পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র ‘মীলাদ’ শব্দ মুবারক উনার ব্যবহার

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র ‘মীলাদ’ শব্দ মুবারক উনার ব্যবহার


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত মীলাদ শব্দ মুবারক :

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَـمُوْتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ : আর (হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম) উনার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আর যেদিন তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর যেদিন উনাকে পুনরুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায়।সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

অনুরূপভাবে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিজের বক্তব্য মুবারক উল্লেখ করে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَالسَّلَامُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدْتُّ وَيَوْمَ اَمُوْتُ وَيَوْمَ اُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ : আমার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন আমি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করি, যেদিন আমি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবো এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

সুতরাং মূল অক্ষরে وُلِدْتُّ শব্দ মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে; যার অর্থ বিলাদত শরীফ গ্রহণ বা যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ। সাধারণ বাংলায় যাকে বলা জন্মগ্রহণ করা। এ শব্দ মুবারক প্রমাণ করে মীলাদের মূল অস্তিত্ব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَـمْ يَلِدْ وَّلَـمْ يُوْلَدْ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি কারো থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেননি বা জন্মগ্রহণ করেননি এবং কাউকে জন্ম দেননি।” (পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)

মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিলাদত শরীফ গ্রহণ করা বা কাউকে জন্ম দেয়া উনার শান মুবারক উনার খিলাফ। তথাপি এখানে يُوْلَدْيَلِدْ শব্দ মুবারক দ্বারা বিলাদত শরীফ বা জন্মগ্রহণ বুঝানো হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ
অর্থ : শপথ জনকের এবং যা জন্ম দেয়।” (পবিত্র সূরা বালাদ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও وَلَدَوَالِدٍ শব্দ মুবারক দ্বারা বিলাদত শরীফ বিষয়ে বুঝানো হয়েছে।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মীলাদ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ মুবারক এক নজরে ছক আকারে দেখানো হলো-
ক্রম    পবিত্র আয়াত শরীফ  শব্দ মুবারক
      وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَـمُوْتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا      وُلِدَ
      وَالسَّلَامُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدْتُّ وَيَوْمَ اَمُوْتُ وَيَوْمَ اُبْعَثُ حَيًّا     وُلِدتُّ
      لَـمْ يَلِدْ وَلَـمْ يُوْلَدْ   يَلِدْيُوْلَدْ
      وَوَالِدٍ وَمَا وَلَدَ     وَالِدٍوَلَدَ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত মীলাদ শব্দ মুবারক :

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنِ حَضْرَتْ الـمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدّهٖ قَالَ وُلِدْتُّ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ وَسَاَلَ حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامَ قُبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ اَخَا بَنِيْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ اَاَنْتَ اَكْبَرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَرُ مِنّي وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ.
অর্থ : হযরত মুত্তালিব ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে এবং উনার পিতা উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাতীর বছরেপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আমিও সেই হাতীর বছরেই পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কুবাস বিন আশিয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে প্রশ্ন করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় না আপনি বড়? তিনি উত্তরে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার থেকে বড়, আর আমি উনার পূর্বে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি।” (তিরমিযী শরীফ, হযরত আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৭৯ হিঃ), আস সুনান, প্রকাশনা- বৈরুত, দারু ইহ্য়ায়িত তুরাসিল আরাবী, হাদীছ শরীফ নং ৩৬১৯)

আবার অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بِـهٰذَا الْـحَدِيْثِ زَادَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمِ الْـخَمِيْسِ قَالَ ‏فِيْهِ وُلِدْتُّ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ الْقُرْاٰنُ.
অর্থ : হযরত আবূ ক্বাতাদা আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ¦মীস রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন (ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ) আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি, আর এদিনই আমার উপর ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭, আবূ দাঊদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৪২৮, সুনানে কুবরা লি বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮২১৭, ইবনে খুজাইমা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২১১৭, মুসনাদে আবি আওয়ানা : হাদীছ শরীফ নং ২৯২৬, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২২৬০৩)

আবার অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مَوْلُودٍ اِلَّا يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ‏.
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক শিশু তার স্বভাবের উপর জন্মলাভ করে।” (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ক্বদর : বাবু মানা কুল্লি মাওলুদিন ইউলাদু আলাল ফিতরাতি ওয়া হুকমি মাওতি আত্বফালিল কুফফারি ওয়া আত্বফালিল মুসলিমীন : হাদীছ শরীফ নং ২৬৫৮)

সুতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মাওলুদশব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্রের হযরত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা স্ব স্ব কিতাবে মীলাদ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যেমন-
১. বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত আবূ ঈসা মুহম্মদ ইবনু ঈসা তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (হিজরী ২৭৯) তিনি উনার বিখ্যাত কিতাব জামে তিরমিযী শরীফ উনার ২য় খ-ের ২০৩ পৃষ্ঠায় একটি শিরোনাম রচনা করে নাম দিয়েছেন-
بَابُ مَا جَاءَ فِىْ مِيْلَادِ النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থাৎ যা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সম্পর্কে এসেছে। এখানে তিনি মীলাদুন নবীশব্দটি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সংক্রান্ত বিষয় বুঝাতে ব্যবহার করেছেন।

২. ইমাম হযরত বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৪৫৮ হিজরী) তিনি উনার বিখ্যাত সীরাত সংক্রান্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব দালায়িলুন নুবুওওয়াতনামক কিতাবের ১ম খ-ের ৪৯ পৃষ্ঠায়
اَبْوَابُ مِيْلَادِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
শীর্ষক একটি অধ্যায় এনেছেন, যেখানে স্পষ্ট মীলাদে রসূলশব্দটি উল্লেখ করেছেন।
যেখানে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার বৃত্তান্ত (জীবন বৃত্তান্ত মুবারক) মুবারক আলোচনা করেছেন।

সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হযরত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের স্পষ্ট দলীল দ্বারাই মীলাদ ও মীলাদুন নবী শব্দ মুবারক উনার প্রমাণ পাওয়া গেলো। সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ মীলাদুন নবীশব্দ মুবারক উনার শরয়ী সুস্পষ্ট ভিত্তি বিদ্যমান।

যেহেতু মীলাদুন নবীশব্দ মুবারক উনার সুস্পষ্ট শরয়ী ভিত্তি বিদ্যমান। আর এই শব্দ মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টি বুঝানো হয়।

আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে বান্দা-বান্দিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি প্রকাশ করতে আদেশ মুবারক করেছেন। সুতরাং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক গ্রহণ উপলক্ষ্যে খুশি মুবারক প্রকাশ করাকেই বলা হয় ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থাৎ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার শরয়ী ভিত্তি অবশ্যই রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

বিস্তারিত

১৫’শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদ পালন করা হতো।

১৫’শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদ পালন করা হতো।

১৫শ ঈসায়ী সালেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হতো।
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় এই আমল এত ব্যাপকভাবে পালন হতো যে বাদশা মালেক মুজাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চাইতেও বেশি রাজকীয়ভাবে সেটাই মনে হয়।

বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসবইয়ের ২য় খন্ডে ১৯৭ পৃষ্ঠায় তাকালে আমরা দেখতে পাই,
১) বাংলার মুসলমানগন অত্যান্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে ও ধুমধামের সাথে ঈদে মীলাদ পালন করতো।
২) নবাব এ দিনকে বিশেষ উৎসবের দিনে হিসাবে পালনের ব্যবস্থা করেন।
৩) রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম ১২ দিন পালনের ব্যবস্থা করেন।
৪) এ উপলক্ষে তিনি সম্পূর্ণ মুর্শিদাবাদ শহর ও পর্শ্ববর্তী এলাকা আলোকমালায় সজ্জিত করতেন।
৫) ১ লক্ষ মানুষ শুধু আলোক সজ্জার কাজে নিয়োজিত থাকতেন।
৬) কামান গর্জনের মাধ্যমে সড়ক ও নদীপথ আলোকিত হয়ে উঠতো।
৭) মুসলমান শাষনকর্তাগন ও জনসাধারনগন এই উপমাহাদেশব্যাপী ঈদে মীলাদ পালন করতো।
৮) আওলাদে রসূল ও আলেমদের উপহার দেয়া হতো।
৯) রাজ প্রসাধে রবিউল আউয়াল শরীফ মাসের ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত উলামায়ে কিরাম উনাদের মজলিস হতো।
১০) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাদীছ শরীফ আলোচনা করতেন।

