হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন

 হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন এবং খুশি প্রকাশ করেছেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে যা পোষ্টে সংযুক্ত চিত্রে দৃশ্যমান-

অর্থ: হযরত খারীম ইবনে আউস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,  হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন *তাবুক জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন আমি উনার ছোহবত মুবারক-এ গেলাম। এ সময় হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার ছানা-ছিফত- প্রশংসা করতে চাই। তিনি বললেন, বলুন, মহান আল্লাহ পাক আপনার যবান মুবারককে হিফাযত করুন। অতঃপর তিনি বললেন:

১। (দুনিয়াতে আসার) আগে আপনি ছায়ায় দিনাতিপাত করতেন এবং এমন সুমহান স্থানে (জান্নাতে) অবস্থান করতেন, যেখানে পাতা মিলিত করা হয়। (হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে)

২। অতঃপর আপনি যমীনে (হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালামের মাধ্যমে) তাশরীফ নিলেন। তখন আপনার মানুষের আকৃতি ছিলো না, না ছিলেন নূরী গোশত পিন্ড, না নূরী জমাট রক্ত খণ্ড।

৩। আপনি সেই নূর মুবারক যা নৌকায় আরোহণ করেছিলেন এবং নসর (প্রতিমা) ও নসর পূজারীদেরকে ওই পানি গ্রাস করেছিলো। (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে)।

৪। আপনি এমনিভাবে জিসিম মুবারক থেকে রেহেম শরীফ-এ স্থানান্তরিত হতে থাকেন এবং যা শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছিলো।

৫। হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন আগুনে অবস্থান করেন, তখন আপনি উনার জিসিম মুবারক-এ ছিলেন। এমতাবস্থায় অগ্নির কি সাধ্য ছিলো যে, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে স্পর্শ বা পোড়াতে পারে।

৬। অবশেষে আপনার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। আপনার রূহ মুবারক খন্দকের উচ্চস্থানকে ঘিরে নিলো, যার নিচে অন্যান্য পাহাড়ের মধ্যবর্তী অংশ আছে।

وانت لـما ولدت اشرقت الارض + وضاءت بنورك الأفق

فنحن فى ذلك الضياء وفى + النور وسبل الرشاد تخترق

৭। এরপর আপনার যখন বিলাদত শরীফ প্রকাশ পেলো  তখন সারা পৃথিবী আপনার নূর মুবারক-এ আলোকিত হয়ে গেলো।*

৮। এখন আমরা সেই মহান নূর মুবারকের ছোহবতে আছি। আমাদের সম্মুখে হিদায়েতের পথ উন্মুক্ত। সুবহানাল্লাহ! 

(দলীল: মুসতাদরেকে হাকিম ৩/৩৬৯-৩৭০ ) : হাদীস ৫৪১৮, দালায়েলুন নবুয়াত ২/৯৮৩: হাদীছ ২০২০, মা’রিফাতুছ ছাহাব লি আবু নুয়াইম ২৫৩১, খাছায়িছুল কুবরা, সিয়ারু আলাম আননুবালা ৩/৮৬, সুবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৭০, সিরাতুন নববিয়্যাহ লি ইবনে কাছীর ১/১৯৫, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/৩১৭, তারিখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ১/৪৩, মুখতাসারু তারিখুত দিমাষ্ক ১/১২১)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ থেকে কয়েকটি বিষয় আলোচনা করবো, 

* তাবুক জিহাদ যা ৯ম হিজরীতে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ হুযুর পাক ছল্লাল্লা

হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক যখন ৬১ বছর তখন এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ ‍জিহাদে প্রায় ৩০ হাজার মুসলমান সৈন্য অংশগ্রহন করেন। 

এ থেকে যা প্রতিয়মান হয়, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের ৬১ বছর পর উনার সামনে এবং হাজার হাজার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের উপস্থিতিতে উনার সম্মানিত চাচা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার মীলাদ শরীফের আলোচনা করেছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যম দিয়ে পরবর্তী বংশ পরম্মরায় কিভাবে দুনিয়াতে তাশরিফ আনলেন সে আলোচনা করেছেন। এবং উনার সম্মানিত আগমনে শুকরিয়া আদায় করে খুশি প্রকাশ করেছেন। 

এটাইতো পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন যা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা করেছেন এবং সে সুন্নত অনুযায়ী আমরাও করছি। এ আমল কিভাবে বিদয়াত বলা যেতে পারে?

