৃ ৩২৩, হাদিস নং ২৮০৭২.সুনান আল কুবরা লইল বায়হাকী , ভলিউম ৪, পৃ ২৮৬ ৩. মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, ভলিউম ৪ , পৃ ২৯৬, হাদিস ৭৮৬৫৪.সুনান আবু দাউদ, ভলিউম ৭,পৃ ২৫৫, হাদিস ২৪২৮
হাদীস শরীফে বর্নিত আছে–
عن ابن مسود رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي عليه و سلم حياتي خير لكم و مماتي خير لكم
অর্থ : আমার হায়াত-বিছাল (ইন্তেকাল) সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা উত্তম বা খায়ের বরকতের কারন !””সুবহানাল্লাহ্ !দলীল-√ কানযুল উম্মাল শরীফ√ শিফা শরীফ ২য় খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা!
বিস্তারিত

হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের রাতে সংঘটিত ঘটনা।

----------------------------------------------------------------------------
হাদীছ শরীফ-এ এসেছে,
عن حضرت عروة رضى الله تعالى عنه ان نفرا من قريش منهم ورقة بن نوفل، وزيد بن عمرو بن نفيل، وعبيد الله بن جحش، وعثمان بن الحويرث كانوا عند صنم لهم يجتمعون اليه، فدخلوا عليه ليلة فراوه مكبوبا عى وجهه، فانكروا ذلك، فاخذوه فردوه الى حاله، فلم يلبث ان انقلب انقلابا عنيفا، فردواه الى حاله، فانقلب الثالثة، فقال عثمان بن الحويرث: ان هذا لامر قد حدث وذلك فى الليلة التى ولد فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل عثمان يقول شعرا.
أيا صنم العيد الذى صف حوله + صناديد وفد من بعيد ومن قرب
تنكس مقلوبا فما ذاك قل لنا + أأذاك شىء أم تنكس للعب
فإن كان من ذنب أسأنا فإننا + نبوء باقرار نلوى عن الذنب
وأن كنت مغلوبا تنكست صاغرا + فما أنت فى الأوثان بالسيد الرب
অর্থ: হযরত উরওয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই কুরাইশদের কয়েকজন সরদার ওরাকাহ ইবনে নওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়িল, উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ, উছমান ইবনে আল হাওয়াইরিছ এক রাত্রিতে এক প্রতিমার কাছে সমবেত হন। উনারা দেখলেন যে, একটি প্রতিমা উপুড় হয়ে পড়ে আছে। উনারা একে খারাপ মনে করে সোজা করে দিলেন। কিছুক্ষণ পর সেটি আবার সজোরে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে গেলো। আবার সোজা করে দিলেন। কিন্তু তৃতীয় বার আবার মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। উছমান ইবনে হুয়াইরিছ বললেন, অবশ্যই আজকে কিছু একটা ঘটেছে। আর সেই রাত্রিটি ছিলো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এর রাত্রি মুবারক। অতঃপর উছমান একটি কবিতা আবৃত করলো।
* হে মূর্তি! তোর কাছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত আরব সরদারগণ রয়েছেন
* আর তুই উল্টে পড়ে আছিস। ব্যাপার কি বল, তুই কি খেলা করছিস?
* আমাদের দ্বারা কোনো গুনাহ হয়ে থাকলে আমরা তা স্বীকার করি এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকি।
* আর যদি তুই লাঞ্ছিত ও পরাভূত হয়ে মাথা নত করে থাকিস, তবে তুই প্রতিমাদের সরদার ও প্রভু না।
قال فاخذوا الصنم فردوه إلى حاله، فلما استوى هتف بهم هاتف من الصنم بصوت جهير وهو يقول.
تردى لمولود أنارت بنوره + جميع فجاج الأرض بالشرق والغرب
وخرت له الأوثان طرا وأرعدت + قلوب ملوك الأرض طرا من الرعب
ونار جميع الفرس باخت وأظلمت + وقد بات شاه الفرس فى أعظم الكرب
وصدت عن الكهان بالغيب جنها + فلا مخبر منهم بحق ولا كذب
فيالقصى ارجعوا عن ضلالكم + وهتبوا إلى الاسلام والمنزل الرحب
অতঃপর উনারা প্রতিমাটি পুনরায় খাড়া করে দিলেন। এরপর সেই মূর্তির ভিতর থেকে আওয়াজ আসলো- 
* হে কুরাইশ সরদারগণ! শুনে রাখুন এ প্রতিমা ধ্বংস হয়ে গেছে সে সন্তানের কারণে যাঁর নূর মুবারক-এ সারা বিশ্ব আলোকিত হয়ে গেছে। যমীনের পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত কুফরী তছনছ হয়েছে। 
* উনার আগমনে সকল প্রতিমাই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সমস্ত রাজা-প্রজাদের অন্তর উনার তাশরিফে এবং রোবে ভয়ে কেঁপে উঠেছে। 
* পারস্যের অগ্নিকুন্ড নিভে গেছে। ফলে পারস্যের সম্রাট খুবই মর্মাহত ব্যথিত হয়েছে। 
* অতিন্দ্রীয়বাদীদের কাছ থেকে তাদের জিনেরা উধাও হয়ে গেছে। এখন তাদের কেউ সত্য-মিথ্যার খবর পৌঁছাবে না।
* হে বনী কুছাই! পথভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করো এবং প্রকৃত সত্য ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সকলেই আশ্রয় নাও।
(ছবি ক্যপশন: খছায়িছুল কুবরা ১ম খন্ড ১২৯, ১৩০ পৃষ্ঠা
লেখক: হাফিজে হাদীছ , মুজাদ্দিদে যামান হযরত জালালুদ্দীন সুয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি)