উপরোক্ত ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয়, সেসময় এই্ উপমহাদেশে এত সমৃদ্ধশালী ছিলো তার মূল কারন ছিলো এত মর্যাদার সাথে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসময় ১ টাকায় ৮মন চাল পাওয়া যেত। মানুষের কোন অভাব ছিলো না। মানুষজন সুখী ও সমৃদ্ধ ছিলো।

আর আজকে মানুষ এত আযাবে আছে তার কারন কি? কারন হচ্ছে ব্রিটিশরা যাওয়ার সময় ওহাবী মতবাদ রেখে গেছে ঈমান ধ্বংস করার জন্য। তারা এখন পবিত্র এই আমলকে বিদয়াত হারাম ফতোয়া দেয়। নাউযুবিল্লাহ।
মানুষ যদি আবার সেই সমৃদ্ধ অর্জন করতে চায় তাহলে আবারো ঈদে মীলাদ পালন করতে হবে

বিস্তারিত

ব্রিটিশ আমলেও কত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

দেখুন ঢাকায় ব্রিটিশ আমলেও কত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
১) পথঘাট সাজানো হতো
২) সারা শহরে ঘটা করে পালন হতো।
৩) মহল্লায় মহল্লায় মীলাদ মাহফিল ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করতো।
৪) নবাব পরিবারগুলোও মীলাদ মাহফিল করতো।
৫) বিশেষ প্রতিযোগিতা মাহফিল আয়োজন করা হতো।
৬) অসংখ্য মানুষ এ অনুষ্ঠান দেখতে আসতো।

(তথ্যসূত্র: এই ঢাকা সেই ঢাকা কত স্মৃতি কত কথা। লেখক- ড. মুহম্মদ আলমগীর)

আজ থেকে ১০০/১৫০ বছর আগেও এত জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো তাহলে বর্তমানে এত বিরোধিতা কেন?
বর্ণনায় বোঝা যায় রোজার ঈদের চাইতেও বেশি আনন্দ ও আয়োজন হতো ১২ রবিউল আউয়াল শরীফে সে সময়। আর আজ বিদয়াত হারাম ফতোয়াবাজী হয় !!!
মূলত যা প্রমাণ হয় সেটা হচ্ছেতখনও ওহাবী মতবাদের শিকড় এত দৃঢ় ভাবে স্থাপিত হয়নি। পুরো দুনিয়াতেই পালিত হয়েছে কেউ বিরোধিতা করে নি। ব্রিটিশরা যে মতবাদের বীজ বপন করে গেছে সেই ওহাবী মতবাদ আজ ডাল পালা মেলে বট বৃক্ষ রূপে বিস্তার লাভ করেছে। করছে বিরোধিতা....
আর বাঙালিও নিজেদের সাংস্কৃতি (মীলাদকিয়াম) ভুলে পহেলা বৈশাখথার্টি ফাস্ট নাইটভ্যালেন্টাইন ডেবিভিন্ন পুজায় গিয়ে মশগুল হয়েছে ।
আফসোস আমাদের জন্য......!

বিস্তারিত

পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সঠিক তারিখ

পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সঠিক তারিখ


ধর্মব্যবসায়ী, মুনাফিক, ভ- শ্রেণীর কিছু লোক মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য বলে থাকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। তাই মতভেদযুক্ত বিষয়ে আমল করা যাবে না। অর্থাৎ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
আসলে এই বাতিল ফিরক্বাগুলো মুনাফিক হওয়ার কারণে সত্য বিষয় গোপন করে। দেখুন, ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ, বার, মাস সবই বর্ণনা করা আছে। হাফিযে হাদীছ হযরত আবু বকর ইবনে আবী শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেটা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন-

عَنْ حَضْرَتْ عَفَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَلِيْمِ بْنِ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ مِينَا رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيّ وَحَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِـيْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعٍ الْاَوَّلِ.