বিস্তারিত

সোমবার রাখতে ছাহাবী উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

হাদীছ শরীফে রয়েছে স্বয়ং আখেরী রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে সাহাবীদের আদেশ করেছেন।

বিখ্যাত ইমাম ইবনে আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “উসদুল গবা ফি মা’রিফাতিস সাহাবা” যা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত এর ১ম খন্ড ১২৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,

حَدَّثَنَ حَضْرَتْ مَكْحُوْلْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِبِلَالٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لَا يُغَادِرَنَّكَ صِيَامُ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ، فاِنّـِي وُلِدْتُّ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ، وَاُوْحِيَ اِلَيَّ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ، وَهَاجَرْتُ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ
অর্থ: হযরত মাকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্নিত, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, হে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! আপনি কখনো সোমবার রোজা রাখা পরিত্যাগ করবেন না। কারন আমি সোমবার বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি। এদিন ওহী মুবারক নাযিল হয়, এ দিন হিজরত করি।”

সূতরাং দেখা গেলো স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন উপলক্ষে সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমদের দিবসটি পালন করতে বলতেন। আর বিদয়াতিরা বলে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বিদয়াত।



বিস্তারিত

খায়রুল কুরুনে ঈদে মিলাদে হাবিবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলিল

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলী আল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন। সুবহানাল্লাহ।
আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত কিতাব “ইয়নাতুল ত্বলেবীনে” বর্ণনা করেন,
أنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مسرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التحقير لاجل أفعاله الخبيثة، غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الاول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرأ فيها مولد النبي ودام على هذا الحال زمانا طويلا، ثم لما مات سمع أهل البلد هاتفا يقول: احضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي، فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه، فرأوه في المنام وهو يرفل في حلل سندس واستبرق، فقيل له بم نلت هذه الفضيلة ؟ قال بتعظيم مولد النبي

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় (১৪৮-১৯৩ হিজরী) বসরাতে এক যুবক ছিলেন যার আমল ভালো ছিলো না। এবং দেশের মানুষও উনাকে ভালো জানতো না। তবে যখন পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস আসতো তখন তিনি কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করেন, ভালো খাবার ব্যবস্থা করতেন এবং মীলাদ শরীফ পাঠ করতেন। অতপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন দেশের জনগণ একটি গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলেন: হে বসরার লোকজন! আসো একজন আল্লাহ পাকের ওলীর দাফন করো। তিনি আমার কাছে প্রিয়। শহরের মানুষ উনার জানাযা পড়লেন ও দাফন করলেন। এবং তারা উনাকে স্বপ্নে দেখলেন এবং উনার মর্যাদা দেখলেন। সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো কিভাবে আপনি এ মর্যাদা অর্জন করলেন? তিনি বলেন পবিত্র মীলাদ শরীফকে সম্মান করার কারনে। (ইয়নাতুল ত্বলেবীন ৩ খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা)

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানা ছিলো খায়রুল কুরুনে। উপরোক্ত ঘটনায় বোঝা যায় সে সময় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের রীতি ছিলো। তাই এক ব্যক্তি তার আমল কিছুটা মন্দ হলেও মীলাদ শরীফ পাঠকে আল্লাহ পাক তার মর্যাদার কারন হিসাবে প্রকাশ করলেন। এবং ওলী আল্লাহ হিসাবে গ্রহন করলেন। সুবহানাল্লাহ।

সূতরাং উপরোক্ত ঘটনা ও সময়কাল থেকে জ্ঞানী মাত্রই যা বোঝার বুঝে যাওয়ার কথা। ধন্যবাদ।

বিস্তারিত

“নবীজী বিলাদত শরীফ উপলক্ষে রেখেছেন রোজা , আপনারা করেন ঈদ”!!!