বিস্তারিত

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় আগমন এবং বিদায় উভয়ই রহমত।

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় আগমন এবং বিদায় উভয়ই রহমত।

অনেকেই বলে থাকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউওয়াল শরীফ দুনিয়ায় তাশরীফ এনেছেন, আবার একই দিনে বিদায় নিয়েছেন । তাহলে বিদায় দিনে খুশি প্রকাশ কেন?
তাদের এ ধরনের প্রশ্ন দ্বীন ইসলাম নিয়ে তাদের অজ্ঞতা প্রমান করে। আশ শিফা কিতাবে বলা আছে “ 
  وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ   “আর আপনাকে সারা জহানের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সুরা আম্বিয়া ১০৭)
সুতরাং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র হায়াতেও রহমত , ওফাতেও রহমত। যথা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন “ আমার জীবন এবং ওফাত উভয়টিই তোমাদের জন্য রহমত’ ।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন “ আল্লাহ তায়ালা যখন কোন উম্মতের উপর রহমত নাযিল করার ইচ্ছে করেন তখন তাদের নবী উঠিয়ে নিতেন। তিনি উম্মতের পুর্বে আল্লাহ পাকের দরবারে পুছে উম্মতের মাগফেরাত কামনা করতেন”। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা ফকীহ আবু লাইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন” হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মানব ও জ্বীন জাতির জন্য রহমত”।
তথ্যঃ সুপ্রসিদ্ধ এবং বিখ্যাত কিতাব”  আশ শিফা বি তারিফে হুকুকিল মোস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” 
মূল : ইমাম কাযী আয়ায আন্দুলুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (পঞ্চম হিজরি শতক) 
অনুবাদ পৃ নং- ১৫
প্রকাশনীঃ মারকাজ ই আহলে সুন্নত 

বিস্তারিত

হিসেব অনুসারে ১২ রবিউল জন্ম তারিখ,৯ নয়। কোন নাস্তিকের ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়