অর্থ: হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হতে বর্ণিত, তিনি হযরত ছালিম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ ঘটে হস্তি বাহিনী বর্ষের সুমহান ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইছনাইনিল আযীম শরীফ।” (দলীল: মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা; বুলুগুল আমানী শরহিল ফতহুর রব্বানী, ২য় খ- ১৮৯ পৃষ্ঠা; বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খ- ১০৯ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা- দারূল ফিকর, বৈরূত লেবানন)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবীগণ অত্যন্ত ছেকাহ বা বিশ্বস্ত। রাবীগণের নাম ও উনাদের সম্পর্কে রিজাল বিশারদগণ কি বলেছেন আসুন দেখা যাক। উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদে রাবীগণ হচ্ছেন- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
সনদের উপরের দুজনতো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, উনাদের তো কোনো তুলনা নেই। অপর তিন জন রাবী সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ছালিম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি ও হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সম্পর্কে রিজালের কিতাবে বলা হয়েছে- উচ্চ পর্যায়ের নির্ভযোগ্য ইমাম, ছিকাহ, তীক্ষè স্মরণ শক্তিসম্পন্ন, বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।” (দলীল: খুলাছাতুত তাহযীব ২৬৮ পৃষ্ঠা, ত্বাকরীবুত তাহযীব, ২য় খ- ১২৬ পৃষ্ঠা)
শুধু তাই নয়, ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার অন্য সনদেও এ বিষয়ে হাদীছ শরীফ উল্লেখ আছে। হযরত ইমাম হাকিম নিশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে উনার কিতাবে উল্লেখ করেন,
হযরত আল্লামা ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (তাবেয়ী) তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
হযরত ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন- উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ। (দলীল: আল মুস্তাদরাকে হাকিম ২য় খ- ৬৫৯ পৃষ্ঠা- কিতাবুল মানাকিব অধ্যায়, হাদীছ শরীফ নম্বর ৪১৮২)
সুতরাং আমরা ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ জানতে পারলাম। এবার আসুন দেখা যাক, পরবর্তী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এ বিষয়ে কি বলেছেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আলিম হযরত আল্লামা ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন আমুল ফিল বা হস্তী বাহীনির বছর সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ রাতের শেষ ভাগে।” (দলীল: কিতাবুল ওয়াফা পৃষ্ঠা ৮৭। লেখক- আল্লামা ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি, প্রকাশনা- দারূল কুতুব ইসলামীয়া, বৈরূত লেবানন)
হাফিযে হাদীছ হযরত ইমাম কুস্তালানি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রসিদ্ধ মত অনুসারে নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ...১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীদের মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার স্থান যিয়ারত করার আমল বর্তমান অবধি জারি রয়েছে।” (দলীল: শরহুল মাওয়াহেব, ১ম খন্ড ২৪৮ পৃষ্ঠা)
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হযরত ইমাম ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর রাতের শেষ ভাগে তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (দলীল: সিরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)
ঐতিহাসিক হযরত ইবনে খালদুন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর সুমহান ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ রাতে অর্থাৎ ছুবহে ছদিকের সময় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন ছিলো বাদশাহ নাওয়াশেরের শাষণকাল।” (দলীল: সিরাতে নববীয়া, ৮১ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম জারির তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর বছর মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল রাতের শেষ ভাগে অর্থাৎ ছুবহে ছদিকের সময় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (দলীল: তারিখে ওমুম ওয়াল মুলক, ২য় খন্ড ১২৫ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “জমহুর উলামায়ে কিরাম উনাদের নিকট সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হিসেবে মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফই প্রসিদ্ধ। মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সুমহান দিবস হিসাবে সবাই পালন করে আসছেন।” (দলীল: বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খন্ড ১০৯ পৃষ্ঠা, শরহুল মাওয়াহেব ২য় খন্ড ২৪৮ পৃষ্ঠা)
উপমহাদেশের বিখ্যাত আলিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ হিসেবে সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখই মশহুর। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীদের আমল হলো- উক্ত তারিখে উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের স্থান যিয়ারত করতেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮১ পৃষ্ঠা)
তিনি আরো বলেন, “প্রসিদ্ধ সীরাতবিদদের মতে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হয়েছে হস্তীবর্ষের ৫০ দিন পর। এ মতই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ যে- তা ছিলো পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার সম্মানিত ১২ তারিখ। প্রসিদ্ধ আলিম ও ইতিহাসবিদগণ উনারা এ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপন করেছেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ, ৮১ পৃষ্ঠা)
উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে, “সমস্ত মুসলমানগণ এ বিষয়ের উপর ইজমা করেছেন বা একমত হয়েছেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” (দলীল: মা-সাবাতা বিস সুন্নাহ ৮২ পৃষ্ঠা)
শুধু তাই নয়, বর্তমানে যেসব গুমরাহ ওহাবী সালাফী বাতিল ফিরক্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ মহাসম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ উনাকে অস্বীকার করে, তাদের গুরু লা-মাযহাবী নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ভুপালি সে তার কিতাবে লিখেছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন পবিত্র মক্কা শরীফে খ্রিস্টান বাদশাহ আবরাহার হস্তী বাহিনীর বছর পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফে ছুবহে ছাদিকের সময়, এটার উপর হযরত উলামায়ে কিরাম উনারা একমত হয়েছেন এবং এটা হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন ও ঐকমত্য পোষণ করেছেন।” (দলীল: শামামাতুর আনবার ইয়ার ফি মাওলিদে খায়রিল বারিয়াহ, ৭ পৃষ্ঠা)
সুতরাং এত স্পষ্ট এবং বিশুদ্ধ দলীল থাকার পরও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার তারিখ সম্মানিত ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ নিয়ে বিরোধিতা করা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও গুমরাহীর নামান্তর।