 “নবীজী বিলাদত শরীফ উপলক্ষে রেখেছেন রোজা , আপনারা করেন ঈদ”!!!
ওহাবী বিদয়াতীদের একজন আপত্তি করেছে, “নবীজী বিলাদ!!
তাদের এ কথা শুনে মনে হয় রোজা রাখা মনে হয় খুব দুঃখের বিষয়, শোকের বিষয়। তাই সেদিন ঈদ করা যাবেনা। নাউযুবিল্লাহ! তাদের কাছে কেন জানি ঈদ ও রোজা সাংঘর্ষিক মনে হয়। মূলত রোজা রাখা কোন দুঃখের বিষয় নয় বরং রোজা রাখাও ঈদ বা খুশির অংশ। হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানি পবিত্র আরাফার দিন হচ্ছে ঈদের দিন। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ وَيَوْمَ النَّحْرِ وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ
অর্থ: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আরাফার দিন, নহর বা কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক (অর্থ্যাৎ ১১, ১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। (দলীল: নাসাঈ শরীফ কিতাবুল হজ্জ : হাদীস নম্বার ৩০০৪, আবু দাউদ – কিতাবুছ সিয়াম : হাদীস ২৪১৯, তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ৭৭৩)
আর আরাফা হচ্ছে ৯ যিলহজ্জ শরীফ। যেদিন রোজা রাখার অনেক ফযিলত হাদীছ শরীফে আছে। যিলহজ্জ মাসে প্রথম ১০ দিন রোজা রাখার ফযীলতও হাদীছ শরীফে আছে। সূতরাং রোজা ও ঈদ সাংঘর্ষিক কোন আমল নয়। আরাফার দিনে রোজা রাখার মাধ্যমে ঈদ পালন হচ্ছে।
সবাই জানে জুমুয়ার দিন হচ্ছে ঈদের দিন। উল্লেখ্য যে রমজান মাসের জুমার দিনসমূহে যে রোজা রাখা হয় বিদয়াতিদের বক্তব্য মোতাবেক সেদিন কি ঈদের দিন বাদ যাবে? নাকি সেদিন কি রোজা রাখা বন্ধ রাখতে হবে?
অনুরুপভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন যদি সোমবার হয় তাহলে কি সেদিন ঈদ বাদ দিয়ে রোজা রাখতে হবে?
হাদিস শরীফে ৫ দিন রোজার রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। উক্ত পাঁচদিনের কোনদিন যদি সোমবার পড়ে; সেদিন কি বিদয়াতিরা রোজা রাখবে? রোজা রাখলে শরীয়তে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? বিদয়াতিরা এসব প্রশ্নের কি জবাব দেবে?
নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ- এ বিষয়ে বলতে হয়, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের দিন ঈদ পালন আমরা নতুন করছি না। বরং মুসলিম জাহানের সবাই ঈদ পালন করে আসছেন। বিশ্ববিখ্যাত কিতাব ‘মাওয়াহিবু লাদুন্যিয়াহ’ কিতাবে ১ম খন্ড ৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
ولا زال أهل الإسلام يحتفلون بشهر مولده عليه السلام، ويعملون الولائم، ويتصدقون في لياليه بأنواع الصدقات، ويظهرون السرور، ويزيدون في المبرات، ويعتنون بقراءة مولده الكريم، ويظهر عليهم من بركاته كل فضل عميم. ومما جرب من خواصه أنه أمان في ذلك العام، وبشرى عاجلة بنيل البغية والمرام، فرحم الله امرءا اتخذ ليالي شهر مولده المبارك أعيادا، ليكون أشد علة على من في قلبه مرض وإعياء داء".
অর্থ: সব সময়ই মুসলমানগন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এ উপলক্ষ্যে দাওয়াতের ব্যবস্থা করে এবং রবিউল আউয়াল মাসের রাতগুলোতে সকলে সাধ্যানুযায়ী দান সদকাহ করে। খুশি প্রকাশের পাশা পাশি অধিকহারে নেক আমল ও মীলাদ শরীফ উদযাপন করে। এভাবে প্রত্যেক মুসলামান মীলাদ শরীফ উনার বরকত সমূহের ফয়েজ ও প্রেরনা লাভ করে। পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের পরীলক্ষিত উপকারীতার মধ্যে একটি এই যে , যে বছর পবিত্র মীলাদ শরীফ উদযাপন করা হয় সে বছর শান্তি কায়েম থাকে। তাছাড়া নেক মকছুদ এবং অন্তরের আকাঙ্খা দ্রুত পূর্ণ হওয়ার খোশ খবর প্রদান করে। সূতরাং আল্লাহ পাক সে ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাস উনার রাত গুলোকে ঈদ হিসাবে উদযাপন করে, তার কঠিন রোগকে বাড়িয়ে তুলেছে, যার অন্তরে রোগ দানা বেধেঁ রয়েছে।”
“হাদায়েকুল আনোয়ার” ৫৩ পৃষ্ঠায় আরো বর্নিত আছে
فحقيقٌ بيومٍ كانَ فيه وجودُ المصطفى صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَّخذَ عيدًا، وخَليقٌ بوقتٍ أَسفرتْ فيه غُرَّتُهُ أن يُعقَد طالِعًا سعيدًا،
অর্থ: এ দিনের প্রকৃত অবস্থান হলো , যেহেতু এদিন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ হয়েছে তাই এ দিন ঈদ উদযাপন করাই হচ্ছে প্রকৃত দাবী। এদিনের এক শুভক্ষনেই তো সেই আলোকিত মহা উজ্জল চেহারা মুবারক পৃথিবী দর্শন করেছে তবে কেন ঈদ হবে না?
সূতরাং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোজ রেখেছেন আর উম্মত হয়ে আপনারা ঈদ করছেন এমন অহেতুক কথা যারা বলে তারা মূলত মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
বিস্তারিত