হিসেব অনুসারে ১২ রবিউল জন্ম তারিখ,৯ নয়। কোন নাস্তিকের ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়
Lutfor Faraji নামক এক নবিবিদ্বেষী যুক্তি দিয়ে ৯ রবীউল আউওয়াল শরীফকে হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়ার যমীনে আগমনের তারিখ হিসেবে প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। ৯ তারিখ প্রমাণের জন্য মূলত নাস্তিক মাহমুদ পাশার গাণিতিক একটি চরম ভুল বিশ্লেষণকে পুঁজি করা হয়েছে।
উক্ত বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে যে, দশম হিজরীর মাহে শাওয়ালের শেষ তারিখে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল আর একই দিনেই হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছাহেবজাদা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। আর এই হিসাব অনুযায়ী গণনা করে হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়ার যমীনে আগমনের তারিখ রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ৯ তারিখ প্রমাণ করা ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে।
যেহেতু হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ৮ম হিজরী সনের যিলহজ্জ মাসে দুনিয়ার যমীনে আগমন করেন। আর হাদীছ শরীফ অনুযায়ী তিনি ১৬ মাস যমীনে অবস্থান মুবারক করেন।
যেমন হাদীছ শরীফে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَاتَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ ابْنُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا فَاَمَرَ بِهٖ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ يُّدْفَنَ فِى الْبَقِيْعِ وَقَالَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا يُّرْضِعُهٗ فِى الْـجَنَّةِ 
অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক যখন ১৬ মাস, তখন তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন মুবারক করার জন্য নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য জান্নাত-এ একজন দুধপানকারিনী রয়েছেন, যিনি উনাকে দুধ পান করাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৩০/৫২০, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৩/২৫১, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/৫৬৪, তারীখুল মদীনা ১/৯৭)
অনুরূপ বর্ণনা আস সুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্বী, শরহু মা‘আনিল আছার, মুছান্নাফে আবী শায়বাহ, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী নাঈম, মুছান্নাফে আব্দির রাজ্জাক্ব ইত্যাদি কিতাবসমূহেও রয়েছে।
হিসেবে করে দেখা যায়, ৮ম হিজরী সনের যিলহজ্জ মাসের পরবর্তী ১৬ মাস পর উনার বিছাল শরীফ গ্রহণের মাস হচ্ছে রবীউল আউওয়াল শরীফ। কোন ভাবেই শাওওয়াল মাস হয় না। 
এমনকি ১৭ বা ১৮ মাস বয়সে বিছাল শরীফ ধরা হলেও কোন ভাবেই শাওওয়াল মাস হয় না।
আর তাই ১০ম হিজরী সনের শাওওয়াল মাসের শেষ তারিখ ৬৩২ সালের ৭ নভেম্বরকে সূর্যগ্রহণের তারিখ ধরে সে হিসেব অনুযায়ী গণনা করেহাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়ার যমীনে আগমনের তারিখ রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ৯ তারিখ প্রমাণ করার অপচেষ্টা একটি প্রতারণা বৈ কিছুই নয়।
আসল কথা হচ্ছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ১০ম হিজরী সনের ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার), প্রায় ১৬ মাস (১৫ মাস ৮ দিন) বয়সে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। 
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে-
ومات يوم الثلاثاء لعشر ليال خلون من شهر ربيع الأول سنة عشر.
অর্থ : “তিনি ১০ম হিজরী সনের ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। (সুবুলুলহ হুদা ওয়ার রশাদ ১১/২৪, ওয়াকিদী, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৪/৪৬৫)
যদিও হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বিছাল শরীফ গ্রহণের দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল কিন্তু প্রকৃত অর্থে সেদিনে সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা নয়। কেননা কোন আরবী (চন্দ্র) মাসের ২য় সপ্তাহে কখনো সূর্যগ্রহণ হয় না, সাধারণভাবে আরবী মাসের শেষের দিকে সূর্যগ্রহণ হয়ে থাকে।
বস্তুত এই সূর্যগ্রহণ হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার একটি মুজিযা ছিলো। আর এই সূর্যগ্রহণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-উনার অপরিসীম মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। 
তাই এই সূর্যগ্রহণের বিষয়টিকে সমস্ত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন যে, এটি ছিল সূর্যের শোক প্রকাশ। সুবহানাল্লাহ! এই মতের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে অনেক ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম শক্ত জবাবও দিয়েছেন।
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ১০ম হিজরী সনের শাওওয়াল মাসে শেষ তারিখে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেননি বরং তিনি ১০ হিজরী সনের ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। তাই ১০ম হিজরী সনে শাওওয়াল মাসে শেষ তারিখে সূর্যগ্রহণের তারিখ ধরে সে হিসেব অনুযায়ী গণনা করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়ার যমীনে আগমনের তারিখ রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ৯ তারিখ প্রমাণ করার অপচেষ্টা একটি প্রতারণা বৈ কিছুই নয়।