বিস্তারিত

সনদ ছাড়াও হাদিস হয়

সনদ ছাড়াও হাদিস হয়

কোন একটি হাদীসের অর্থ যখন সকলের নিকট গ্রহণীয় হয়ে যায়, তখন সে হাদিসের সনদের বিশুদ্ধতার প্রয়োজন হয় না। যেমনভাবে ইয়াযিদ বিন খুসাইফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর হাদীস। এ হাদীসের অর্থ এতই গ্রহণযোগ্য যে এর সনদের অনুসরণের প্রয়োজন হয় না।
কয়েকটি দালিলিক উদাহরণ দিচ্ছিঃ
ইমাম খাতীব বাগদাদী কাযাসংক্রান্ত মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর হাদীস সম্পর্কে বলেন,‘আহলে ইলম এ হাদিসের অর্থ কবুল করেছেন এবং এর দ্বারা দলীল প্রদান করেছেন। যদিও এর সনদ বিশুদ্ধ নয়।
রেফারেন্সঃ
১/আল ফাকীহু ওয়াল মুতাফাক্কিহু
২/আত তালখীসুল হাবীর- ৪/৮৩
৩/আল মুগনী-৯/৫৩

ইমাম সুয়ূতী  রহমতুল্লাহি আলাইহি  বলেন, কোন হাদিসের সনদ বিশুদ্ধ না হলে যদি মানুষ এর অর্থকে কবুল দ্বারা তালাক্কী করে, তবে সে হাদীসকে সহীহ বলে হুকুম দেয়া হয়।
রেফারেন্সঃ তাদরীবুর রাওয়ী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়ায়ী- ৬০

ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি আল ইসতিযকারনামক কিতাবে বলেন, ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাহরএর হাদিসকে (সমুদ্রের পানি পবিত্র) সহীহ বলেছেন, অথচ হাদীস বিশারদগণ এর সনদকে বিশুদ্ধ বলেন নি।
রেফারেন্সঃ
আল ইসতিযকার
ইমাম ইবনু আব্দিল বার।
৫/১৫৭

ঠিক একই ভাবে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দীনার হচ্ছে ২৪ কীরাত- এ হাদীসটির অর্থের উপর সকলের ইজমা হওয়ার কারনে এর সনদের পর্যালোচনা করার কোন প্রয়োজন নেই। এটা গ্রহনযোগ্য।
রেফারেন্সঃ
আত তামহীদ
হাফিয ইবনু আব্দিল বার।
এ নিয়ে অনেক অনেক রেফারেন্স দেয়া যাবে।

বিস্তারিত

পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ; কখনোই ৯ই রবীউল আউওয়াল শরীফ নয়

পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ; কখনোই ৯ই রবীউল আউওয়াল শরীফ নয়