সোমবার রোজা রাখা নিয়ে বিদয়াতীদের মিথ্যাচারের জবাব

এক বিদয়াতি খারেজী বলেছে, সোমবার রোজা রাখা শুধু হুজুর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ। কোন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের সোমবার রোজা রাখতে আদেশও করেননি আর কোন সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারও নাকি সোমবার রোজা রাখেননি।
আসুন আমরা সামগ্রিকভাবে বিষয়গুলো দলীল দ্বারা পর্যালোচনা করি। হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে,
عَنْ اَبِىْ قَتَادَةَ الاَنْصَارِىِّ رضى الله عنه قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَقْبَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ عليه السلام فَقَالَ يَا نَبِىَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَوْمُ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ؟ قَالَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ اَمُوْتُ فِيهِ. 
অর্থ: হযরত আবূ ক্বতাদাহ রদ্বিয়াল্লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছুহবত মুবারকে ছিলাম, এমন সময় সেখানে হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন এবং আরজ করলেন, হে মহান আল্লাাহ তায়ালার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সোমবার রাখা কেমন? জাওয়াবে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: আমি এ দিন মুবারকে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছি এবং এ দিন মুবারকে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করব। । সুবহানাল্লাাহ। (ছহীহ ইবনি খুযাইমাহ ৩/২৯৮ কিতাবুছ ছিয়াম : হাদীছ ২১১৭)
এ হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম সোমবার রোজা রাখার গুরুত্ব একারনেরই বেশি কারন এ বারে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছেন।
এরপর সে বলেছে, তিনি সোমবার রোজার নির্দেশ দেননি এবং সাহাবারা সোমাবরে রোজা রাখেন নি। তার এ বক্তব্য দ্বারা প্রমানিত হয় সে ডাহা মিথ্যাবাদী জালিয়াত । কেননা হাদিসে আছে স্পষ্ট উল্লেখ আছে হুযুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন,
أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الصِّيَامِ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَأْمُرُنِى أَنْ أَصُومَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلُهَا الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
অর্থ: হযরত উম্মে সালমা আলাইহিস সালাম বর্ননা করেন, হুযুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখতে যার প্রথম দিন সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার হয়। (আব দাউদ শরীফ ২৪৫৪, শুয়াবুল ঈমান ৩৫৭১, মুসনাদে আবী ইয়ালা ৬৯৮২, নাসাঈ শরীফ, মিশকাত শরীফ কিতাবুছ ছাওম ১৯৬২ নং হাদীছ)
এখানে দেখা গেলো, সোমবার রোজা রাখাতে আদেশ করার হাদীছ শরীফও রয়েছে।