দ্বিতীয় আরেকটি ভুল হচ্ছে- ১০ম হিজরী সনের শাওওয়াল মাসে শেষ তারিখে সূর্যগ্রহণের তারিখ ধরে সে হিসেব অনুযায়ী গণনা করে আমুল ফীল বা হস্তির বছর রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১লা তারিখ ধরা হয়েছে ৫৭১ ঈসায়ী সনের ১২ই এপ্রিল। কিন্ত সে বছর পবিত্র মক্কা শরীফে ১১ই এপ্রিলই যে খালি চোখে রবীউল আউওয়াল শরীফের চাঁদ দেখা গিয়েছিল তার প্রমাণ নাস্তিক মাহমুদ পাশা দিতে পারেনি। তাহলে একটি অগ্রহণযোগ্য ও অনুমান ভিত্তিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আমুল ফীল বা হস্তির বছর রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১লা তারিখ ১২ই এপ্রিল ধরা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বস্তুত সৌর বছরের হিসাব দিয়ে চন্দ্র বছরের হিসাব মিলানো সহজ নয়। কেননা সৌর বছর হয় ৩৬৫ দিনে (অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন) আর চন্দ্র বর্ষ হয় ৩৫৪/৩৫৫ দিনে। এছাড়াও আরবী মাস শুরু হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথে আর সৌর সন শুরু হয় রাত ১২টার পর থেকে।
তার উপর তৎকালীন আরবে নাসী (মাস আগে–পিছে) করা হতো। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কখনো কখনো ১৭ মাসেও বছর গণনা করতো। কোন সময়ে এই অতিরিক্ত মাসগুলো সংযোজন করতো তার কোন দলীল-প্রমাণ নেই। এমনকি যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য ছফর মাসকে মুহররম মাসের আগে গণনা করতো। এমন পরিস্থিতিতে ক্যালকুলেশন বা গণনা পদ্ধতি অবলম্বন করে হিসা্ব মিলানো কখনোই সম্ভব নয়। আর তাই নাস্তিক মাহুমদের হিসাব অনুযায়ী আমুল ফীল বা হস্তির বছর ৫৭১ ঈসায়ী হচেছ। অথচ বছরটি হচ্ছে ৫৭০ ঈসায়ী।
কেননা বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, 
وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ لِاِثْنَتَـيْ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ خَلَتْ مِنْ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ لِاَرْبَعِيْنَ سَنَةً مّنْ مُلْكِ كِسْرٰي انَوْشِيْرْوَان
অর্থ : “ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক নেন। তখন ছিলো শাসক নাওশেরাওয়ার শাসনকালের ৪০তম বছর।” (তারীখে ইবনে খালদুন ২য় খ- ৩৯৪ পৃষ্ঠা)
আর হিসাব অনুযায়ী ৫৭০ ঈসায়ী সন হচ্ছে ইরানের শাসক নাওশেরাওয়ারের ৪০তম বছর।
তাহলে যেখানে ঈসায়ী সন হিসেবে ১ বছরের একটি তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে সেখানে এটা কি করে বলা যেতে পারে যে, আমুল ফীল বা হস্তির বছর রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১২ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ছিল না। নাঊযুবিল্লাহ!
তাই এ্রর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হাদীছ শরীফ। হাদীছ শরীঠে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়ার যমীনে আগমনের তারখি হচ্ছে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, সেদিনটি ছিল- ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)। 
عَنْ حَضْرَتْ عَفَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَلِيْمِ بْنِ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ مِينَا رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيّ وَحَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِـيْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعٍ الْاَوَّلِ.
অর্থ : “হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত সালিম বিন হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-উনার বিলাদত শরীফ হস্তি বাহিনী বর্ষের ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হয়েছিল।” সুবহানাল্লাহ! (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাতহির রব্বানী, আছ ছিহ্হাহ্ ওয়াল মাশাহীর ১ম খ- ২৬৭ পৃষ্ঠা)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার সনদের মধ্যে প্রথম বর্ণনাকারী হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণ বলেছেন, “তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য ইমাম, প্রবল স্মরণশক্তি ও দৃঢ়প্রত্যয় সম্পন্ন ব্যক্তি।” (খুলাছাতুত তাহযীব শরীফ)
“দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণনাকারী যথাক্রমে হযরত সালিম বিন হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহিও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।” (খুলাছাহ শরীফ, তাক্বরীব শরীফ)
সনদের উপরের দুজন তো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমাদের তো কোন তুলনাই নেই। অপর তিন জন রাবী হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সলিম ইবনে হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে রেজালের কিতাবে বলা হয়েছে উনারা উচ্চ পর্যায়ের নির্ভযোগ্য ইমাম, সিকাহ, তীক্ষè স্মরণশক্তিসম্পন্ন, বিশস্ত এবং নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।’’ (খুলাছাতুত তাহযীব ২৬৮ পৃষ্ঠা, ত্বাকরীবুত তাহযীব ২য় খন্ড ১২৬ পৃষ্ঠা, সমূহ রেজালের কিতাব)
আর হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দু’জন উচ্চ পর্যায়ের ফক্বীহ ছাহাবী। উনাদের বিশুদ্ধ সনদ সহকারে বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, “১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-উনার বিলাদত শরীফ দিবস।”
এ ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উপরই হযরত ইমামগণের ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সীরাত-ই-হালবিয়াহ শরীফ, যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব শরীফ, মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ শরীফ ইত্যাদি)