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফীল বা হস্তির বছর পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ১২ই শরীফ তারিখে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন। কিন্তু কিছু মুসলিম নামধারী ও কিছু নাস্তিক প্রমাণ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন ৫৭১ ঈসায়ী সনের ৯ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। নাঊযুবিল্লাহ! আর তাদের এই অপপ্রয়াসের মূল দলীল হচ্ছে ত্রয়োদশ হিজরী শতকের নাস্তিক মাহমুদ পাশার একটি চরম গাণিতিক ভুল বিশ্লেষণ। এই চরম ভুল বিশ্লেষণকে পুঁজি করেই ৯ই রবীউল আউওয়াল শরীফকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেয়ার তারিখ হিসেবে প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

ভুল বিশ্লেষণটি নি¤œরূপ-
উক্ত বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে যে, ১০ম হিজরী শরীফ উনার পবিত্র শাওওয়াল শরীফ উনার শেষ তারিখে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল আর একই দিনেই ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর তাই ১০ম হিজরী শরীফ উনার পবিত্র শাওওয়াল শরীফ উনার শেষ তারিখ ৬৩২ ঈসায়ী সালের ৭ নভেম্বরকে সূর্যগ্রহণের তারিখ ধরে সে হিসেব অনুযায়ী গণনা করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেয়ার তারিখ ৫৭১ ঈসায়ী সনের ১২ই এপ্রিল- পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৯ তারিখ প্রমাণিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! আর যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেয়ার বারটি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, এই বিষয়ে সবাই একমত। তাই আমুল ফীল বা হস্তির বছরের ১২ই এপ্রিল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়তে হলে অন্য কোন আরবী তারিখ (৮ কিংবা ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ) হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই, বরং ৯ রবীউল আউওয়াল শরীফই হয়।

ভুল বিশ্লেষণটি ব্যবচ্ছেদ ও প্রতারণা নির্ণয়ন :
ক) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের ভুল তারিখ গ্রহণ:
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি ১০ম হিজরী শরীফ উনার পবিত্র শাওওয়াল শরীফ উনার শেষ তারিখে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন- এই তথ্যটি একটি ডাহা মিথ্যা।
কেননা ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি ৮ম হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসে দুনিয়ার যমীনে আগমন করেন। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী তিনি ১৬ মাস যমীনে অবস্থান মুবারক করেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ  تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَاتَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ ابْنُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا فَاَمَرَ بِهٖ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ يُّدْفَنَ فِى الْبَقِيْعِ وَقَالَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا يُّرْضِعُهٗ فِى الْـجَنَّةِ
 অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী বয়স মুবারক যখন ১৬ মাস, তখন তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলইহিস সালাম উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ উনার মধ্যে স্থাপন করার জন্য নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন, যিনি উনাকে দুধ মুবারক পান করাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৩০/৫২০, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৩/২৫১, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/৫৬৪, তারীখুল মদীনা ১/৯৭, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহু মা‘আনিল আছার, মুছান্নাফে আবী শায়বাহ, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী নাঈম, মুছান্নাফে আব্দির রাজ্জাক্ব)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী হিসেবে করে দেখা যায়, ৮ম হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস থেকে পরবর্তী ১৬ মাস পর উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মাস হচ্ছেন ১০ম হিজরী সনের পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ। কোন ভাবেই ১০ম হিজরী সনের পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস হয় না।

এমনকি ১৭ বা ১৮ মাস বয়স মুবারক-এ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন ধরা হলেও কোন ভাবেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পবিত্র শাওওয়াল শরীফ-এ হয় না।
আর তাই ১০ম হিজরী সনের পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসের শেষ তারিখ ৬৩২ সালের ৭ নভেম্বরকে সূর্যগ্রহণের তারিখ ধরে সে হিসেব অনুযায়ী গণনা করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নেয়ার তারিখ পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৯ তারিখ প্রমাণ করার অপচেষ্টা একটি প্রতারণা বৈ কিছুই নয়।

আসল কথা হচ্ছে, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি ১০ম হিজরী সনের পবিত্র ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার), প্রায় ১৬ মাস (১৫ মাস ৮ দিন) বয়স মুবারক-এ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে-
ومات يوم الثلاثاء لعشر ليال خلون من شهر ربيع الأول سنة عشر.
অর্থ : “তিনি ১০ম হিজরী সনের পবিত্র ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/২৪, ওয়াকিদী, মুখতাছার, তারীখে দিমাশক্ব ৪/৪৬৫)

বিস্তারিত