এরপর সে বলেছে, সোমবার কোন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম নাকি সোমবার রোজাও রাখেননি। নাউডুবিল্লাহ। অথচ সহীহ হাদীছ শরীফে সোমবার রোজা রাখার বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের আমল দেখা যায়। হাদীছ শরীফের বিখ্যাত কিতাব “ইবনে আবী শায়বায়” একটা বাব আছে যার নাম-
- مَا ذُكِرَ فِي صَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ.
এখানে অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে, যেখানে অনেক হাদীছ শরীফ আছে যেখানে দেখা যায় হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন সোমবার রোজা রাখতেন।

حَدَّثَنَا عُثْمَانَ بْنُ مَطَر ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ ، عَنْ أَبِي عُقْبَةَ ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَصُومُ الاِثْنَيْن وَالْخَمِيسَ.
অর্থ: হযরত আবু উকবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি ইয়ামুল ইছনাইন (সোমবার) ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন। (ইবনে আবী শায়বা ৯৩২১)
حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرِِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ ؛ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.
অর্থ: হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত, হযরত উমর আব্দুল আযীয রহতুল্লাহি আলাইহি তিনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন। (ইবনে আবী শায়বা ৯৩২৪)

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ ، عَنْ قَيْسٍ ، عَنْ عَاصِمٍ ، عَنْ زِرٍّ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ؛ أَنَّهُ كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবসে মাসুদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন। (ইবনে আবী শায়বা ৯৩২৮)

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ ، عَنْ سَعِيدٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ خِلاَسٍ ؛ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ.
নিশ্চয়ই হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি সোমবার ও ইয়াওমুল খমীছ রোজা রাখতেন। (ইবনে আবী শায়বা ৯৩৩০)

এ বিষয়ে সহীহ ইবনে খুযায়মাতেও এমন অনেক দলীল আছে। অথচ সেই জাহিল বলেছে সোমবার রোজা রাখা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ। অন্য কেউ নাকি রাখেননি। যে এমন মনগড়া আপত্তি করে প্রমাণ করলো সে একটা মিথ্যা অপবাদ দানকারী।

উপরোক্ত আলোচনা দারা প্রমাণিত হয় যে, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের প্রতি মিথ্যারোপ আরোপ করেছে। 
من كذب علي فليتبوأ مقعده من النار
“যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে তার আবাসস্থল হবে জাহান্নাম।” (ইবনে আবী শায়বা - কিতাবুল আদব- হাদীছ ৩৬১৭)
বিস্তারিত

হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্মঅনুষ্ঠান বা মীলাদ শরীফ পালন করার হাদীছ বর্ণনা করেছেন

পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী অস্বীকারকারীরা বলে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি কি এই অনুষ্ঠান পালন করার কথা কোন হাদীছ শরীফে এনেছেন? আর জন্মদিন পালন করা খৃষ্টানদের কালচার। আপনারা কেন তা পালন করেন?
মজার কথা হলো আমীরুল মু’মিনিন ফিল হাদীছ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মীলাদ শরীফ পালন করা পক্ষে উনার কিতাবে দুইটি বাব রচনা করে দুইখানা হাদীছ শরীফ এনেছেন। উক্ত হাদীছ শরীফে স্পষ্ট ভাবেই আমরা দেখতে পাই জন্মগ্রহন উপলক্ষে দাওয়াত দেয়া, অনুষ্ঠান করা, খাদ্য খাওয়ানো সবই সুন্নতের অর্ন্তভূক্ত। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবের নাম হচ্ছে “আল-আদাবুল মুফরাদ”।

ইমাম হযরত বুখারী রহতুল্লাহি আলাইহি রচিত আদাবুল মুফাররাদ কিতাব


বিশ্ব বিখ্যাত এই কিতাবের ৬০২ নং বাব যার নাম হচ্ছে 
بَابُ الدَّعْوَةِ فِي الْوِلَادَةِ – (শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষ্যে দাওয়াত) এই অধ্যায়ের অধীনে একটা হাদীছ শরীফ এনেছেন। উক্ত হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায় একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার রোযা ভঙ্গ করে শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষ্যে দাওয়াতের খানা খেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,



আদাবুল মুফাররাদ কিতাবে ৬০২ নং বাবের শিরোনাম ও হাদীছ শরীফ


عَنْ حَضْرَتْ بِلَالِ بْنِ كَعْبٍ الْعَكِّيِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ زُرْنَا حَضْرَتْ يَـحْيَى بْنَ حَسَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـي قَرْيَتِهِ اَنَا وَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيمُ بْنُ اَدْهَمَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَ حَضْرَتْ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ قَرِيرٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَ حَضْرَتْ مُوسَى بْنُ يَسَارٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَجَاءَنَا بِطَعَامٍ، فَاَمْسَكَ حَضْرَتْ مُوسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ حَضْرَتْ يَـحْيَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَمَّنَا فِـي هٰذَا الْمَسْجِدِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ مِنْ اَصْحَابِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَنَّى حَضْرَتْ اَبَا قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَرْبَعِيْنَ سَنَةً، يَصُوْمُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، فَوُلِدَ لِاَبِـيْ غُلَامٌ، فَدَعَاهُ فِـي الْيَوْمِ الَّذِيْ يَصُوْمُ فِيْهِ فَاَفْطَرَ، فَقَامَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيمُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَكَنَسَهُ بِكِسَائِهِ، وَاَفْطَرَ حَضْرَتْ مُوْسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَضْرَتْ اَبُو عَبْدِ اللهِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَبُو قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اسْـمُهُ جَنْدَرَةُ بْنُ خَيْشَنَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ.

অর্থ : “হযরত বিলাল ইবনে কা’বিল ‘আক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি, হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল আযীয ইবনে কুদাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মূসা ইবনে ইয়াসার ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে হাসান বাকরী ফালাসতিনী রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে উনার গ্রামে গিয়ে সাক্ষাত করলেন। হযরত ইবনে হাসান বাকরী ফালাস্তিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের জন্য খাবার আনলেন। হযরত মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি রোযাদার হওয়ায় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিনানা গোত্রীয় একজন ছাহাবী, যাঁর উপনাম হযরত আবূ কিরসাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চল্লিশ বছর যাবত এই মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি এক দিন রোযা রাখেন এবং এক দিন বিরতি দেন। আমার একজন ভাই জন্মগ্রহণ করলে আমার পিতা উনাকে দাওয়াত দেন। সেটি ছিল উনার রোযা রাখার দিন। তিনি রোযা ভাঙ্গলেন। হযরত ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উঠে দাঁড়িয়ে উনাকে উনার চাদরখানা হাদিয়া দেন এবং হযরত মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহিও রোযা ভাঙ্গেন। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ছাহাবী হযরত আবূ কিরসাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক হযরত জানদারা ইবনে খায়শানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।” (আদাবুল মুফরাদ ৪৬০ পৃষ্ঠা: বাবুদ্ দা’ওয়াতি ফীল বিলাদাত : হাদীছ শরীফ নং ১২৫৩)
এই হাদীছ শরীফ থেকে আমরা দেখতে পেলাম একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু নফল রোজা ভঙ্গ করেও জন্মদিন অনুষ্ঠানের হাজির হয়েছেন খাবারও খেয়েছেন। বিরোধীতাকারীরা কি এখন উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বিদয়াতি বলবে? নাউযুবিল্লাহ।
হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত কিতাবের ৬০৪ নং বাব যার নাম হচ্ছে 
بَابُ الدُّعَاءِ فِي الْوِلَادَةِ - সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্য দোয়া করা) এখানে আরো একটি সহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। 