বিস্তারিত

আশরাফ আলী থানবীর দৃষ্টিতে মীলাদুন্নবী

আশরাফ আলী থানবীর দৃষ্টিতে মীলাদুন্নবী

তার লিখিত “তাবলীগ” নামক পুস্তিকাটিতে মীলাদের সময় কিয়াম করাকে বিদয়াত বা নিন্দনীয় কাজ নয় বরং তা মুস্তাহাব বলে ফতোয়া দিয়েছে । মৌলভী আশরাফ থানভীর ভক্ত, মুরীদ ও অনুগত শিষ্যরা ভারত উপমহাদেশে অনেক দ্বীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছে । যেগুলো কওমী বা ওহাবী মাদরাসা নামে সর্বজন পরিচিত ।
আর এ সব মাদরাসায় উক্ত “তাবলীগ” নামক পুস্তিকাটি সিলেবাস ভুক্ত করে পাঠ দান করা হয় । উক্ত বইয়ের ৩৮ পৃষ্ঠায় মৌলভী আশরাফ থানভী বলে- অর্থাৎ-
“ এভাবে কিয়াম করাকে আমরা অবৈধ বলি না বরং কোথাও রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা কালে দাঁড়িয়ে যায়, আবার কখনো তার দুগ্ধ পানের ঘটনা বলার সময়, আবার কখনো মি’রাজুন্নবীর আলোকপাত কালে, এমনিভাবে কোন কোন খাস মাহফিলে ৩/৪ বারও কিয়াম করে থাকেন । তবে এরুপ মীলাদে কিয়াম করাকে কে নিষেধ করবে ?”
বিস্তারিত

ইন্তেকালের দিন খুশি প্রকাশ করা যাবে কি না !

ইন্তেকালের দিন খুশি প্রকাশ করা যাবে কি না !
যারা বলে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের দিন খুশী প্রকাশ করা যাবে না, তাদের বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাবঃ
এক শ্রেনীর লোক পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকার করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে একটা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে থাকে । তারা বলে থাকে, “” নবীজীর ইন্তিকালের দিবস হচ্ছে দুঃখের দিন, আর দুঃখের দিনে খুশি প্রকাশ করাটা অন্যায় !”” নাউযুবিল্লাহ !!আসুন আমরা উক্ত বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাবটা লক্ষ্য করি —
উক্ত বাতিল ফির্কাদের বক্তব্যটা সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং কুরআন শরীফ হাদীস শরীফের খেলাপ হওয়ায় সেটা কুফরী মূলক হয়েছে। কেননা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ ( ইন্তেকাল) , পুনরুত্থান প্রত্যকটি রহমত, বরকত, ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারন! সুবহানাল্লাহ্ !! যেমন, আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে ইরশাদ করেন ,
وسلم عليه يوم ولد و يوم يموت ويوم يبعث حيا
বিস্তারিত