আদাবুল মুফাররাদ কিতাবে ৬০৪ নং বাবের শিরোনাম ও হাদীছ শরীফ

আর এই হাদীছ শরীফ হতে জানা যায় যে, এক দুইজন নয় বরং একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত দাওয়াতে এসে খাওয়া দাওয়া  করেছেন এবং শিশুর জন্য দোয়া করেছেন,

عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ لَمَّا وُلِدَ لِـي اِيَاسٌ دَعَوْتُ نَفَرًا مِنْ اَصْحَابِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَطْعَمْتُهُمْ فَدَعَوْا فَقُلْتُ‏‏ اِنَّكُمْ قَدْ دَعَوْتُـمْ فَبَارَكَ اللهُ لَكُمْ فِيْمَا دَعَوْتُـمْ وَاِنّـيْ اِنْ اَدْعُوْ بِدُعَاءٍ فَاَمّنُوْا قَالَ‏ فَدَعَوْتُ لَهُ بِدُعَاءٍ كَثِيْرٍ فِـيْ دِينِهِ وَعَقْلِهِ وَكَذَا قَالَ‏‏ فَاِنّـيْ لَاَتَعَرَّفُ فِيْهِ دُعَاءَ يَوْمِئِذٍ‏.‏
অর্থ : “হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনার আওলাদ ইয়াস জন্মগ্রহণ করলে তিনি হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একদল ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে দাওয়াত করে খাবার পরিবেশন করেন। উনারা দোয়া মুবারক করলেন। হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আপনারা দোয়া মুবারক করেছেন। মহান আল্লাহ পাক আপনাদের দোয়া মুবারকের উসীলায় আপনাদের বরকত দান করুন। হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন বললেন, তিনিও কতগুলো দোয়া করবেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যেন আমীন বলেন। হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি উনার আওলাদের দ্বীনদারি, জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের জন্য অনেক দোয়া করলেন। হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি সেদিনের দোয়ার প্রভাব লক্ষ্য করেছেন।” (আদাবুল মুফরাদ ৪৬১ পৃষ্ঠা  : বাবুদ্ দু‘য়ায়ি ফীল বিলাদাত : হাদীছ শরীফ নং ১২৫৫) 


উক্ত হাদীছ শরীফ থেকেও আমরা দেখতে পেলাম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন জামায়াত বদ্ধ ভাবে জন্ম অনুষ্ঠানে যেতেন এবং দোয়া পাঠ করতেন, পরিশেষে খাবার খেতেন। আর এটাই খাছ সুন্নতী ত্বরীকা। যারা আজ বিরোধীতা করতে করতে বিদয়াত শিরিক ফতোয়া দিচ্ছে, খৃষ্টানদের কালচার বলছে তারা কি জানে এটা কতবড় বেয়াদবি? তারা পক্ষান্তরে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের বিরোধীয় লিপ্ত হয়ে বেঈমান হয়ে পড়ছে। সেইসাথে সাধারন মানুষকেও বিভ্রান্ত করছে। সূতরাং আমরা যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠান করি, খুশি প্রকাশ করি, খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করি সেটা অবশ্যই সুন্নতের অর্ন্তভূক্ত। যা উপরোক্ত হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হয়। আল্লাহ পাক সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।
বিস্তারিত